logo
সোমবার ২৪ জুন, ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০  

শিশুশ্রম

রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিন

আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। সঙ্গত কারণেই শিশুদের বেড়ে ওঠা যদি নিরাপদ না হয়, তবে আগামী দিনের জন্যও এর প্রভাব হবে অত্যন্ত নেতিবাচক এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার সার্বিকভাবে শিশু পরিস্থিতি আমলে নিয়ে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। প্রসঙ্গত এটা বলা দরকার, সরকার ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি বলেই জানা যাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে সরকার এটাও বলেছে যে, ২০২৫ সালের মধ্যে সব ধরনের শিশুশ্রম বন্ধ করবে। কিন্তু এর পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনায় নেয়া সমীচীন- শিশুশ্রম নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা মনে করছেন সরকারের জন্য এই লক্ষ্য অর্জনও কঠিন হবে। কেননা, পরিকল্পনার ঘাটতি আছে। ফলে আমরা মনে করি, যথাযথভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে শিশুশ্রম নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে সরকারকেই। যেন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হওয়া সম্ভব হয়।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু এটা বিবেচনায় নেয়া জরুরি যে, এর পূর্বশর্ত হিসেবে যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দেশ থেকে শিশুশ্রম নিরসন করা। আর যেহেতু বর্তমান সরকার চাইছে জাতীয় শিশুশ্রম নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে শিশুশ্রম পুরোপুরি নিরসন করতে- সেহেতু প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও যথাযথ পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রতিবন্ধকতা দূর করে শিশুশ্রম নিরসন করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, প্রয়োজনীয় নজরদারি না থাকা, শিশুশ্রমিক নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ না নেয়া এবং জনসচেতনতার অভাবে কার্যত শিশুশ্রম নিরসন সম্ভব হচ্ছে না এমন বিষয় উঠে এসেছে। এ ছাড়াও রয়েছে শিশু সুরক্ষা আইনের অভাব। ফলে বাসাবাড়ি, কলকারখানা, কৃষিকাজ ইত্যাদি তো বটেই, ঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলোতেও চলছে শিশুশ্রম। আমরা মনে করি, সার্বিক এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।

এ কথা ভুলে যাওয়া যাবে না, শিশুশ্রম নিরসন না করতে পারলে একদিকে যেমন উন্নত মানবসম্পদ গড়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিকশিত হওয়ার পথে বাধাগ্রস্ত হবে, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। বলা দরকার, বুধবার পালিত হয়েছে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। আর এবার এ দিবসের প্রতিপাদ্য- 'শিশুশ্রম নয়, শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময়।' ফলে স্বপ্নময় ও সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের প্রশ্নে শিশুশ্রম নিরসন অপরিহার্য।

সর্বোপরি বলতে চাই, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বু্যরোর ২০১৫ সালের জাতীয় শিশুশ্রম জরিপের তথ্যানুযায়ী, দেশে শ্রমের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৩২ লাখ শিশু আর এর মধ্যে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশুই যুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। আর জাতীয় শিশু শ্রম জরিপ-২০১৩ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৮টি খাতে ২ লাখ ৬০ হাজার শিশু অতিঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত- যারা হোটেল-রেস্তোরাঁ, ট্যানারি, শিপব্রেকিং, পরিবহন, কৃষি, গৃহকর্ম, নির্মাণ, ইটভাঙা, লোহা কাটাসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত। এ ছাড়া নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকারও হচ্ছে শিশুরা- যা প্রতিনিয়তই পত্রপত্রিকায় উঠে আসে। সঙ্গত কারণেই এমন পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করতে হবে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।

কেননা, শিশুর বেড়ে ওঠা নিরাপদ না করতে পারলে কোনো অর্জনই সফলতা বয়ে আনবে না। তাই ব্যাপক পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণা সাপেক্ষে শিশুশ্রম নিরসনসহ শিশুর সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এমনটি কাম্য।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে