logo
বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  রণেশ মৈত্র   ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

সড়ক পরিবহণ আইন বড়ই অসহায়

কোনো ট্রেড ইউনিয়ন যদি ধর্মঘট কোনো কারণে ডাকতে চায় তবে ওই ট্রেড ইউনিয়নের নির্দিষ্ট পরিমাণ বৈধ সদস্য থাকতে হবে এবং সেই সদস্যদের অধিকাংশ ভোটে যদি ধর্মঘট আহ্বানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়-তবেই কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়ন দাবি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না মানলে ধর্মঘট করা হবে উলেস্নখ করে নোটিশ পাঠাতে পারেন। দৃশ্যতই এ ক্ষেত্রে তেমন কোনো কিছুই করা হয়নি। তাই শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ীও এ ধর্মঘটে সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নগুলো (বিশেষ করে পরিবহণ খাতে) কোনো দিনই ওই আইন মেনে ধর্মঘট ডাকেন না। তাই তার কি শ্রম আইন, কি পরিবহন আইন- কোনোটাই মানতে চান না মানেনও না।

ঘটনার পুনরাবৃত্তি। বারবার। ১৯ নভেম্বর, নতুন বছর এসেই গেল। তাকে স্বাগত জানানোর নানাবিধ প্রস্তুতি দেশজুড়ে। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার পাশাপাশি সমগ্র বাংলাদেশে শীতের আগমনীর সুর ধীর লয়ে বাজছে কিন্তু ঋতু পরিবর্তনের ধাক্কায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধা-শিশুরা অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বাৎসরিক ও টেস্ট পরীক্ষা চলছে। উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষা নেওয়া-দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত। স্কুল-কলেজের সঙ্গে, পাশে বা কাছে ৯৫ ভাগ শিক্ষক-শিক্ষিকা-ছাত্রছাত্রী বাস করেন না। দূর থেকে আসতে হয় তাদের সপ্তাহে ছয় দিন। চাকরিওয়ালাদের কর্মস্থলে যেতে আসতে দূরবর্তী এলাকা থেকেও। জরুরি ক্ষেত্রে রোগী ঢাকায় নিয়ে যাওয়াও একটি নিয়মিত প্রয়োজন।

তালিকা আরও দীর্ঘ করা যায়; কিন্তু তা থেকে বিরত রইলাম সময় ও পত্রিকার স্থানাভাবে।

যে কথাগুলো উপরে উলেস্নখ করলাম- তা নতুন কোনো গবেষণালব্ধ বিষয় নয়। সবারই জানা। পরিবহণ মালিক শ্রমিকরা আরও বেশি করে জানেন। কারণ তাদের যানবাহনে চড়েই নিত্যদিন এই হাজার হাজার লাখ লাখ নারী-পুরুষ নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে থাকেন। নিত্যদিন যাতায়াতের কারণে ওই শিক্ষার্থীদের জন্য খাতির বা কনসেশনের ব্যবস্থা নেই-পৃথিবীর অপরাপর দেশের মতো।

পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা এও জানেন যে বাংলাদেশে তার একচেটিয়া ব্যবসায়ের সুযোগ পেয়ে থাকেন যা পৃথিবীর খুব কম দেশে বিদ্যমান। তারা জানেন, বাংলাদেশে রেলপথ, রেলপথে যাত্রীসেবা-বিশেষত উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে নিদারুণভাবে আজও সীমিত। নদীপথ-নৌযানগুলোকেও কবেই না সমাধিস্থ করেছি আমরা। এবং নানাবিধ কারণেই ব্যবসাটা একচেটিয়া।

ব্যক্তি মালিকানা যদি একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ পায়, বিপদ-বিপর্যয়ের আশঙ্কার অস্তিত্ব, এমনকি ক্রমবৃদ্ধির আশঙ্কা সেখানে তীব্র। বাস্তবে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এই ব্যক্তি মালিকানায় পরিবহণ সেক্টরের ব্যবসার অসহায় শিকারে পরিণত আজ নয়- বহুকাল ধরে।

বলছিলাম ২০১৯ সালের বিদায়লগ্নে সব স্তরের মানুষের বাড়তি ব্যস্ততার কারণে নানাস্থানে যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধির এই সময়ে ১৯ নভেম্বরের পত্র-পত্রিকায় দেখলেন উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি জেলায় সেদিন থেকেই পরিবহন ধর্মঘট শুরু। নির্দিষ্ট কোনো সময়ের জন্য তারা এই ধর্মঘটের আয়োজন দেননি তারা বলেছেন তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে অনির্দিষ্টকালের জন্য।

দাবিটি কি? পরিবহণ আইনের সংশোধিত বিধানগুলো প্রত্যাহারের দাবিতে। দাবি তাদের এই একটাই।

সংস্কারকৃত এই আইনের বিধানগুলো কার স্বার্থে প্রণীত? যাত্রী সাধারণ, চালক-মালিক-সবার স্বার্থেই। কিন্তু তারা বাতিল বা প্রত্যাহার চান ততটুকুই যতটুকু যাত্রীদের স্বার্থে প্রণীত। যেমন- অতিদ্রম্নত চালালে শাস্তি, লাইসেন্সবিহীন চালক চালালে শাস্তি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চালালে শাস্তি, মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালালে শাস্তি, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালালে শাস্তি প্রভৃতি। কিন্তু এগুলো কি আমাদের দেশেই শুধু মাত্র নিষিদ্ধ? না, পৃথিবীর সর্বত্র তা নিষিদ্ধ। কিন্তু দাবি মানলে ওই শাস্তির বিধানগুলোকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে।

প্রত্যাহারের পরিণতি? পথে পথে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, অহেতুক নিরীহ যাত্রীদের মৃতু্যর আশঙ্কা বৃদ্ধি। ধর্মঘটে নিয়োজিতরা তা জানেন না- তা নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও এমন সর্বনাশা ধর্মঘট।

এই ধর্মঘট কি আইনসম্মত? আমরা জানি, দেশে শ্রম আইন বিদ্যমান। সে আইনে আমাদের শ্রমিকসমাজের স্বার্থ পুরোপুরি রক্ষিত হয়নি- এ অভিযোগ শুধু নানা সেক্টরে বাংলাদেশে কর্মরত শ্রমিকদের বা দেশবাসীর তা নয়। এ অভিযোগটি খোদ আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংস্থারও (আইএলও) বটে। সেই শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন কোনো কারণে প্রয়োজনে ধর্মঘট ডাকতে পারবে তবে তার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিত দিয়ে বলতে হবে যে এই এই দাবি এত তারিখের মধ্যে মানতে হবে এবং না মানলে তারা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হবেন। যদি কর্তৃপক্ষ না মানেন তবেই একটি ধর্মঘটকে বৈধভাবে আশুত বলে বিবেচনা করা হয়।

চলমান ধর্মঘট শ্রম আইনের সেই নিয়ম মেনে করা হয়নি। এটি অকস্মাৎ আহ্বান করার ফলে এই ধর্মঘট অবৈধ। আরও এক কারণে ধর্মঘটটি অবৈধ।

\হকোনো ট্রেড ইউনিয়ন যদি ধর্মঘট কোনো কারণে ডাকতে চায় তবে ওই ট্রেড ইউনিয়নের নির্দিষ্ট পরিমাণ বৈধ সদস্য থাকতে হবে এবং সেই সদস্যদের অধিকাংশ ভোটে যদি ধর্মঘট আহ্বানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়-তবেই কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়ন দাবি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না মানলে ধর্মঘট করা হবে উলেস্নখ করে নোটিশ পাঠাতে পারেন। দৃশ্যতই এ ক্ষেত্রে তেমন কোনো কিছুই করা হয়নি। তাই শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ীও এ ধর্মঘটে সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নগুলো (বিশেষ করে পরিবহণ খাতে) কোনো দিনই ওই আইন মেনে ধর্মঘট ডাকেন না। তাই তার কি শ্রম আইন, কি পরিবহন আইন- কোনোটাই মানতে চান না মানেনও না।

না মানার সাহসটি তারা পান বেআইনি ঘোষণা করেন না এবং বেআইনি ধর্মঘটিদের বা তার উসকানি দাতাদের বিরুদ্ধে কদাপি কোনো শাস্তির ব্যবস্থা করেন না। ফলে এই শিল্পের মালিক, শ্রমিকরা দুঃসাহসী বেপরোয়া।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, পরিবহণ আইন অবশ্যই কার্যকর করা হবে এবং কোনো চাপেই আইনটির বাস্তবায়ন বন্ধ বা স্থগিত হবে না।

কিন্তু পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন কবে থেকে শুরু হবে তার স্পষ্ট ঘোষণা না থাকায় এভাবে ধর্মঘট ডেকে যে সরকারের ওপর অবৈধ চাপ অহরহ করা হচ্ছে- সে ব্যাপারে সরকারটি নেহাতই উদাসীন। সমস্যাটা সেখানেই।

এখন ট্রেড ইউনিয়ন বলতে প্রধানত শ্রমিক লীগকে বোঝায়। পরিবহণ সেক্টরের শ্রমিকদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করেন পরিবহণ শ্রমিক লীগ যা একটি সরকার সমর্থিত সংগঠন। তা হলে এটাও তো স্পষ্ট সরকার সমর্থিত, সরকারি লোকদের দ্বারা পরিচালিত পরিবহণ শ্রমিক লীগই সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মঘটে নেমেছে- নামছে বারবার। সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন তোলাই যায়, সরকার কি তাদের প্রণীত এই আইনটির দ্রম্নত এবং পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে সত্যই আন্তরিক কিনা সে প্রশ্নটিও তোলাই যায় চলমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ কথা বেশ কয়েকটি উত্থাপন করছি এই সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে। সমস্যাটির কোনো টোটকা সমাধান নেই বলে আমার ধারণা। তাই বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে যা যা করা প্রয়োজন তা হলো-

এক. বিআরটিসি সরকারি সড়ক পরিবহণ পরিসেবার কথা আমরা প্রায় ভুলেই গিয়েছি। জনগণের দাবিতে পাকিস্তান সরকারও ই আর টি সি নামে সংস্থাটি চালু করে প্রদেশের নানা স্থানে বিআরটিসি বাসের চাহিদা থাকায় তখনও আরও বৃদ্ধি করার দাবি উঠেছিল। পাবনা, বগুড়া, রাজশাহী, কুষ্টিয়াসহ দেশের প্রতিটি জেলাতেই ডিপো স্থাপন করে বেশ ভালো সংখ্যক বাস ডিপোগুলোতে দিয়েছিল। তাদের ভাড়াও ছিল কম এবং যাত্রীসেবাও ছিল উন্নততর। কিন্তু সামরিক শাসক স্বৈরাচারী এরশাদ ক্ষমতায় এসে এক কলমের খোঁচায় ঢাকা ছাড়া অন্যান্য ডিপোগুলো থেকে বিআরটিসির বাসগুলো ক্রমান্বয়ে প্রত্যাহার করে নেন। তার প্রতিবাদ ওঠে দেশজুড়ে। পরে ক্ষমতা বদলের পর ডিপোগুলোতে নামমাত্র সংখ্যক বাস সরবরাহ করে সেগুলো চালু করা হয়েছিল। কিন্তু বেসরকারি বাসগুলোর মালিক শ্রমিকদের ধ্বংসাত্মক বিরোধিতার কারণে বা যে সুযোগে ডিপোগুলো থেকে বাসগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। যে কয়টি করে দোতলা বাস ছিল সেগুলোকে বেসরকারি বাস মালিক-শ্রমিকরা ঢিলিয়ে ভেঙ্গেচুরে দিতে থাকলে দোতলা বাসগুলো পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিয়ে বেসরকারি পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের ধ্বংসাত্মক ক্রিয়াকলাপের শাস্তি না দিয়ে সরকারই নতি স্বীকার করে অপরাধীদের আরও বেশি বেশি দুঃসাহসী দুর্বিনীত করে তোলেন।

যা হোক, ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তার কারণে সরকার অবিলম্বে প্রত্যেক জেলার বিআরটিসি ডিপোগুলোতে ১০০ করে ভালো (নতুন হলে সর্বোত্তম) বাস ও অন্তত ৫০টি করে ট্রাক সরবরাহ করে সেগুলো ঢাকাসহ সব আঞ্চলিক রুটগুলোতে চালু করে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের যতটা সম্ভব সমাধানে এগিয়ে আসুন;

দুই, অতিদ্রম্নত পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথগুলো আধুনিকায়ন, ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ, বগি, নতুন নতুন ইঞ্জিনসহ সার্ভিস চালু করুন। ট্রেনের সংখ্যা ওই অঞ্চলগুলোতে দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হোক;

তিন. এবারে বলছি সর্বাংশে নিহত ও সমাধিস্থ নদ-নদীগুলোকে দখলমুক্ত করে, সিএস খতিয়ান মোতাবেক সেগুলোর দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে উদ্ধার ও সেগুলো খননের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় গভীরতা নিশ্চিত করে সেগুলোকে সাংবৎসরিক বহমান করে তোলার মাধ্যমে কার্যকর নৌ-পরিবহণ সার্ভিস চালু করা হোক। জনমত শতভাগ এই দাবিগুলোর পেছনে রয়েছে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ ও নির্দেশনা।

যে কোনো সূত্র থেকেই এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করে অবিলম্বে তা বিভিন্ন জেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছনো এবং চলমান শুকনা মেওসুমটি সে কাজের উপযুক্ত হওয়ায় তার পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা হোক।

আমাদের স্মরণে রাখা দরকার যে নদী পুনরুদ্ধার শুধু নৌ-পরিবহন চালু করার জন্যই প্রয়োজনীয় নয়। তা ছাড়াও দেশব্যাপী পরিবেশের উন্নয়ন, কৃষিতে স্বল্প ব্যয়ে সেচ সম্প্রসারণ, বনায়ন ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্যও অপরিহার্য।

মূল আলোচ্য বিষয়টি হলো পরিবহণ ব্যবসায় উন্নয়ন। এবং তা নিয়েই নিবন্ধটির অবতারণা। সে ক্ষেত্রে নতুন সড়ক আইনের পরিপূর্ণ প্রয়োগ এবং বাধাদানকারীদের ও অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তি বিধান ছাড়া এই মুহূর্তে পরিস্থিতির উন্নয়ন অসম্ভব। তাই চলমান ধর্মঘটকে বেআইনি ঘোষণা করে অবিলম্বে সব সার্ভিস চালু করে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো এবং তা না করলে কঠোরতম শাস্তি প্রদানও শুরু করা হোক।

এবারের কৌশলটা নতুন। মালিকরা জানেন না এই ধর্মঘটের ব্যাপার এটা মালিকদের দাবি। ট্রেড ইউনিকরাও কোনো সিদ্ধান্তের খবর নেই। কিন্তু ১৪টি জেলায় ধর্মঘট হয়েছে। কী করে সম্ভব? যদিও শেষ পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারকে সব কিছুই খুঁজে বের করতে হবে। বারবার এ ধরনের নৈরাজ্যের অবসান হওয়া প্রয়োজন।

রণেশ মৈত্র: সাংবাদিকতায় একুশে পদকপ্রাপ্ত
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে