logo
রোববার ২৬ মে, ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০  

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগুন কার্যকর পদক্ষেপ নিন

প্রতিনিয়ত নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছেই। পত্রপত্রিকায় চোখ রাখলেই এমন সব ঘটনা পরিলক্ষিত হয়- যা অত্যন্ত পরিতাপের জন্ম দেয়। সম্প্রতি একটি স্কুলে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে এমন ঘটনা সামনে এলো। আমরা বলতে চাই, যে কোনো কারণেই হোক না কেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেবে দুর্বৃত্তরা- এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকতার এবং গভীর ভাবনার অবকাশ রাখে। সঙ্গত কারণেই ঘটনাটিকে সহজ করে দেখার সুযোগ নেই। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, দেশে নারী ফুটবলারদের কৃতিত্বের জন্য আলোচিত ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। প্রসঙ্গত, উলেস্নখ্য যে, কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে শিক্ষার্থীরা তিনবার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা গোল্ডকাপ ফুটবলে জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন হয়। পরে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখায় ভর্তি হয় ওই শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ নারী দলের কৃতী ফুটবলার মারিয়া মান্দা, মার্জিয়া ও সানজিদাসহ বয়সভিত্তিক বিভিন্ন জাতীয় দলে কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের কমপক্ষে ১০ জন মেয়ে নিয়মিত খেলেন।

আমরা বলতে চাই, গত মঙ্গলবার ভোরে লাগানো ওই আগুনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সনদপত্র, মেয়েদের খেলার সনদপত্র, মেডেল (পদক), রেজুলেশন বইসহ প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া ছাড়াও একটি পেনড্রাইভও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা এমনটিও জানা যাচ্ছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা দরকার, কারা এবং কী কারণে আগুন লাগিয়েছে তা তদন্ত সাপেক্ষে শনাক্ত করা জরুরি। যদিও স্থানীয় অনেক বাসিন্দা জানিয়েছে, কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজটি জাতীয়করণের প্রক্রিয়ায় আছে। এ অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ কাগজ পুড়িয়ে দেয়ার বিষয়টি রহস্যজনক। এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুলের শিক্ষকদের কাছ থেকে এমন বিষয় সামনে এসেছে যে, রমজান উপলক্ষে স্কুল বন্ধ থাকলেও কয়েকটি বিষয়ে দুর্বল শিক্ষকদের জন্য সকালে বিশেষ ক্লাস নেন শিক্ষকরা। মঙ্গলবার ভোরে বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বিশেষ ক্লাস নেয়ার জন্য স্কুলে গিয়ে অফিস কক্ষে আগুন জ্বলতে দেখেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্কুলের অন্য শিক্ষকরাও উপস্থিত হন। ধোবাউড়া থানার ওসি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।

এ ছাড়া এটাও বলা দরকার যে, একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র নিয়ে কেলেঙ্কারির দায়ে একজন শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে তেমন কোনো ঝামেলা নেই। আর অফিস কক্ষে আগুন দিলেও বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগানো ছিল। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, দেয়াল টপকে অফিসে ঢুকেছে দুর্বৃত্তরা। বিদ্যালয়ের সরকারিকরণের কাজে বাধা সৃষ্টি করার জন্যই কেউ এমন কাজ করেছে কি না সে বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে স্থানীয়দের মধ্যে। আমরা বলতে চাই, যে কোনো কারণেই হোক না কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তরা আগুন দেবে এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আগুন লাগার ঘটনাটি আমলে নেয়া এবং পেনড্রাইভ নিয়ে যাওয়াসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমরা মনে করি, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তরা ঠিক কী কারণে আগুন দেবে তা শনাক্ত করা জরুরি।

সর্বোপরি বলতে চাই, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যেমন সতর্ক থাকতে হবে ও যথার্থ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে- তেমনিভাবে দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার সামগ্রিক বিস্তার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ সমুন্নত রাখা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে এমনটি কাম্য।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে