logo
সোমবার ২৪ জুন, ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬

  ফয়সাল খান   ২১ মে ২০১৯, ০০:০০  

আজ থেকে ৫ স্থানে রেলের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু

রেলভবন থেকে আইপি ক্যামেরায় নজরদারি

রেলভবন থেকে আইপি ক্যামেরায় নজরদারি
দেয়ালে লাগানো একটি আইপি ক্যামেরা -ফাইল ছবি
আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে বেশকিছু নতুন উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। যাত্রীদের চাপ সামলাতে চারটি স্টেশনসহ মোট পাঁচ জায়গা থেকে আজ আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে। এর পাশাপাশি কমলাপুর রেল স্টেশনের নজরদারি বাড়িয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। আইপি ক্যামেরায় সরাসরি রেলভবন থেকে গোটা স্টেশনের কার্যক্রম মনিটরিং করবেন রেলমন্ত্রী, সচিব ও মহাপরিচালক।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রম গতিশীল করতে কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশনে নতুন আইপি ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই মধ্যে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার, মেইন গেট, পস্নাটফর্ম গেটসহ বিভিন্ন জায়গায় ৩২টি ক্যামেরা লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে, যা রেলভবন থেকে সরাসরি মনিটরিং করা হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম যায়যায়দিনকে বলেন, কমলাপুর স্টেশনে আগের এনালগ সিসি ক্যামেরাগুলো সরিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু আইপি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। যার মাধ্যমে রেলভবন থেকে পুরো স্টেশনের কাজ মনিটরিং করা যাবে। বিমানবন্দর স্টেশনেও এসব ক্যামেরা লাগানো হবে। যা আগামী কোরবানির ঈদের আগেই সম্পন্ন হবে।

এদিকে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ থেকে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর চারটি স্টেশন ও ফুলবাড়িয়ায় পুরাতন রেলভবন থেকে একযোগে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। প্রতিদিন ঢাকা থেকে ২৭ হাজার আগাম টিকিট বিক্রি করা হবে। এর অর্ধেক দেয়া হবে 'রেলসেবা' নামক একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে। যাতে ঘরে বসে টিকিট কাটার সুযোগ পাবেন যাত্রীরা।

তার মধ্যে ভিআইপি ও রেল স্টাফদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে ৫ শতাংশ করে মোট ১০ শতাংশ টিকিট। এর ফলে এবার ঈদযাত্রায় রেলযাত্রীদের দুর্ভোগ কিছুটা কম হবে বলে প্রত্যাশা করছেন রেল সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকার কাউন্টারগুলোর মধ্যে কমলাপুর থেকে দেয়া হবে সমগ্র পশ্চিমাঞ্চলগামী সকল ট্রেনের টিকিট। বিমানবন্দর কাউন্টার থেকে দেয়া হবে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট। তেজগাঁও রেলস্টেশনে পাওয়া যাবে ময়মনসিংহ, জামালপুরগামী সব আন্তঃনগরের টিকিট। বনানী থেকে দেয়া হবে নেত্রকোনাগামী মোহনগঞ্জ ও হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট। ফুলবাড়িয়া পুরানো রেলভবন থেকে দেওয়া হবে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট। প্রত্যেক বিক্রয়কেন্দ্রে নারীদের জন্য একটি করে আলাদা কাউন্টার থাকবে।

এসব কাউন্টার থেকে যারা ৩১ মে বাড়ি ফিরবেন তাদের টিকিট দেয়া হবে। ২৩ মে পাওয়া যাবে ১ জুনের, ২৪ মে ২ জুনের, ২৫ মে ৩ জুনের এবং ২৬ মে ৪ জুনের টিকিট দেয়া হবে। ৫ জুন সম্ভাব্য তারিখ ধরে টিকিট বিক্রির এই সিডিউল ঠিক করা হয়েছে। ঈদের ফিরতি টিকিট পাওয়া যাবে ২৯ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত। ২৯ মে ৭ জুনের, ৩০ মে ৮ জুনের, ৩১ মে ৯ জুনের আর ১ জুন ১০ ও ১১ জুনের টিকিট পাওয়া যাবে।

একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট নিতে পারবেন। টিকিট কেনার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।

তাছাড়া ঈদ উপলক্ষে ৮ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে ২ থেকে ৪ জুন এবং ৬ থেকে ১২ জুন চলবে দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল এক জোড়া ট্রেন। আর চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে ২ থেকে ৪ জুন এবং ৬ থেকে ১২ জুন চলবে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল দুই জোড়া ট্রেন।

ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ঈদের সময় বন্ধ থাকবে। ওই ট্রেনটি দিয়ে চালানো হবে খুলনা ঈদ স্পেশাল একটি ট্রেন। ৩ জুন রাত ১২টা ৫ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকা ছাড়বে। ঢাকা-ঈশ্বরদী-ঢাকা রুটে ২ থেকে ৪ জুন চলবে ঈশ্বরদী ঈদ স্পেশাল ট্রেন। লালমনি ঈদ স্পেশাল নামে বিশেষ একটি ট্রেন ২ থেকে ৪ জুন চলবে লালমনিরহাট-ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে।

ঈদের দিন চালু থাকবে শোলাকিয়া স্পেশাল ১ ও শোলাকিয়া স্পেশাল ২ ট্রেন দুটি। শোলাকিয়া স্পেশাল ১ চলবে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব রুটে, আর শোলাকিয়া স্পেশাল ২ চলবে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে। তবে স্পেশাল ট্রেনের কোনো টিকিট মোবাইল অ্যাপসে পাওয়া যাবে না।

অপরদিকে, ২৯ মে থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস নামে নতুন একটি ট্রেন চালু হবে ঢাকা-পঞ্চগড়-ঢাকা রুটে। প্রধানমন্ত্রী ২৫ মে গণভবনে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করবেন। ১৮টি বগি নিয়ে বিরতিহীনভাবে ঢাকা থেকে সরাসরি পার্বতীপুর পর্যন্ত যাবে ট্রেনটি। এরপর দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও- এ দুই জায়গায় থেমে পঞ্চগড়ে গিয়ে শেষ হবে ট্রেনটির যাত্রা।

বনলতার মতো পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে খাবার বাধ্যতামূলক করা হয়নি। ভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়েছে শোভন ৫৫০ টাকা, এসি চেয়ার ১ হাজার ৩৫ টাকা, এসি কেবিন ১ হাজার ২৬০ টাকা এবং এসি স্স্নিপিং বার্থ ১ হাজার ৮৯২ টাকা। ৫৯৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এটি বাংলাদেশের সর্ব দীর্ঘ ট্রেন সার্ভিস হতে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ঈদযাত্রা সহজ করতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ ও নাশকতা রোধে তারা বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মোবাইল অ্যাপসে যে ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি করার কথা রয়েছে, তা যদি অ্যাপসের মাধ্যমে বিক্রি না হয়, তবে কাউন্টারের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে