logo
শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬

  ক্রীড়া ডেস্ক   ২৬ জুন ২০১৯, ০০:০০  

কিংবদন্তির মর্যাদা পাচ্ছেন সাকিব

কিংবদন্তির মর্যাদা পাচ্ছেন সাকিব
সোমবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ জেতার পর সংবাদ সম্মেলনে হাস্যোজ্জ্বল ব্যাট-বলে দারুণ ছন্দে থাকা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান -ওয়েবসাইট
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগার, সর্বোচ্চ উইকেট ও রানের মালিক এখন সাকিব আল হাসান। আবার চলতি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও তিনি। একসঙ্গে যার দখলে এতগুলো রেকর্ড তার নামের পাশে তো এখন থেকে 'লিজেন্ড' শব্দটা ব্যবহার করা যায়। আর তাই সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ব্যাপারটি হেসেই উড়িয়ে দেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। তবে স্পিন কোচ সুনীল যোশি প্রিয় শিষ্যকে দিয়েছেন কিংবদন্তির মর্যাদা। ব্যাটে-বলে এবং ফিল্ডিংয়ে দারুণ ধারাবাহিক হওয়ায় সাকিবকে কনসিসটেন্টের তকমা দিয়েছেন তিনি।

এর আগে তিন বিশ্বকাপে মিলিয়ে ৫৪০ রান ছিল সাকিবের ঝুলিতে। এই বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচ খেলেই করে ফেলছেন আরও ৪৭৬ রান। আগে তিন বিশ্বকাপে উইকেট ছিল ২৩টি। এবার এর মধ্যেই নিয়ে নিয়েছেন ১০ উইকেট। বিশ্বকাপে এক হাজার রান আর কমপক্ষে ৩০ উইকেট নেয়া একমাত্র ক্রিকেটারও এখন সাকিব। টানা কয়েক বছর থেকে শীর্ষ অলরাউন্ডার থাকলেও বিশ্বকাপের মতো আসরে এতদিন ছিলেন গড়পড়তা। এই বিশ্বকাপে সেসব ছাপিয়ে সাকিব যেন নিজেকে তুললেন অনন্য উচ্চতায়। ইতিহাসের কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের কাতারেই সাকিবকে ফেলা যায়।

বাংলাদেশ দলের স্পিন কোচ সুনীল যোশির কোনো সংশয় নেই যে সাকিব একজন কিংবদন্তি, 'কেন নয়? সে এই মুহূর্তে ওয়ানডে ও টি২০ র?্যাংকিংয়ের নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার। সে একজন কিংবদন্তি, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশ দলে তার মতো একজন খেলোয়াড় থাকা দারুণ গর্বের ব্যাপার। সে হচ্ছে মিস্টার কনসিসটেন্ট, সেটা ব্যাটে হোক, বলে হোক কিংবা ফিল্ডিংয়ে।'

চলতি বিশ্বকাপে ব্যাট-বল হাতে দুর্দান্তগতিতে ছুটছেন সাকিব। সোমবারও আফগানিস্তানের বিপক্ষে এ বাঁহাতি করেছেন হাফ সেঞ্চুরি। পরে স্পিন ভেলকিতে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের কুপোকাত করে পকেটে পুরেছেন ৫টি উইকেট। তাতে বাংলাদেশও পেয়েছে ৬২ রানের জয়। কিন্তু এজন্য শুধু নিজের অবদানকে বড় করে দেখছেন না সাকিব। তিনি বলছেন ভিন্ন কথা, 'যদি দেখেন মুশফিক ভাইয়ের ইনিংস, রিয়াদ ভাইয়ের (মাহমুদউলস্নাহ) অবদান। তামিম-মোসাদ্দেকের অবদান খুব দরকার ছিল। এ ধরনের উইকেটে এমন স্কোর গড়তে গেলে সবার অবদান খুব দরকার। হঁ্যা, হয়তো আমার একটু বেশি ভালো যাচ্ছে। কিন্তু দলের সবার অবদান না থাকলে ফল এমন হতো না। বোলিংয়েও একই বিষয়। কেউ না কেউ অবদান রাখছে। মুস্তাফিজ, সাইফউদ্দিন দুজনই ১০টা করে উইকেট পেয়ে গেছে। এটা তাদের জন্য বড় অর্জন। সবাই বলে, আমাদের বলে অত বেশি গতি নেই, স্কিল নেই, তারপরও ওদের জায়গা থেকে যতটুকু করার করছে। এটা খুব দরকার জিততে। কেউ হয়তো অনেক বেশি অবদান রাখবে। তবে ছোট ছোট অবদান জিততে ভীষণ সহায়তা করে।'

আফগানিস্তানের বিপক্ষে মন্থর উইকেটে ২৬২ রানের পুঁজি নিয়ে ৬২ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে ৫১ রান করার পর ২৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে সেরা সাকিবই। বিশ্বকাপে এই পর্যন্ত বাংলাদেশের তিন জয়ের তিনটিতেই ম্যাচসেরা তিনি। এতটাই ধারাবাহিকতায় টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। বোলিং নিয়ে এদিন মাত করে নিজেকে টুর্নামেন্ট সেরার জোরালো দাবিদার করে ফেলেছেন। বিশ্বকাপে হাজার রান আর ৩০ উইকেটের দুই মাইলফলক জেনেই মাঠে নেমেছিলেন। লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় সন্তুষ্টি আছে, তবে দলের দিক থেকে কাজটা যে ঢের বাকি তা মনে করিয়ে দিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, 'দুটোই জানতাম। কোনো একটা লক্ষ্য থাকলে সেটা পূরণের একটা তাড়না থাকে। সেটা অর্জন করতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগে।'

এই বিশ্বকাপও সাকিবের জন্য একটি উপলক্ষ। ক্রিকেটের অভিজাত মঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব পাকাপোক্ত করার সুযোগ। ক্রিকেটের কুলীনদের ভাবনা নাড়িয়ে দেয়ার সুযোগ। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে প্রথম উঠেছিলেন ওয়ানডে অলরাউন্ডারদেরর্ যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। এরপর থেকে তিন সংস্করণে শীর্ষে ওঠার ধারাবাহিকতায় তার ধারেকাছে ছিল না কেউ। একই সঙ্গে তিন সংস্করণে শীর্ষে থাকা ইতিহাসের একমাত্র অলরাউন্ডারও তিনি। তবু ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো জায়গায় তাকে ঠিক সেই উচ্চতায় দেখতেন না অনেকে। ধারাভাষ্যে, কলামে, মতামতে অনেকে বলতেন 'অন্যতম সেরা', কিংবা 'সেরাদের একজন' বা বড়জোর 'বাংলাদেশের সেরা'। এই বিশ্বকাপে যেন সেই সংশয় গুঁড়িয়ে এগিয়ে চলেছেন সাকিব। 'অন্যতম' বা 'সেরাদের একজন', এই ধরনের বন্ধনীর বলয় ছিঁড়ে নিজেকে তুলে নিচ্ছেন আপন উচ্চতায়।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ফিফটিতে এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হয়ে গেছেন আবার। নামের পাশে উইকেট এখন ১০টি। একই বিশ্বকাপে চার শতাধিক রান ও ১০ উইকেট কীর্তি নেই আর কারও।

এই বিশ্বকাপও সাকিবের জন্য একটি উপলক্ষ। ক্রিকেটের অভিজাত মঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব পাকাপোক্ত করার সুযোগ। ক্রিকেটের কুলীনদের ভাবনা নাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে প্রথম উঠেছিলেন ওয়ানডে অলরাউন্ডারদেরর্ যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। এর পর থেকে তিন সংস্করণে শীর্ষে ওঠার ধারাবাহিকতায় তার ধারেকাছে ছিল না কেউ। একই সঙ্গে তিন সংস্করণে শীর্ষে থাকা ইতিহাসের একমাত্র অলরাউন্ডারও তিনি। তবু ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো জায়গায় তাকে ঠিক সেই উচ্চতায় দেখতেন না অনেকে। ধারাভাষ্যে, কলামে, মতামতে অনেকে বলতেন 'অন্যতম সেরা', কিংবা 'সেরাদের একজন' বা বড়জোর 'বাংলাদেশের সেরা'। এই বিশ্বকাপে যেন সেই সংশয় গুঁড়িয়ে এগিয়ে চলেছেন সাকিব। 'অন্যতম' বা 'সেরাদের একজন', এই ধরনের বন্ধনীর বলয় ছিঁড়ে নিজেকে তুলে নিচ্ছেন আপন উচ্চতায়।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ফিফটিতে এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হয়ে গেছেন আবার। নামের পাশে উইকেট এখন ১০টি। একই বিশ্বকাপে চার শতাধিক রান ও ১০ উইকেট কীর্তি নেই আর কারও।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে