logo
রোববার ২১ জুলাই, ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোটর্   ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

আ’লীগের যৌথ সভা

বিএনপিকে সংসদে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শেখ হাসিনা বলেন, এবারের নিবার্চনে সব চেয়ে লক্ষণীয় বিষয় ছিল, মানুষের মধ্যে একটা স্বতঃস্ফূতর্তা এবং ভোট দেয়ার জন্য আগ্রহ

বিএনপিকে সংসদে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাযার্লয়ে দলের উপদেষ্টা পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় কাযির্নবার্হী সংসদের যৌথ সভায় বক্তৃতা করেন Ñফোকাস বাংলা

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির চরিত্র শোধরায়নি, তাই বাংলার জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তারপরও যে কয়টা আসনে তারা জিতেছে, গণতন্ত্রের স্বাথের্ তাদের সংসদে আসা প্রয়োজন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে শনিবার বিকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাযার্লয়ে দলের উপদেষ্টা পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় কাযির্নবার্হী সংসদের যৌথ সভার সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা এ মন্তব্য করেন। যৌথ সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তার বক্তব্যের শুরুতে দলের সভাপতিমÐলীর সদস্য প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করেন। যৌথ সভায় শোক প্রস্তাব পড়েন দলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। এর আগে ২০১৮ সালের ৬ জুলাই গণভবনে আওয়ামী লীগের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল পলাতক আসামিকে দিয়ে রাজনীতি করতে গেলে সেখানে কী রেজাল্ট হয়, সেটাই তারা (বিএনপি) পেয়েছে। তা-ও হতো না, যদি তারা নিবার্চনে যে প্রাথীর্ দিয়েছে, সেই প্রাথীর্ নিয়ে মনোনয়ন-বাণিজ্যটা না করত। তাহলে আরও ভালো ফল তারা করতে পারত। এ থেকে তো মানুষ জানতে পেরেছে, এদের চরিত্রটা কী?’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এসেছি, আমরা অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে এসেছি। জনগণের বিশ্বাস, আস্থাটা যে কারণে আমাদের ওপরে এসেছে। আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করি জনগণের কল্যাণে, জনগণের স্বাথের্।’ আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমরা এইটুকু বলতে পারি যে আমরা যখন সরকারে এসেছি, আমরা দেশের জন্য কাজ করেছি। জনগণের জন্য কাজ করেছি। আমরা কিন্তু কাউকে কোনো হয়রানি করতে যাইনি।’ তিনি বলেন, ‘জনগণ আজকে উপলব্ধি করতে পারে এবং আমরা উন্নয়নের যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি, সব সময় লক্ষ্য করি গ্রামের মানুষ, তৃণমূলের মানুষের ভাগ্য পরিবতর্ন করতে। তারা একটু সুন্দর জীবন পাবে, তারা একটু উন্নত জীবন পাবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের জীবনমান উন্নত হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা প্রতিটি কমর্সূচি নিয়েছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবারের নিবার্চনে সব থেকে লক্ষণীয় বিষয় ছিল, মানুষের মধ্যে একটা স্বতস্ফূতর্তা এবং ভোট দেয়ার জন্য আগ্রহ। বিশেষ করে এ দেশের তরুণ সমাজ, যারা প্রথম ভোটার এবং নারী সমাজের। এবারের নিবার্চনটা অত্যন্ত শান্তিপূণর্ভাবে হলেও কিছু কিছু জায়গায় বিএনপি-জামায়াত জোট মিলে কোথাও ব্যালট বাক্স ছিনতাই করতে গেছে, কোথাও তারা নিবার্চনকে বানচাল করার চেষ্টা করেছে এবং তাদের এই অপকমের্র কারণে বেশ কিছু প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে আমাদের দলীয় নেতাকমীর্রা অনেক আছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে ঘটনাগুলো লিপিবদ্ধ করা আছে। আপনারা মাঠঘাটে দেখেছেন, টেলিভিশনে দেখেছেন, কীভাবে তারা (বিএনপি-জামায়াত) প্রচেষ্টা চালিয়েছিল কোনোমতে নিবার্চনটা যেন বানচাল করা যায়। কিন্তু তা তারা পারেনি। এখন বিএনপি নিবার্চনে হেরেছে, এই দোষটা তারা কাকে দেবে? দোষ দিলে তাদের নিজেদের দিতে হয়। কারণ একটি রাজনৈতিক দলের যদি নেতৃত্ব না থাকে, মাথাই না থাকে, তাহলে সেই রাজনৈতিক দল কীভাবে নিবার্চনে জয়ের কথা চিন্তা করতে পারে?’ নিবার্চন ঠেকাতে বিএনপি-জামায়াতের অপতৎপরতার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৩ থেকে দশম জাতীয় সংসদ নিবার্চন ঠেকানোর নামে বিএনপি-জামায়াত জোট অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষ হত্যা করেছে। এটা দেশের মানুষ কখনো মেনে নিতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে আবার আমরা সরকার গঠন করি। আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা একটানা ১০ বছর হাতে সময় পেয়েছিলাম, যার ফলে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে একটা উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে পেরেছি, তার ফলে ২০১৮ সালের নিবার্চনেও জয়লাভ করেছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪ সালের নিবার্চনে যারা দ্বিধাদ্ব›েদ্ব ছিল? কী করবে? তারাও কিন্তু সবাই এগিয়ে এসেছিল আমাদের এই নিবার্চনে সমথর্ন দেয়ার জন্য। বিশেষ করে আওয়ামী লীগকে সমথর্ন দেয়ার জন্য। এখানে ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক-শ্রমিক, কামার-কুমার, জেলে-তঁাতি, মেহনতি মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় প্রত্যেকের মধ্যে একটি আকাক্সক্ষা ছিল যে, আওয়ামী লীগ আসলে তারা ভালো থাকবে, আওয়ামী লীগ আসলে দেশটা ভালো চলবে। আওয়ামী লীগ আসলে দেশের উন্নতি হবে। এই উপলব্ধিটা তাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে দানা বেঁধে যায়।’ তাই টানা তৃতীয় মেয়াদে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়ার জন্য দেশের সব স্তরের মানুষের সমথের্নর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ এবং ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘২১ বছর পর আওয়ামী লীগ যখন ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে, আমি অন্তত এইটুকু দাবি করতে পারি তখনই কিন্তু এ দেশের মানুষ প্রথম উপলব্ধি করে সরকার জনগণের সেবক হতে পারে, সরকার জনগণের জন্য কাজ করতে পারে। আর সরকার কাজ করলে জনগণের আথর্-সামাজিক উন্নতি হয়, এটা তখনই আমরা প্রমাণ করতে পারলাম।’ তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালের নিবার্চনে কিন্তু ২০১৮ সালের নিবার্চন থেকে অনেক বেশি ভোট পড়েছিল। আমরা সরকার গঠন করার পর থেকে আমাদের যেটা লক্ষ্য ছিল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে তুলব এবং দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে স্বাধীনতার সুফলটা পৌঁছাতে পারে, সেভাবে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছি বলেই মানুষের এই উপলব্ধিটা এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকার থাকলে তারা ভালো থাকে, তাদের জীবনমান উন্নত হয়। তাদের দারিদ্র্যের কশাঘাতে জজির্রত হতে হয় না। তারা শান্তিতে থাকতে পারে। তাদের অথৈর্নতিক উন্নতি হয়, এটা তারা উপলব্ধি করতে পারে।’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এইচটি ইমাম, সভাপতিমÐলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফরউল্লাহ, মতিয়া চৌধুরী প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে