logo
বুধবার ১৭ জুলাই, ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০  

খালেদার নতুন ঠিকানা কেরানীগঞ্জ কারাগার

উনি ভালো আছেন, রোজা রাখছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খালেদার নতুন ঠিকানা কেরানীগঞ্জ কারাগার
খালেদা জিয়া
কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নতুন ঠিকানা হচ্ছে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো এবং তিনি রোজা রাখছেন। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে তাকে ছেড়ে দিলে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রমজান মাসে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কেমন এবং তিনি রোজা রাখছেন কি না- সাংবাদিকরা এসব বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'উনি রোজা রাখছেন, আমি যতটুকু জানি বস্নাড প্রেসার, ডায়াবেটিসের ওষুধ নিচ্ছেন, ইনসুলিন নিচ্ছেন।'

তিনি আরও বলেন, 'আগে ইনসুলিন নিতেন না, সে জন্য ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে ছিল না। এখন উনি (খালেদা জিয়া) ইনসুলিন নিচ্ছেন, এখন ওনার শরীর মোটামুটি ভালো আছে, আমরা যেটুকু খবর পেয়েছি। আমরা খবর পেয়েছি উনি আগের চেয়ে অনেক সুস্থ।'

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, 'যে ধরনের রোগে তিনি ভুগছেন, সেগুলো অনেক দিনের পুরনো রোগ। যেমন- আর্থাইটিস ও ডায়াবেটিস। সেগুলো তার পুরনো রোগ, সেগুলো তো চলছেই। সেগুলো চলছে বলেই তিনি হাসপাতালে আছেন।'

কেরানীগঞ্জে বিশেষ আদালত স্থানান্তরিত হয়েছে, খালেদা জিয়া সুস্থ হলে তাকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেয়া হবে কি না -এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারকে আদালতে রূপান্তর করে সেখানে খালেদা জিয়াকে রেখেছিলাম। আমরা সেটাকে জাদুঘরে পরিণত করছি, প্রোগ্রাম নিয়ে নিয়েছি। অনেক অংশই ভেঙে ফেলা হবে। কাজেই ওনাকে আর ওখানে রাখা যাবে না। কেরানীগঞ্জে একটি আধুনিক কারাগার তৈরি করেছি। সেখানে মহিলাদের অংশটা করতে একটু সময় লেগেছিল। অন্যান্য কাজও বাকি ছিল। সেগুলো করতে একটু সময় লেগেছে। খালেদা জিয়াকে যদি হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ করা হয় তাহলে হয়তো তাকে ওখানে নেয়া হবে।'

ভালো আছেন বলছেন, তাহলে হাসপাতাল থেকে বেগম জিয়া কবে ছাড়া পাবেন -জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি মিন করেছি যে, তার অস্বাভাবিক কিছু হয়নি। কারাগার থেকে আরেকটু ভালো সেবা যাতে পান সে জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।'

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, 'কেরানীগঞ্জ কারাগারের নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। নির্মাণাধীন একটি কারাগারে খালেদা জিয়াকে স্থানান্তরের সরকারি চিন্তাভাবনা মনুষ্যত্বহীনের কাজ। সরকার তার জীবনবিনাশের ষড়যন্ত্র করছে।'

রিজভীর এই বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মৃদু হেসে বলেন, 'কারাগারে নিয়ে জীবন বিপন্ন করব এই ধরনের প্রসঙ্গই আসে না, প্রশ্নই আসে না। এটাকে (কেরানীগঞ্জ কারাগার) যথোপযুক্ত করার জন্যই আমরা কয়েক দিন দেরি করেছিলাম। আমরা এখন উপযুক্ত মনে করছি সে জন্য তাকে ট্রান্সফার করার জন্য প্রক্রিয়াগুলো সমাধা করে চলছি। জীবন বিপন্ন করার প্রশ্নই আসে না। জেল কোড অনুযায়ী, যত ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে আমরা তাকে দিয়েছি।'

খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জে কীভাবে রাখা হবে -জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান বলেন, 'জেল কোড অনুযায়ী যতখানি ব্যবস্থা থাকা দরকার, ঠিক সেই রকম ব্যবস্থাই হবে।'

তারেক জিয়াকে দেশে আনার জন্য সরকারের অবস্থান কী -এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'তারেক জিয়াকে দেশে আনার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তাকে আনার যে প্রচেষ্টা চলছে আমরা তাকে আনতে পারব। সবকিছু পালন করেই আমরা তাকে আনার চেষ্টা করছি।'

আইনমন্ত্রী যা বললেন

এর আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে সরিয়ে নেয়া হবে। অবশ্য খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তরের ব্যাপারে চিকিৎসকদের ছাড়পত্রের ওপর নির্ভর করা হবে।

এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, 'খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হচ্ছে। ডাক্তার যখন বলবেন যে তার চিকিৎসা সম্পন্ন হয়ে গেছে, তখন তাকে নিয়ে যাওয়া হবে।'

আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার সবগুলো মামলা বিশেষ আদালতে ছিল। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশেই। খালেদা জিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে থেকেই কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে বিশেষ আদালত স্থানান্তর করে তার বিচার কাজ চলছিল।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার যেহেতু কেরানীগঞ্জে চলে গেছে সেজন্য সেখানে বিচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কিন্তু হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে খালেদা জিয়ার কি কোন স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে?

আইনমন্ত্রী বলেন, 'আমরা তো এমন কোন কথা বলি নাই যে কালকেই নিয়ে যাব, কালকেই বিচার শুরু হবে। ডাক্তাররা যতক্ষণ পর্যন্ত ছাড়পত্র না দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তো আমরা বলি নাই যে তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হবে।'

ডাক্তারদের ছাড়পত্রের ওপর ভিত্তি করে খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে বলে তিনি উলেস্নখ করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, কেরানীগঞ্জ কারাগারের ভেতরে আদালত বসানো হয়েছে এবং সেখানেই খালেদা জিয়ার বিচার হবে।

পিছিয়েছে গ্যাটকো

মামলার শুনানি

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় গ্যাটকো দুর্নীতির মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি আবার পিছিয়ে ১৮ জুন নতুন তারিখ রেখেছে আদালত।

কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে নবনির্মিত দুই নম্বর ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে বসে মঙ্গলবার ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ সৈয়দ দিলজার হোসেন এই নতুন দিন ঠিক করে দেন।

খালেদার আইনজীবী জিয়াউদ্দিন জিয়া বলেন, গতকাল এ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ছিল। তবে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে আদালতে উপস্থিত করা হয়নি। এজন্য বিচারক মামলার শুনানি মুলতবি রেখে নতুন করে দিন ধার্য করেছেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে