logo
মঙ্গলবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

  মো. রজব আলী (ফুলবাড়ী) দিনাজপুর   ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০  

একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চন

দলে বিরোধিতার মুখে ফিজার

দিনাজপুর-৫ (পাবর্তীপুর ও ফুলবাড়ী)

দলে বিরোধিতার মুখে ফিজার
দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী ও পাবর্তীপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর-৫ আসন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চন সামনে রেখে মাঠে নেমেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভাব্য প্রাথীর্। এ দলের নবীন-প্রবীণের মনোনয়ন যুদ্ধ এখন প্রকাশ্যে।

বতর্মান সংসদ সদস্য ও সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার একক প্রাথীর্ থাকলেও, এবার তার প্রতিদ্ব›দ্বী একাধিক প্রাথীর্। মনোনয়ন পাওয়ার আশায় ইতোমধ্যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন একাধিক নবীন মনোনয়নপ্রত্যাশী, তারা ইতোমধ্যে নিজ নিজ অবস্থানও তৈরি করেছেন।

অপরদিকে রাজপথের প্রধান বিরোধীদল বিএনপির প্রাথীর্ হিসেবে কেউ প্রচারণা চালাতে না পারলেও নেতাকমীর্রা বলছেন এই আসনে বিএনপির একক প্রাথীর্ দিনাজপুর জেলা বিএনপির আহŸায়ক এজেডএম রেজওয়ানুল হক। তবে তার বিকল্প প্রাথীর্ হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি। এছাড়া আগামী জাতীয় নিবার্চনে হাজি মনসুর আলী সরকার নিজেকে বিএনপির প্রাথীর্ হিসেবে ঘোষণা দিলেও, দীঘর্ সময় রাজনীতির মাঠে না থাকায় তার সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকমীের্ক দেখা যাচ্ছে না।

বতর্মান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি ষষ্ঠবারের মতো এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রাথীর্ হিসেবে নিবাির্চত হয়েছেন। তিনি দলের একক প্রাথীর্ ছিলেন, কিন্তু এবার তার প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা জাকারিয়া জাকির বিগত উপজেলা নিবার্চনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর মনোনীত প্রাথীর্র বিরুদ্ধে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিবার্চন করে তিনি ৩২ হাজার ভোট পেয়েছিলন। এরপর থেকে তিনি আগামী জাতীয় নিবার্চনের সম্ভাব্য প্রাথীর্ হিসেবে নেতাকমীের্দর সঙ্গে নিয়ে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে পরিবতের্নর ¯েøাগান নিয়ে মাঠে সরব রয়েছেন আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সফেদ আশফাক তুহিন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের একাধিক ব্যক্তি নিজেকে সম্ভাব্য প্রাথীর্ হিসেবে পোস্টার বানিয়ে প্রচার করলেও তাদের মাঠে গণসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে না।

আওয়ামী লীগের এসব মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সামাজিক কমর্কাÐ করাসহ, করছেন গণসংযোগ, কমির্সভা, জনসভা ও সেমিনার করছেন। সেইসঙ্গে বতর্মান সংসদ সদস্য ও সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার দীঘর্ ছয়বার সংসদ সদস্য নিবাির্চত হয়ে নেতাকমীের্দর কতটুকু মূল্যায়ন করেছেন ও তার দীঘর্ সময়ের বিভিন্ন কাজের সফলতা ও ব্যথর্তার হিসাবনিকাশ দলীয় নেতাকমীের্দর সামনে তুলে ধরছেন। একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে নামায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকমীর্রা। এতে করে দলের তৃণমূলের সুবিধাবঞ্চিত নেতাকমীর্রা বতর্মান সাংসদের বিকল্প প্রাথীর্র দিকেই ছুটছেন, তৃণমূল নেতাকমীর্রা নাম প্রকাশ না করার শতের্ বলেন, দলের দুদিের্ন কষ্ট করলেও গত ১০ বছরে তারা দল থেকে কিছুই পায়নি, তাই তারা পরিবতের্নর দিকে ছুটছেন। এতে করে দলের নেতাকমীের্দর মধ্যে দূরত্ব আরও বেড়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাকমীর্রা বলছেন, বতর্মান সাংসদ মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ত্যাগী নেতাকমীের্দর দূরে রেখে নবীন ও নব্য নেতাদের সামনে এনেছেন। দলের ত্যাগী নেতাকমীের্দর মূল্যায়ন না হওয়ায় তাদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। একইভাবে গত ২০০৮ সাল থেকে দল টানা ক্ষমতায় থাকার পরেও নেতাকমীের্দর প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রাপ্তি মেলেনি। ফলে নেতাকমীের্দর মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় আগামী একাদশ জাতীয় নিবার্চনে কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে বতর্মান সাংসদকে।

ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর ছোট ভাই মুশফিকুর রহমান বাবুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই অঞ্চলের মাটি মানুষের নেতা সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপির। তিনি এই আসন থেকে লাগাতার ছয়বার নিবাির্চত হয়েছেন, এখনো তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ এই অঞ্চলের মানুষ ও নেতাকমীর্রা। তাই এই আসনে মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী গত ১০ বছরে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজের উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।

এদিকে একেবারে নিষ্ক্রীয় ভ‚মিকায় আছে রাজপথের প্রধান বিরোধীদল বিএনপি। বিএনপির নেতাকমীর্রা মাঝেমধ্যে দলীয় সভা করলেও, তারা বতর্মান সংসদ সদস্যের সফলতা ও ব্যথর্তার বিষয়ে একেবারে নিশ্চুুপ। বিএনপির নেতাকমীর্রা মনে করেন, জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপি জয়লাভ করলেই তারা জয় পাবে। ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় নিবার্চন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হলে বিএনপি সহজে জয়লাভ করবে।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, নিবার্চন ঘনিয়ে এলেও তাদের রাস্তায় নামতেই দিচ্ছে না পুলিশ। এজন্য তারা দলীয় প্রাথীর্র প্রচারণাও করতে পারছে না। অথচ আগাম প্রচারণায় নেমেছে সরকার দলীয় নেতাকমীর্রা। তারা বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় নিবার্চন কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে এটিই বড় বিষয়। দলের কেন্দ্রীয় কমিটি নিবার্চনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিলে তারা কোমর বেঁধে মাঠে নামবেন।

অপরদিকে জাতীয় পাটির্র (জাপা) মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন দলের জেলা নেতা অ্যাডভোকেট নুরল ইসলাম। তিনি বলেন, বিএনপি নিবার্চনে না এলে, জাপা ৩০০ আসনে নিবার্চন করবে। সেক্ষেত্রে তিনি প্রাথীর্ হতে পারেন। তবে জাতীয় পাটির্র কাযর্ক্রম এই আসনে নেই বললেই চলে।

দিনাজপুর জেলার এই আসনটির নিবার্চন পযাের্লাচনা করলে দেখা যায়, এই আসনটি অধিকাংশ সময় আওয়ামী লীগের প্রাথীর্রা জয়লাভ করলেও ভোটার হিসেবে আওয়ামী লীগের বিপক্ষের ভোটেই বেশি। ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালের নিবার্চনে নিবাির্চত হন আওয়ামী লীগের প্রাথীর্ অ্যাডভোকেট সরদার মোশারফ হোসেন। ১৯৭৯ সালের নিবার্চনে বিএনপির প্রাথীর্ হাজি মনসুর আলী সরকার, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রাথীর্ বতর্মান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পাটির্র সোয়েব হোসেন, ১৯৯১, ১৯৯৬ (১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারি নিবার্চনে এজেডএম রেজওয়ানুর হক) ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একক নিবার্চনে আওয়ামী লীগের প্রাথীর্ হিসেবে বতর্মান সংসদ সদস্য ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার নিবাির্চত হন। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবারের নিবার্চনে আওয়ামী লীগের বিরোধী ভোটেই বেশি ছিল, আওয়ামী লীগের বিরোধী ভোট বিভক্ত হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগের প্রাথীর্ নিবাির্চত হয়েছেন।

ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি গত জাতীয় নিবার্চনের ভোটের হিসেব দিয়ে বলেন, ১৯৯১ সালের নিবার্চনে আওয়ামী লীগের প্রাথীর্ অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি ৫৫ হাজার ভোট পেয়ে নিবাির্চত হয়েছিলেন তার নিকটতম জাতীয় পাটির্র আব্দুল ওহাব পেয়েছিলেন ৪৯ হাজার, বিএনপির সামসুদ্দিন আহম্মেদ পেয়েছিলেন ২২ হাজার। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রাথীর্ অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ৭১ হাজার ভোট পেয়ে নিবাির্চত হন। তার নিকটতম জাতীয় পাটির্র আব্দুল ওহাব ৬৫ হাজার ও বিএনপির এজেডএম রেজওয়ানুল হক পান ৩৯ হাজার। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ প্রাথীর্ অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার একলাখ এক হাজার ভোট পেয়ে নিবাির্চত হন। তার নিকটতম বিএনপির এজেডএম রেজওয়ানুর হক পেয়েছিলেন ৯৬ হাজার ও জাতীয় পাটির্র হাজি মনসুর পেয়েছিলেন ৩৯ হাজার ভোট। তার দাবি ১৯৮৯ সালে হাজি মনসুর আলী সরকার বিএনপিকে ভেঙে দেয়ার কারণে বিএনপির ভোট বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় বার বার আওয়ামী লীগের প্রাথীর্র বিজয় হয়েছে। বতর্মানে এই অঞ্চলে জাতীয় পাটির্র কোনো কাযর্ক্রম নেই। তাই আগামী নিবার্চনে এই ভোট সম্পূণর্ভাবে বিএনপির প্রাথীর্ পাবেন। ফলে বিএনপির বিজয় সহজ হয়ে যাবে।

উপজেলা নিবার্চন কাযার্লয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী ও পাবর্তীপুর দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার মোট ভোটার তিন লাখ ৮৭ হাজার ৫৮২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ৯৩ হাজার ২৪৮ জন ও পুরুষ ভোটার এক লাখ ৯৪ হাজার ৩৩৪ জন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে