logo
বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০  

চামড়া শিল্পনগরী

যথাসময়ে কাজ শেষ হোক

একটি দেশের সার্বিক সমৃদ্ধি অর্জনের প্রশ্নে রপ্তানি আয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে রপ্তানির প্রধান খাতগুলোকে সামনে রেখে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় খাতের দিকেও মনোযোগী হতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমাদের দেশের অর্থনীতিতে সম্ভাবনাময় বড় খাতের একটি হলো চামড়া শিল্প। ফলে এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প থাকতে পারে না। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল যে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে 'চামড়া শিল্পনগরী-সাভার ঢাকা' প্রকল্পের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারসহ (সিইটিপি) সব কাজ সমাপ্ত হবে। গত মঙ্গলবার সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারসহ (সিইটিপি) প্রকল্পের সার্বিক বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া এমন সিদ্ধান্তও হয়েছে যে, সব কাজ শেষ হওয়ার পর আগামী বছরের শুরুতেই লেদার ওয়ার্কিং গ্রম্নপের (এলডবিস্নউজি) সনদ অর্জনের জন্য নিরীক্ষার আমন্ত্রণ জানানো হবে।

আমরা বলতে চাই, 'চামড়া শিল্পনগরী- সাভার, ঢাকা' প্রকল্পের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারসহ (সিইটিপি) সব কাজ সমাপ্ত হবে- এই বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই ইতিবাচক। কেননা, দেশের চামড়া শিল্পের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে এই প্রকল্প সমাপ্ত হওয়া এবং যে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা নিরসনে কাজ করা আবশ্যক। এমন বিষয়ও আলোচনায় এসেছে যে, বর্তমানে যে গতিতে চামড়া শিল্পনগরীর কাজ চলছে, তাতে করে আগামী বছরের প্রথম দিকে বাংলাদেশ চামড়া শিল্পের জন্য এলডাবিস্নউজি সনদ অর্জনে সক্ষম হবে। উলেস্নখ্য, ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) কাজ শতকরা ৯৮ ভাগ সম্পন্নও হয়েছে। আমরা বলতে চাই, যেহেতু এলডাবিস্নউজি সনদ অর্জনের লক্ষ্যে এখন থেকে মক অডিট পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায় এবং এ অডিটের ফলাফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন সূচকে ধারাবাহিক গুণগত পরিবর্তনের জন্য সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে- ফলে এই নির্দেশনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই।

প্রসঙ্গত, আমরা সংশ্লিষ্টদের এটাও বলতে চাই যে, চামড়া শিল্প আমাদের সম্ভাবনাময় এবং উলেস্নখযোগ্য খাত হিসেবে চিহ্নিত- কিন্তু আমলে নেয়া দরকার- বিভিন্ন সময়েই এই শিল্পকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, ব্যর্থতার চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। ফলে আমরা মনে করি, চামড়া শিল্প নিয়ে যে কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি হলে তা গুরুত্বসহকারে আমলে নিতে হবে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখা দরকার, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চামড়া শিল্পের অবদান কম নয়। চামড়া আমাদের দেশের সম্পদ, সঙ্গত কারণেই সম্ভাবনাময় এই চামড়া শিল্পের স্বার্থে কেউ যেন অসাধু বাণিজ্য বা আঘাত করতে না পারে সেটিও আমলে নিতে হবে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় এ শিল্পটিকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির জন্য উন্নত বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী শিল্পটিকে পরিবেশবান্ধব করাটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই।

সর্বোপরি বলতে চাই, শিল্পমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে 'চামড়া শিল্পনগরী-সাভার, ঢাকা' প্রকল্প শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। এই নিদের্শনার যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি। আর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চামড়া শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যে কোনো মূল্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে এমন বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। ফলে যথাযথ সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া অপরিহার্য। এ ছাড়া উলেস্নখ্য যে, চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে এমন আশার বিষয়ও উঠে এসেছে। সঙ্গত কারণেই আমরা মনে করি, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ হোক এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে চামড়া শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্টরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখুক।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে