logo
মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

মালয়েশিয়ায় বন্ধ শ্রমবাজার চালু হচ্ছে

কার্যকর পদক্ষেপ নিন

মালয়েশিয়ায় বন্ধ শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে উভয় দেশ। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই দেশটিতে কর্মী পাঠাতে আগ্রহী বাংলাদেশ। আর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে উঠে এসেছে যে, এরই অংশ হিসেবে চলতি মাসে ঢাকায় আসছে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধিদল। প্রসঙ্গত, আমরা উলেস্নখ করতে চাই, বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। এ বৈঠকেই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আমরা মনে তরি, মালয়েশিয়ায় বন্ধ শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে উভয় দেশ- এই বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক বাস্তবতাকেই সামনে আনছে। এখন সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যথাযথ উদ্যোগ জারি রাখা। দুই দেশের প্রতিনিধিদলের শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে- ফলে এই বিষয়টি আশাব্যঞ্জক। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশ জনসংখ্যাবহুল দেশ। ফলে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে যেমন জোর দিতে হবে, তেমনিভাবে জনশক্তি রপ্তানিতে নতুন নতুন শ্রমবাজার তৈরিতে উদ্যোগী হতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার। ফলে এই শ্রমবাজার বন্ধ থাকাটা বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের। সঙ্গত কারণেই যখন দেশটিতে শ্রমবাজার চালুর বিষয় সামনে আসছে তখন তা সুখকর। এ ছাড়া দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে যখন কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটিও ইতিবাচক।

প্রসঙ্গত, উলেস্নখ করতে চাই, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অনলাইন পদ্ধতি এসপিপিএ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে সময় তৎকালীন প্রবাসী ও বৈদেশিক কল্যাণমন্ত্রী মালয়েশিয়া গিয়ে বৈঠক করলেও শ্রমবাজার চালু করা সম্ভব হয়নি। এরপর ৩১ অক্টোবর ঢাকায় দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রম্নপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে নতুন করে কর্মী নেয়ার কিছু পদ্ধতি ঠিক হয়। চলতি বছরের ১৪ মে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী (তখন প্রতিমন্ত্রী) ইমরান আহমদ মালয়েশিয়া সফরে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মানবসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের অগ্রগতি হিসেবে ২৯ ও ৩০ মে মালয়েশিয়ায় দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রম্নপের আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আমরা বলতে চাই, বন্ধ শ্রমবাজার খুলছে এই ইতিবাচক বিষয়টিকে আমলে নিয়ে সর্র্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি রাখতে হবে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মনে রাখা দরকার- বিশ্ব ক্রমাগত এগিয়ে চলেছে এবং দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা বাড়ছে। ফলে শ্রমিকদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাড়াতে হবে। লক্ষণীয় যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই বাংলাদেশের শ্রমিকরা সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন এবং দেশের সমৃদ্ধির যাত্রায় অবদান রাখছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটে- যেগুলো আমলে নিতে হবে সংশ্লিষ্টদেরকেই।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, মালয়েশিয়ায় বন্ধ শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে একমত হওয়া এবং উভয় দেশ শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা এবং কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো, কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। একইসঙ্গে নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টিতেও কাজ করতে হবে। এ ছাড়া অবৈধভাবে বিদেশযাত্রা কিংবা দালালদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়াসহ নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে- এগুলো বিবেচনায় নিয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মালয়েশিয়ায় বন্ধ শ্রমবাজার চালুর বিষয়টিকে সামনে রেখে, সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নে কাজ করুক এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে