logo
বুধবার ২৬ জুন, ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০  

নুসরাত জাহান হত্যা

নুরউদ্দিন-শামীমের গুনাহ কবুল

আওয়ামী লীগ নেতা মুকছুদ রিমান্ডে সেই শম্পা গ্রেপ্তার ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে মামলা

নুরউদ্দিন-শামীমের গুনাহ কবুল
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যায় দুই আসামি নুরউদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম

বান্ধবী নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে, এমনটা বলার পর ছাদে ছুটে গিয়েছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। সেখানে পাঁচজন মিলে তাকে ছাদে চিত করে শুইয়ে ফেলেন। তার পরনের ওড়নাটি দুই ভাগ করে বেঁধে ফেলেন হাত-পা। এরপর এক লিটার কেরোসিন নুসরাতের গলা থেকে পা পর্যন্ত ঢালা হয়। ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় পায়ে। আগুন যখন সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, তখন এই পাঁচজন সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসেন।

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম (২০) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার এই বর্ণনা দিয়েছেন। শাহাদাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ওই মাদ্রাসার এবারের আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন নুসরাত। ৬ এপ্রিল আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাকে ডেকে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। শরীরের ৮০ শতাংশ পোড়া নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে পাঁচ দিন লড়ার পর মারা যান নুসরাত।

নুসরাত খুনিদের লক্ষ্য হন গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনার পর থেকেই। ওই ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। এর পর থেকেই মামলা তুলে নেয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছিল পরিবারটিকে। তবে প্রতিবাদে অনড় ছিলেন নুসরাত। আগুন ধরিয়ে দেয়ার আগ মুহূর্তেও তাকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়া হয়। কিন্তু নুসরাত তা মানেননি। পরবর্তী সময়ে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায়ও তিনি প্রতিবাদ করে গেছেন।

নুসরাত হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার শাহাদাত হোসেন ও নুর উদ্দিন রোববার ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসাইনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে নিজেদের গুনাহ কবুল করেন। ১১ ঘণ্টা ধরে ৫৭ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে তারা ওই দিনের ঘটনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন।

এই দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে জড়িত তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার সঙ্গে দেখা করতে ৩ এপ্রিল যারা কারাগারে গিয়েছিলেন, অধ্যক্ষ তাদের সবার কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এরপর তিনি আলাদাভাবে মাদ্রাসাছাত্র ও ‘সিরাজ উদদৌলা সাহেবের মুক্তি পরিষদ’ নামে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক নুর উদ্দিন (২০), যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম (২০) এবং আরেক ছাত্রের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। তিনি তাদের মামলা তুলে নেয়ার জন্য নুসরাতকে চাপ দিতে বলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি শাহাদাতের সঙ্গে একা কথা বলেন। তখন তিনি চাপে কাজ না হলে প্রয়োজনে নুসরাতকে হত্যার নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শামীম জানিয়েছেন, কারাগার থেকে ফেরার পর ওই দিন রাত সাড়ে ৯টায় মাদ্রাসার পশ্চিম হোস্টেলে তিনি, নুর উদ্দিন, মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের প্রধান আবদুল কাদেরসহ পাঁচজন সভা করেন। সেখানে কে বোরকা আনবে, কে কেরোসিন আনবে, কে কোথায় থাকবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করা হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় অধ্যক্ষের জেঠাসের (স্ত্রীর বড় বোন) মেয়ে উম্মে সুলতানা পপিকে দিয়ে নুসরাতের বান্ধবী নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে এমনটা বলে তাকে ডেকে পাঠানো হবে।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী উম্মে সুলতানা পপিই নুসরাতকে ডেকে নিয়ে আসেন। কিন্তু নুসরাতের সামনে তারা তাকে কৌশল করে ‘শম্পা’ নামে ডাকেন। এ কারণেই নুসরাত তার জবানবন্দিতে শম্পার কথা বলে গেছেন। উম্মে সুলতানাই যে ‘শম্পা’, সেটি জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, আন্দোলন ও বোরকা কেনার জন্য সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকসুদ আলম তাদের ১০ হাজার টাকা এবং এক শিক্ষক ৫ হাজার টাকা দেন। এর মধ্যে ৫ হাজার টাকা তিনি নূর উদ্দিনকে দেন। আর তিনটি বোরকা কেনার জন্য তার চাচাতো বোনের পালিত মেয়ে ও ওই মাদ্রাসার ছাত্রীকে দেন দুই হাজার টাকা।

শাহাদাত হোসেন ঘটনার দিনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ঘটনার দিন সকাল আটটার দিকে তিনি সোনাগাজী বাজারে যান। তখন তার চাচাতো বোনের পালিত মেয়ে তাকে একটি পুরোনো ও দুইটি নতুন বোরকা দিয়ে যান। তিনি তাকে উম্মে সুলতানা পপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সঠিকভাবে কাজ করতে বলে বাজারে কেরোসিন কিনতে যান। এক লিটার কেরোসিন কিনে তিনি ‘ডাবল পলিথিনে’ করে নিয়ে আসেন। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি ও মাদ্রাসাছাত্র জোবায়ের আহম্মেদ (২০) ও জাবেদ হোসেন (১৯) সাইক্লোন শেল্টারের (মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবন) নিচতলার শ্রেণিকক্ষে বসেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন ধরিয়ে দেয়ার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনের প্রত্যেকেই বোরকা এবং নেকাব ছাড়াও হাত ও পায়ে মোজা লাগিয়ে নিয়েছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আগুন লাগানোর বর্ণনা দিতে গিয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, সকাল পৌনে নয়টার দিকে নুসরাতকে ডাকতে যান উম্মে সুলতানা। তখন তারা নিচের শ্রেণিকক্ষ থেকে তৃতীয় তলার একটি কক্ষে এসে অবস্থান নেন। কিছুক্ষণ পর উম্মে সুলতানা ও নুসরাত ছাদে ওঠেন। তাদের পিছে পিছে ওঠেন তার (শাহাদাতের) চাচাতো বোনের পালিত মেয়ে। এরপর তৃতীয় তলা থেকে তারা তিনজন ছাদে যান।

ছাদে ওঠার পর উম্মে সুলতানা পপি প্রথমে নুসরাতকে মামলা তুলে নিতে বলেন। নুসরাত তখন নিশাতকে ছাদে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এরপর শাহাদাতের চাচাতো বোনের পালিত মেয়েও নুসরাতকে একই কথা বলেন। নুসরাত তখন জবাবে বলেছিলেন, ‘মামলা উঠাব না। আমার গায়ে কেন হাত দিলো। ওস্তাদ তো ওস্তাদ। আমি এর শেষ দেখেই ছাড়ব।’

জিজ্ঞাসাবাদে শাহাদাত বলেন, নুসরাতের এই জবাব শুনে তিনি নিজে পেছন থেকে এক হাত দিয়ে তার মুখ চেপে ধরেন ও অন্য হাত দিয়ে হাত ধরেন। উম্মে সুলাতানা পপি তখন নুসরাতের পা ধরেন। আর শাহাদাতের চাচাতো বোনের পালিত মেয়ে নুসরাতের শরীর চেপে ধরেন। তিনজন মিলে নুসরাতকে তারা ছাদের মেঝেতে ফেলে দেন। এই সময়টাতে উম্মে সুলতানাকে তারা কৌশলে শম্পা বলে ডাক দেন।

শাহাদাত বলেন, নুসরাতকে মেঝেতে শুইয়ে ফেলার পর জোবায়ের নুসরাতের ওড়না দুই টুকরো করে তার হাত ও পা বেঁধে ফেলেন। জাবেদ তখন নুসরাতের সারা শরীরে কেরোসিন ঢেলে দেন। এরপর শাহাদাতের চোখের ইশারায় জোবায়ের তার পকেট থেকে দেশলাই বের করে কাঠি জ্বালিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর পাঁচজনই সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসেন। নামতে নামতেই তিনজন ছাত্র তাদের বোরকা খুলে শরীর কাপড়ের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলেন। ছাত্রী দুজন মাদ্রাসায়ই তাদের পরীক্ষার কক্ষে চলে যান। আর বাকি তিনজন নিজেদের মতো করে পালিয়ে যান।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিঁড়ি দিয়ে ওই পাঁচজন যখন নামছিলেন তখন নুসরাতের আগুন, আগুন, বাঁচাও, বাঁচাও বলে চিৎকার তারা শুনতে পান। পা থেকে আগুন ধরানোয় প্রথমে নুসরাতের পায়ের বাঁধন খোলে। এরপর আগুন যখন ওপরে উঠে তার হাতের বাঁধন খুলে তখনই তিনি উঠে দৌড়ে নিচে নেমে আসেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নুসরাতের মুখ শাহাদাত চেপে ধরায় সেখানে আর কেরোসিন ঢালা হয়নি। তাই পুরো শরীর পুড়লেও মুখে আগুন লাগেনি।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে (৫৫) ঘটনার আগেই নুসরাতের শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনারও এজাহারভুক্ত আসামি। অধ্যক্ষ বাদে মামলার এজাহারভুক্ত গ্রেপ্তার বাকিরা হলেন, ‘সিরাজ উদদৌলা সাহেবের মুক্তি পরিষদ’ নামে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক ও মাদ্রাসাছাত্র নুর উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম, সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, মাদ্রাসার ইংরেজির প্রভাষক আফছার উদ্দিন, মাদ্রাসাছাত্র জোবায়ের আহম্মেদ, জাবেদ হোসেন এবং উম্মে সুলতানা পপি।



 



আ’লীগ নেতা মুকছুদ রিমান্ডে

এদিকে ফেনীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আওয়ামী লীগ নেতা মুকছুদ আলমের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সরাফ উদ্দিন আহম্মেদ এ আদেশ দেন।

কোর্ট ইন্সপেক্টর গোলাম জিলানী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমকে সোমবার আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরিদর্শক (ওসি) মো. শাহ আলম। আদালত পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আলোচিত এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। এদের মধ্যে ১১ জন বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে রয়েছে। এদের মধ্যে গত ৯ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালত নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও শাহিদুল ইসলামের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরদিন ১০ এপ্রিল অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলার সাতদিন, আবছার উদ্দিন ও আরিফুল ইসলামের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন একই আদালতের বিচারক। ১১ এপ্রিল উম্মে সুলতানা পপি ও যোবায়ের হোসেনের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন একই আদালতের বিচারক সরাফ উদ্দিন আহম্মেদ। ১৩ এপ্রিল শনিবার মামলার আরেক আসামি জাবেদ হোসেনের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন।

সেই শম্পা গ্রেপ্তার

নুসরাত জাহান রাফি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আলোচিত সেই শম্পা ওরফে চম্পাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

কয়েকদিন আগেই তাকে আটক করা হলেও গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি সোমবার ফেনী পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নুসরাত জাহান রাফি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আলোচিত সেই শম্পা ওরফে চম্পাকে ফেনী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

সোনাগাজীর সাবেক

ওসির বিরুদ্ধে মামলা

আইনবহির্ভূতভাবে ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে জেরা করে তার ভিডিও প্রচারের অভিযোগে ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালত ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এই মামলার তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন সোমবার এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের পেশকার শামীম আল মামুন।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বাদী হয়ে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার আবেদন করেন। মামলার আরজিতে বলা হয়, আইনবহির্ভূতভাবে ভুক্তভোগী নুসরাতের বক্তব্য রেকর্ড করেন পুলিশ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম।

সাইবার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নজরুল ইসলাম শামীম বলেন, মামলায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি (ওসি) খাসকামরায় নুসরাত জাহান রাফির ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল করা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় মামলা নেয়ার আবেদন করা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬ ধারায় বলা হয়, আইনগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে অপর কোনো ব্যক্তির পরিচিতি তথ্য সংগ্রহ, বিক্রয়, দখল, সরবরাহ বা ব্যবহার করা একটি অপরাধ। এর শাস্তি পাঁচ বছর কারাদ-। আর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৯ ধারায় বলা হয়, মানহানিকর তথ্য প্রকাশের শাস্তি তিন বছর কারাদ-।

আর এই আইনের ৩১ ধারায় বলা হয়, ‘ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করা যা বিভিন্ন শ্রেণি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে বা অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অথবা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় বা ঘটিবার উপক্রম হয়, তা একটি অপরাধ।’

১০ এপ্রিল সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) সংযুক্ত করা হয়। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে