logo
  • শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

  যাযাদি রিপোটর্   ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

সবচেয়ে নিযাির্তত তবু নিঃশেষিত নই: এরশাদ

সবচেয়ে নিযাির্তত তবু নিঃশেষিত নই: এরশাদ
রাজধানীর কচুক্ষেত এলাকায় বৃহস্পতিবার নিবার্চনী জনসংযোগ করেন জাতীয় পাটির্র চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ Ñযাযাদি
বিএনপি সরকারের শাসনামলে দুনীির্তর দায়ে কয়েক বছর কারাবাসের প্রসঙ্গ টেনে জাতীয় পাটির্র চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজেকে বণর্না করেছেন দেশের ‘সবচেয়ে বেশি নিযাির্তত’ রাজনীতিবিদ হিসেবে।

কিন্তু ‘নিঃশেষ’ হয়ে যাননি দাবি করে মানুষের ‘দুঃখ-দুদর্শা লাঘব’ করার সুযোগ চেয়েছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

ঢাকা-১৭ আসনে নিবার্চনী গণসংযোগের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার কচুক্ষেতের রজনীগন্ধা সুপার মাকেের্ট জাতীয় পাটির্ কাফরুল থানার উদ্যোগে এক সমাবেশে অংশ নেন এরশাদ।

তিনি বলেন, ‘এ দেশের রাজনীতিতে আমার চেয়ে নিযাির্তত আর কেউ নেই।’

২৮ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকলে একটি রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাওয়ার কথা মন্তব্য করে তিনি বলেন,

‘নিঃশেষ হওয়ার কথা, নিশ্চিহ্ন হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা হইনি। আল্লাহর অশেষ রহমতে এত নিযার্তনের পরেও আমি বেঁচে আছি। নিযার্তনের পরে কোনো মানুষ বাঁচতে পারে না।’

জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর রাষ্ট্রপ্রধানের পদে আসীন আব্দুস সাত্তারকে হটিয়ে ১৯৮২ সালে সামরিক শাসক হিসেবে ক্ষমতায় আসা এরশাদ চার বছর পর জাতীয় পাটির্ গঠন করেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ৭০টির বেশি মামলা হয় তার বিরুদ্ধে।

তিন জোটের আন্দোলনে পতনের পর বন্দি এরশাদের তিনটি মামলায় সাজার আদেশ হয়; একটিতে তিনি সাজা খাটা শেষ করেন।

নাজিমউদ্দিন সড়কে এখন যে কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ফেব্রæয়ারি থেকে বন্দি আছেন, খালেদা জিয়ার শাসনামলে সেখানেই কেটেছে এরশাদের হাজতবাসের দিনগুলো।

ছয় বছর কারাগারে থেকে ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনে এরশাদ সরকারের পতন ঘটেছিল, তাদের কাছে এখনো তিনি গুরুত্বপূণর্।

২০০৯-১৩ মেয়াদে মহাজোট সরকারের শরিক হিসেবে ছিল এরশাদের দল জাতীয় পাটির্। আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত সরকার ও বিরোধী দল- দুই জায়গাতেই জাতীয় পাটিের্ক দেখা যাচ্ছে।

এরশাদ এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূতের ভূমিকায় আছেন, আর তার স্ত্রী রওশন এরশাদ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করলে জাতীয় পাটির্ এককভাবে নিবার্চনে অংশ নেবে বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছেন এরশাদ। ৩০০ আসনে প্রাথীর্ বাছাই করতে ইতোমধ্যে কাজও শুরু করেছে তার দল।

কচুক্ষেতের সমাবেশে এরশাদ বলেন, ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নিবার্চনে ঢাকার এই আসনে তিনি ‘রেকডর্’ ভোটে জয় পেয়েছিলেন।

সেনানিবাস এলাকায় নিজের ‘গ্রহণযোগ্যতা’ বেশি দাবি করে এ আসন থেকে আবারও নিবাির্চত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন এরশাদ।

জাতীয় পাটির্র সময়ের উন্নয়নের বৃত্তান্ত তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত বতর্মান সরকারেরও সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘আজকে পত্রিকার পাতা খোলেন। কোনো সুখবর নাই। রাস্তায় মানুষ মরছে অথচ সরকার ভ্রুক্ষেপ করছে না।’

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েলথএক্সের একটি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে এরশাদ বলেন, ‘বলা হচ্ছে, আমরা নাকি সবচেয়ে বিত্তশালী লোক। এই টাকা এলো কোথা থেকে? এই টাকা তো চুরি করা টাকা, যা আপনাদেরই টাকা।’

সম্প্রতি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে ‘অতি ধনী’ মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে দ্রæতগতিতে বাড়ছে বাংলাদেশে।

দেশে কোনো ‘সুশাসন নেই’ এমন অভিযোগ এনে জাতীয় পাটির্র চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার বয়স হয়েছে। কিন্তু আমি আবার মাঠে নেমেছি। আপনাদের দুঃখদুদর্শা দূর করতে চাই। দেখাতে চাই উন্নয়ন কাকে বলে, সুশাসন কাকে বলে।’

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পরে মাটিকাটা এলাকাতেও গণসংযোগ করেন বলে জানিয়েছে জাতীয় পাটির্।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে