logo
রোববার ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫

  আহমেদ তোফায়েল   ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০  

ডিজিটাল প্লাটফমের্ বিজ্ঞাপন নিভর্রতা দিন দিন বাড়ছে

গত অথর্বছরে তিন টেলিফোন অপারেটর ব্যয় করেছে ১০৪ কোটি টাকা নীতিমালা না থাকায় বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার কোম্পানিগুলোর ব্যয় খতিয়ে দেখবে বিটিআরসি

ডিজিটাল প্লাটফমের্ বিজ্ঞাপন নিভর্রতা দিন দিন বাড়ছে। আর এ খাতে বিপুল অঙ্ক বিনিয়োগ করছে বিভিন্ন কোম্পানি। প্রচলিত বিজ্ঞাপন মাধ্যমের চেয়ে এখন ডিজিটাল মাধ্যমকে গুরুত্ব দিচ্ছে অনেকেই। তবে এ সংক্রান্ত কোনো নীতিমালা না থাকায় বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। আর সে কারণে নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফমর্ ব্যবহার করে কেবল গত অথর্বছরেই তিনটি টেলিফোন অপারেটর ১০৪ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। এই প্রথমবারের মতো বিটিআরসি মোবাইল অপারেটরদের ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের ব্যয়ের হিসাব সংগ্রহ করেছে।

তবে অপারেটরদের দেয়া এ তথ্যের যথাথর্তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বিটিআরসি। বিটিআরসি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক এ বিষয়ে যায়যায়দিনকে বলেন, ব্যায়ের এই পরিমাণ ঠিক নেই বলে তাদের মনে হয়। এটা আরও বেশি হওয়ার কথা। ব্যয়ের সত্যতা যাচাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী বড় বড় কোম্পানির বিজ্ঞাপনের সিংহভাগ বাজার দখল করছে এখন ডিজিটাল প্লাটফমর্। বাংলাদেশের বাজারের উবার, পাঠাও, বিভিন্ন ই-কমাসর্ ব্যবসা এবং ডিজিটাল সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলো দিন দিন প্রচলিত মিডিয়া থেকে সরে আসছে। খরচ কম এবং কাযর্করী হওয়ায় উদীয়মান প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্যের প্রচারণা চালাতে এখন ডিজিটাল প্লাটফমর্ ব্যবহার করছে। শুধু তাই নয়, দ্রæত বধর্নশীল ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন এসব প্লাটফমের্ তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার নিভর্রতা বাড়িয়েছে।

এদিকে গুগল, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ভাইবার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার, ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামনের দিনগুলোতে বিজ্ঞাপনের পরিমাণ আরও বাড়বে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। আর সে কারণে তারা ডিজিটাল প্লাটফমের্ বিজ্ঞাপন দেয়ার বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে।

বিটিআরসির তথ্যে দেখা যায়, (২০১৭-১৮) অথর্বছরে ডিজিটাল মাকেির্টংয়ে গ্রামীণফোন ব্যয় করেছে ৪৩ কোটি ৩১ লাখ, রবি ৩২ কোটি ১৪ লাখ এবং বাংলালিংক ২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির জ্যেষ্ঠ কমর্কতার্ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তারা ডিজিটাল প্লাটফমের্র মধ্যে বিজ্ঞাপন বাবদ ফেসবুকেই বেশি টাকা ব্যয় করেছেন। একই সময়ে তিনটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এডিএন টেলিকম, চিটাগং অনলাইন লিমিটেড (সিওএল) এবং সিস্টেমস সল্যুশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট টেনোলজিস (এসএসডি-টেক) খরচ করেছে এক কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিগুলো ডিজিটাল প্লাটফমের্ বিজ্ঞাপনের জন্য যে খরচ করছে তাতে সরকারের কোনো আয় হচ্ছে না। কারণ এসব প্লাটফমের্ বাংলাদেশের রাজস্বে কোনো অংশীদারিত্ব নেই। অথচ প্রচলিত গণমাধ্যম টিভি, রেডিও বা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলে সরকারকে নিদির্ষ্ট হারে কর দিতে হয়।

এদিকে বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমম্বয়ে গঠিত হাইকোটের্র একটি বেঞ্চ গত এপ্রিলে ইন্টারনেটভিত্তিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ব্যয়ের ওপর কেন করারোপ করা হবে না জানতে চেয়ে একটি রুল জারি করেন। হাইকোটের্র ওই রুলে অথর্ মন্ত্রণালয়, আইন, তথ্য এবং টেলিকম মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভনর্র, জাতীয় রাজস্ব বোডের্র চেয়ারম্যান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, গুগল, ফেসবুক এবং ইউটিউব কতৃর্পক্ষকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

পিটিশন দায়ের করা সুপ্রিম কোটের্র আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, এই মাধ্যমে দেশের বিরাট অঙ্কের টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। এ সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে এনবিআরকে। এনবিআর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে এবং তার প্রতিবেদন আদালতে পেশ করবে। আদালত সেটি পরীক্ষা করবে।

অন্যদিকে, চলতি অথর্বছরের বাজেট পাসের পর জাতীয় রাজস্ব বোডর্ (এনবিআর) সব ব্যাংকে অনলাইন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কাটার জন্য চিঠি দিয়েও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়।

বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, আগস্ট শেষে বাংলাদেশে সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছে তিন কোটি ১০ লাখ এবং গুগল ব্যবহারকারী রয়েছে চার কোটির বেশি। ডিজিটাল মাকের্টপ্লেসে কাজ করছে এমন অনেকেই বলেছেন, বাংলাদেশ একটি বড় বাজার। এখন ফেসবুক এবং গুগলের স্থানীয় কাযার্লয় খোলার সময় এসেছে।

ই-কমাসর্ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) পরিচালক রাজীব আহমেদ বলেন, ডিজিটাল মাকের্টপ্লেসে বিজ্ঞাপনের ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিদিন বিজ্ঞাপনের জন্য তাদের সদস্যরা গড়ে ৫ থেকে ১০ ডলার ব্যয় করছেন। যদিও তাদের অনেকেরই ক্রেডিট কাডর্ নেই। ফলে তারা অনুমোদনহীন বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন। বতর্মানে ই-ক্যাবের সদস্য সংখ্যা এক হাজার হলেও ই-কমাসর্ ব্যবসায়ী দুই হাজারের বেশি রয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক হিসাবরক্ষক প্রতিষ্ঠান ‘মুর স্টিফেনসে’র এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডিজিটাল মাকেির্টংয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে ৪৪ শতাংশ ব্যয় বেড়েছে। গত বছরই দেশ দুটিতে এ খাতে ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। ফলে ক্রমেই জনপ্রিয় হওয়া এ মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ব্যয় বেড়ে ১০ হাজার কোটি মাকির্ন ডলারে পেঁৗছে যেতে পারে। বিজ্ঞাপনের জন্য আগে নানা মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ হলেও এখন সেটা থেকে বেরিয়ে ডিজিটাল মাকেির্টং বা ‘মাটের্ক’-এ সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পেঁৗছাতে ব্র্যান্ডগুলোকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সাচর্ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা ভয়েস অ্যাক্টিভেটেড অ্যাসিস্ট্যান্স যেমন অ্যামাজনের অ্যালেক্সা ব্যবহার করতে উৎসাহিত করছে।

একই সঙ্গে ভোক্তা জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল ও ইউনিলিভারের মতো বিখ্যাত সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনলাইনে বিজ্ঞাপন জালিয়াতি প্রকাশ হওয়ার পর এ পদ্ধতি গ্রহণে মানুষ আরো উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফোবের্সর মতে, মাকেির্টং শিল্প ধীরে ধীরে রূপান্তরিত যুগের দিকে ধাবিত হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির আকার আরো বদলে দিয়েছে এবং প্রতিনিয়ত এ রূপান্তর চলছেই। ভবিষ্যতে হয়তো এ ডিজিটাল মাকেির্টংয়ের অংশ হিসেবে কনটেন্ট মাকেির্টং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিজ্ঞাপন প্রচারে কাযর্করী ভূমিকা রাখবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে