logo
  • শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

  যাযাদি রিপোটর্   ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে কিনা আদেশ ২০ সেপ্টেম্বর

খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে কিনা আদেশ ২০ সেপ্টেম্বর
খালেদা জিয়া
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুনীির্ত মামলায় খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কারাগারে বসানো আদালতে বিচার চলবে কি না, সেই বিষয়ে ২০ সেপ্টেম্বর আদেশ দেবেন আদালত।

ওই মামলায় বৃহস্পতিবার কারাগারে বসানো আদালতে দ্বিতীয় দিনেও খালেদা জিয়া আসতে অপারগতা জানানোর পর এই আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামান।

নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারেই বন্দি আছেন খালেদা জিয়া। বুধবার চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় হাজিরা দিতে আসেননি খালেদা। আসেননি বৃহস্পতিবারও।

গতকাল বিচারক জানান, খালেদা জিয়া কারা কতৃর্পক্ষকে জানিয়েছেন, তিনি আদালতে আসবেন না। বিচারক আখতারুজ্জামান কারা কতৃর্পক্ষের দেয়া কাগজ আদালতে পড়ে শোনান।

এর আগে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতের কাছে আবেদন করেছেন, খালেদা জিয়া আদালতে আসতে চাননি। আদালতকে তিনি সহযোগিতা করছেন না। অপর দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতকর্ উপস্থাপনের দিন ধাযর্ আছে। অথচ তাদের পক্ষে যুক্তিতকর্ করা হচ্ছে না। তাদের পক্ষে যদি যুক্তিতকর্ শুনানি না করা হয়, তাহলে ফৌজদারি কারাবিধি মোতাবেক মামলার রায়ের জন্য দিন ঠিক করা হোক। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চালানোর আবেদন করেন মোশাররফ হোসেন কাজল। আদালত এ ব্যাপারে ২০ সেপ্টেম্বর আদেশ দেয়ার জন্য দিন ঠিক করেছে।

অপর দিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চান। তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতের কাছে দাবি করেন, অসুস্থতার জন্য হয়তো আদালতে আসতে চাননি।

খালেদা জিয়া আদালতকে অবশ্যই সহযোগিতা করতে চান। তবে বাস্তবে তার (খালেদা) কী মত এ জন্য তার সঙ্গে দেখা করবেন। তিনি কী বললেন তা-ও আদালতকে জানাবেন। এই দুই আইনজীবী আদালতে বলেন, খালেদা জিয়া এখন আদালতের হেফাজতে আছেন। তিনি যে গুরুতর অসুস্থ তা আদালত জানেন। সরকারও তার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোডর্ গঠন করেছে। তিনি সুস্থ হলে নিশ্চয়ই আদালতে আসবেন।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার ব্যাপারে জেল কোড অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেছে আদালত। আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারের একটি কক্ষকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করে। ৫ সেপ্টেম্বর সেখানে আদালত বসে। কারাগারে থাকা খালেদা জিয়া সেদিন আদালতে হাজির হয়ে আদালতকে বলেছিলেন, এ আদালতে ন্যায়বিচার নেই। তিনি অসুস্থ। তিনি আর আদালতে আসবেন না। যত দিন ইচ্ছা আদালত তাকে সাজা দিতে পারে।

এর আগে এ মামলার বিচার চলছিল পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে। এ মামলায় দুদক তঁার যুক্তিতকর্ উপস্থাপন শেষ করেছে। খালেদা জিয়াসহ তিন আসামির যুক্তিতকর্ শুনানি বাকি রয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগঁাও থানায় এ মামলা করে দুনীির্ত দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অপর আসামিরা হলেনÑ হারিছ চৌধুরী গং।

অনুপস্থিতিতে বিচার চলা

নিয়ে দুই পক্ষের যুক্তি

গত বুধবার খালেদা জিয়া আদালতে আসেননি। কারা কতৃর্পক্ষ আদালতকে জানায়, খালেদা জিয়াকে আদালতে আসতে বললে তিনি তাদের জানান, তিনি আদালতে আসবেন না। খালেদা জিয়া যদি আদালতে না আসেন, তাহলে তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে কি না, খালেদা জিয়া জামিনে কীভাবে থাকবেন, এ ব্যাপারে আইনি যুক্তি দেখানোর জন্য খালেদার আইনজীবীদের বক্তব্য রাখতে বলে আদালত। গতকাল বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে আদালত এজলাসে ওঠেন। শুনানির শুরুতে খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবীরা আদালতে আবেদন করেন, তারা দু’জন কারাগারে খালেদার সঙ্গে দেখা করতে চান। তাহলে খালেদা জিয়া আদালতে আসতে চান না বলে কারা কতৃর্পক্ষ যে কথা বলছে, তার জবাব দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হবে, আইনগত ব্যাখ্যাও তারা দিতে পারবেন। খালেদার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, খালেদা জিয়া আসতে চাননি, সে খবর তিনি গণমাধ্যমে দেখেছেন। আদালত আমাদের কাছে আইনি ব্যাখ্যা চেয়েছেন তাও দেখেছেন তার সঙ্গে দেখা করলে এ ব্যাপারে জবাব দেয়া সম্ভব হবে।

খালেদার অপর আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, খালেদা এখন আর তার আইনজীবীদের হেফাজতে নেই, আদালতের হেফাজতে আছেন। এ অবস্থায় খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার চলার সুযোগ নেই। একই মত দেন মামলার অপর আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্নার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, খালেদা কারাগারে থাকায় তাকে হাজির করার দায়িত্ব কারা কতৃর্পক্ষের। তবে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়া আদালতে না আসায় এখন প্রশ্ন উঠেছে, তাকে ছাড়া বিচার চলবে কী না? অবশ্যই চলবে। কারণ কোনো আসামি যদি আদালতে আসতে না চান, কিংবা আদালতে আসতে অসমথর্ হন, তাহলে তার পক্ষের আইনজীবীরা সেই আসামির প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আসামি না আসলেও বিচার চলতে কোনো বাধা নেই। মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, অন্যের ঘাড়ে বন্ধুক রেখে অপর দুই আসামির আইনজীবীরা বিচারকাজে অসহযোগিতা করছেন। বিচারকে বিলম্বিত করছেন। তাদের আইনজীবীরা একদিকে বলছেন, এ আদালত প্রকাশ্য আদালত না, খালেদা জিয়া না আসায় কোরাম হয়নি। এ ক্ষেত্রে আদালত কেবল তার রুটিন কাজ করবেন। অথার্ৎ তাদের আজ যুক্তিতকর্ করার কথা। তারা তা না করে বিচারকাজে বাধা দিচ্ছেন। তারা যদি যুক্তিতকর্ না করেন, তাহলে রায়ের জন্য দিন ঠিক করুন। এ আদালতকে সংবিধান পরিপন্থি আদালত হিসেবে আখ্যায়িত করেন জিয়াউল ইসলাম মুন্নার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম। বিচার বিলম্বিত করার ব্যাপারে দুদক আইনজীবীর বক্তব্যের জবাবে আমিনুল আদালতে বলেন, তিনি তো যুক্তিতকর্ শুনানি করতে প্রস্তুত। কিন্তু মামলার আসামি খালেদা জিয়া অনুপস্থিত থাকায় কোরাম পূরণ হয়নি। এ কারণে মামলার মূল শুনানি চলতে পারে না।

বৃহস্পতিবার শুনানির শেষ দিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়া আদালতে না এসে বিচারকাজে সহযোগিতা করছেন না। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী। একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। একজন সম্মানী মানুষ। তাকে জোর করে আদালতে আনা উচিত হবে না। তিনি অসুস্থ থাকলে তার আইনজীবীরা তাকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। তাহলে খালেদা জিয়া না আসলেও বিচারকাজ চলতে কোনো বাধা থাকবে না।

খালেদা জিয়া আগামী শুনানির তারিখ পযর্ন্ত জামিনে থাকবেন এমন কথা জানিয়ে শুনানির তারিখ ঘোষণা করে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারক। এ মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে বরাবরের মতো কারাগারের আশপাশ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। বিপুল সংখ্যক আইনশৃখলা বাহিনীর সদস্য সেখানে অবস্থান নেয়।

কুমিল্লার আদালতে খালেদা

জিয়ার জামিন নামঞ্জুর

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লার আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে। জেলার চৌদ্দগ্রামে কাভাডর্ভ্যান আগুনে পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবীদের দাখিলকৃত আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা ও দায়রা জজ কেএম সামছুল আলম এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা লাগাতার হরতাল-অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার হায়দারপুল এলাকায় একটি কাভাডর্ভ্যান আগুনে পোড়ানোর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ৪দিন পর পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করে। এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের উপর বুধবার শুনানি হয় এবং রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার অধিকতর শুনানি হয়। আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর করেন।

খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, এ মামলার সকল আসামি জামিনে রয়েছেন। আমরা ন্যায় বিচার পাইনি, এখন আমরা উচ্চ আদালতে যাব এবং সেখানে ন্যায় বিচার পাব। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটন বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে