logo
  • Sun, 18 Nov, 2018

  যাযাদি রিপোটর্   ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল ভিআইপি কেবিন নম্বর ৬১১

‘হাসপাতালের অফিসাররা বলেছে, রুম দুইটা পরিষ্কার কইরা দিতে। এইখানে আর উনি থাকবেন না।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১১ ও ৬১২ নম্বর কেবিন সাফ করতে করতে কথাগুলো বললেন পরিচ্ছন্নতাকমীর্ নাসিমা।

এর মধ্যে ৬১১ নম্বর কেবিনে গত এক মাস এক দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পাশের ৬১২ নম্বর কক্ষটি মূলত তার মালপত্র রাখার কাজে ব্যবহৃত হতো।

দুটি দুনীির্ত মামলায় ১৭ বছরের সাজা নিয়ে গত ফেব্রæয়ারি থেকে অন্তরীণ এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বৃহস্পতিবার ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে।

চিকিৎসার জন্য উচ্চ আদালতের নিদেের্শ গত ৬ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়, রাখা হয় কেবিন বøকের ষষ্ঠ তলার ৬১১ নম্বর ভিআইপি কেবিনে। হাই কোটের্র নিদেের্শ পুনগির্ঠত মেডিকেল বোডর্ তার চিকিৎসা করে।

হাসপাতাল কতৃর্পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কারা কতৃর্পক্ষ পাশের ৬১২ নম্বর কেবিনটিও খালেদা জিয়ার জন্য সংরক্ষণ করে।

৭৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের শারীরিক অবস্থা এখন ‘যথেষ্ট স্থিতিশীল’ বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের একটি গাড়িতে করে খালেদাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পর ছয় তলার ওই কেবিনটি দেখার সুযোগ হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দুইজন পরিচ্ছন্নতাকমীর্ কক্ষ দুটি পরিষ্কার করছেন।

খালেদা জিয়াকে যেখানে রাখা হয়েছিল, সেই ৬১১ নম্বর কেবিনের প্রবেশমুখে ছোট দুটি সোফা ও সাইড টেবিল নিয়ে বসার জায়গা সাজানো ছিল। এরপর মূল কক্ষের একদিকে দেখা যায় কাঠের খাট। কক্ষের সঙ্গেই বাথরুম এবং আলাদা ড্রেসিং রুম। ড্রেসিং রুমে একটি টেবিল ও চেয়ারও দেখা যায়।

পরিচ্ছন্নতাকমীর্ নাসিমা বলেন, ‘প্রত্যেক দিন দুইবার এই রুমে ঝাড়ু দিতে আসতাম। খুব কড়াকড়ি থাকত। সকালে যখন আসতাম ম্যাডাম পত্রিকা পড়তেন। এক মনে থাকতেন, কোনো কথা বলতেন না।’

নাসিমা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে খালেদা জিয়া যখন বেরিয়ে যান, তখন হাত নেড়ে তিনি ‘টা টা’ দিয়েছেন, তবে কথা বলেননি।

পাশের ৬১২ নম্বর কক্ষে খালেদা জিয়ার মালামাল রাখার পাশাপাশি কারা কতৃর্পক্ষের লোকজনও থাকতেন বলে জানান তিনি।

ষষ্ঠ তলার কেবিন বøকের প্রবেশদ্বারেই একটি আচর্ওয়ে বসানো দেখা যায়। ‘ভিআইপি’ বন্দি ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্য সব সময় এখানে সাধারণ পোশাকে দায়িত্বে থাকতেন। এই বøকে ঢুকতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে আসতে হতো।

একজন কারা কমর্কতার্ জানান, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সকালেই একটি গাড়িতে করে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আর খালেদা জিয়াকে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কারাগারে নেয়ার পর সেখানে জজ আদালতের বিশেষ এজলাসে নাইকো দুনীির্ত মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে হাজির করা হয়।

শুনানি শেষে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার হয় কারাগারের পুরনো ‘ডে কেয়ার সেন্টার’ ভবনের দোতলায় তার জন্য নিধাির্রত কারাকক্ষে, যেখানে তিনি হাসপাতালে যাওয়ার আগেও ছিলেন। পরিত্যক্ত ওই কারাগারে খালেদা জিয়াই একমাত্র বন্দি।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে