logo
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৫

  সাইফুর রহমান সহকারী শিক্ষক (গণিত) রাসুলপুর দাখিল মাদ্রাসা বাহুবল, হবিগঞ্জ   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ

২০০৫ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) গঠিত হওয়ার পর মোটামুটি সঠিকভাবেই শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও সনদ প্রদানের কাজ করে আসছিল। আর সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা) কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করতেন। কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ থাকার কারণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি ছিল। তাই ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর এক পরিপত্রের মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর হাতে চলে যায়। বেকার নিবন্ধনধারীরা বিনা টাকায় চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। কিন্তু সেই স্বপ্নতে বিনামেঘে বজ্রপাত নেমে এলো নিবন্ধনধারীদের মধ্যে। এর প্রধান কারণ কি? বা এনটিআরসিএর বিরুদ্ধে এত মামলাই বা কেন? আর এই মামলার জন্য আসলে কে দায়ী? এনটিআরসিএ নাকি বেকার নিবন্ধন সনদ ধারী? এ বিষয়ে একটু আলোচনা করা যাক। ২২ অক্টোবর ২০১৫ সালে যখন নতুন পরিপত্র জারী করা হয় তখন পর্যন্ত ১ থেকে ১২তম নিবন্ধন পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এ পরিপত্রে বলা হয়- প্রতি বছর একটি নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় মেধার ভিত্তিতে উত্তীর্ণদের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এনটিআরসিএ এবং সনদের মেয়াদ হবে ৩ বছর যা আগে ছিল আজীবন। এতে ১ থেকে ১২তমের অধিকাংশ সনদ বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু যা সম্পূর্ণ আইনের পরিপন্থি। কারণ ১ থেকে ১২তমরা এনটিআরসিএর পরিপত্র ও বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়ম মেনেই পাস করেছিল। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ২০০১ সালের আগে এসএসসিতে ডিভিশনভিত্তিক রেজাল্ট দেওয়া হতো কিন্তু পরবর্তীতে জিপিএভিত্তিক রেজাল্ট প্রকাশ করা হচ্ছে। পিএসসির বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রেও দেখা যায় বিভিন্ন নিয়মনীতি। তাই বলে কি, আগের সনদ বা নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে? উত্তর হবে না। সমন্বয় করা হয়। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিয়মনীতি পরিবর্তন হবে এটাই স্বাভাবিক তাই বলে ৪-৫ লাখ সনদ বাতিল হবে এটা কোন ধরনের নীতিমালা? এতে বেকার নিবন্ধনধারী হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে ২৪৩টি মামলা করে। ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে ৭টি নির্দেশনা দিয়ে ১৬৬টি মামলার এক মীমাংসিত রায় প্রদান করে হাইকোর্ট। এই রায়ে বলা হয়, জাতীয় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেবে কর্তৃপক্ষ এবং নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত নিবন্ধন সনদের মেয়াদ বহাল থাকবে। এই রায়ের ফলে অনেকে আশার আলো দেখলেও আবার অনেক নিবন্ধনধারীকে হতাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ। কারণ ১২ জুন ২০১৮ সালে আবার আর একটি পরিপত্র অর্থাৎ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ জারী করে। এতে আবেদনের যোগ্যতা হারায় ছয়মাসমেয়াদি কম্পিউটার ডিপেস্নামা (যদিও ২০১৬ সালের আর একটি মামলায় সনদের বৈধতা পায়) এবং ৩৫ বছর ঊর্ধ্ব নিবন্ধনধারীসহ অনেকে। এমন কি সদ্য পাস করা ১৪তম প্রভাষক আইসিটি শিক্ষকরাও দ্বিতীয় চক্রের গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও যোগদান করতে পারেনি, নীতিমালার কারণে। আবার অনেকে ভুলপদে সুপারিশ পেয়ে যোগদান করতে পারেনি, আর যারা যোগদান করেছেন তারা বিনা বেতনে চাকরি করে আসছে। ২০১৯ সালে বেকার নিবন্ধনধারীদের আবার মামলার দিকে ঠেলে দেয়া হয়। ফলে তারা আবার হাইকোর্টের দারস্থ হয়। বর্তমানে যেসব মামলা চলমান আছে তার মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হলো- রায় পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণে কন্টেম মামলা, ছয়মাসমেয়াদি কম্পিউটার ডিপেস্নামাধারীদের আইসিটি মামলা, সম্প্রতি রায় পাওয়া ৩৫ বছর ঊর্ধ্ব মামলা যা বর্তমান আপিল বিভাগে চলমান, ১২, ১৩তমদের একক নিয়োগের রায় যা আপিল বিভাগে চলমান। মোট কথা শত শত মামলা এনটিআরসিএর বিরুদ্ধে। এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন সময় সমন্বয়হীন সিদ্ধান্তের কারণে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন সময়ে দেওয়া নিজেদের সনদ অবৈধ ঘোষণা করার কারণে বেকার নিবন্ধনধারীরা আজ হাইকোর্টের বারান্দায় ঘুরপাক খাচ্ছে এবং নিবন্ধনধারীদের জীবনে মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। অথচ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার তথ্যমতে ৬০ হাজার থেকে বেশি শিক্ষক জাল সনদ দিয়ে চাকরি করে আসছে। দুদকের বিভিন্ন তদন্তে তা প্রমাণিত হয়েছে। আর সব নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত যদি হাইকোর্টই দেয় তাহলে এনটিআরসিএর প্রয়োজন কতটুকু অবাক করার বিষয়?

একটি মামলা রায়ও এনটিআরসিএর পক্ষে যায়নি। তাহলে কেন এত ভুল সিদ্ধান্ত? কেন বেকারদের হাইকোর্টের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে? ১-১২তম এবং ১৩, ১৪তমদের কোনো ব্যবস্থা না করেই, বিভিন্ন পরিপত্র জারির কারণে মামলাসহ নিয়োগের নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে এসব জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই আজ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তীব্র শিক্ষক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে এবং ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের যে স্বপ্ন 'ডিজিটাল বাংলাদেশ', তা ব্যাহত হচ্ছে। তাই এসব অচল অবস্থা দূর করার জন্য শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষাসচিব ও মাউশির মহাপরিচালক সুদৃষ্টি কামনা করছি।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে