logo
রোববার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৫ ফাল্গুন ১৪২৫

  অনলাইন ডেস্ক    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

রেমিট্যান্স বৃদ্ধি

এই ধারা অব্যাহত থাকুক

প্রবাসী আয় বৃদ্ধি হলে তা সন্দেহাতীতভাবেই ইতিবাচক বিষয়কে সামনে আনে। কেননা, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধির অথর্ই হলো দেশের অথর্নীতির জন্য তা আশাব্যঞ্জক। বাংলাদেশের অথর্নীতি যে কয়টি ভিতের ওপর দঁাড়িয়ে আছে তার মধ্য রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি জানা গেল, হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি ও ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে টাকা পাঠাতে সরকারের নানা উদ্যোগ, সেই সঙ্গে ডলারের বিপরীতে টাকা বেশি পাওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে বেড়েছে রেমিট্যান্সপ্রবাহ। আর এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকেও রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে।

তথ্য মতে, বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যের সাত দেশ থেকে মোট ৯২ কোটি ৬১ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অথর্ পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা একক মাস হিসাবে চলতি অথর্বছরে সবোর্চ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৮-১৯ অথর্বছরে প্রথম সাত মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে মোট ৯০৮ কোটি ৬১ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৫৩৩ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। প্রবাসী আয় পাঠানোর শীষের্ থাকা ১০ দেশের মধ্যে ৬টিই মধ্যপ্রাচ্যের। আর এর মধ্যে জানুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। দেশটি থেকে প্রবাসীরা মোট ২৯ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা মোট আহরিত রেমিট্যান্সের সাড়ে ১৮ শতাংশেরও বেশি। এ ছাড়া রেমিট্যান্সের তথ্য পযাের্লাচনায় দেখা গেছে, গত চার বছরের মধ্যে দেশে ২০১৪-১৫ অথবর্ছরে সবোর্চ্চ রেমিট্যান্স এসেছে। এ সময় রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ মাকির্ন ডলার। আর সবের্শষ ২০১৭-১৮ অথর্বছরের ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা তার আগের অথর্বছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের অথর্নীতির অন্যতম প্রধান সূচক প্রবাসী আয় সুখবর দিয়ে শেষ হয়েছিল ২০১৮ সাল। আবার যখন মধ্যপ্রাচ্যে থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে এমন খবর সামনে আসলো, তখন বিষয়টি সন্তোষজনক। ফলে প্রবাসী আয়প্রবাহ বৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। সংশ্লিষ্টদের এটিও মনে রাখা দরকার, নানা সময়ে এমন বিষয় আলোচনায় এসেছে যেÑ দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করে বৈদেশিক আয় দ্বিগুণ করা যায়। ফলে এ ব্যাপারে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়েও অগ্রসর হওয়া জরুরি। কেননা, বাংলাদেশ একটি জনসংখ্যাবহুল দেশ। ফলে জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে এবং দক্ষ জনশক্তি যত বেশি বাড়বে ততই নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি হবে। যা প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে আরও বেশি ভ‚মিকা রাখবে বলেই মনে করা সঙ্গত। সরকারও নীতিনিধার্রকরা জনশক্তি রপ্তানি এবং শ্রমবাজার বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সময়েই নানা ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনিভাবে রেকডর্ পরিমাণ রেমিট্যান্সও দেশে এসেছে। আমরা মনে করি, প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ইতিবাচক এ ধারা অব্যাহত রাখতে নতুন নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে দক্ষ জনশক্তি আর সেই লক্ষ্যে বাড়াতে হবে প্রশিক্ষণের পরিধিও। সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে যে কোনো সংকট সামনে আসলে তাও সুষ্ঠুভাবে সমাধান করতে হবে।

সবোর্পরি বলতে চাই, বতর্মানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন এমনটি জানা যায় এবং তাদের পাঠানো অথর্ বাংলাদেশে অথর্নীতিতে গুরুত্বপূণর্ অবদান রেখে আসছে। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি পযের্বক্ষণ সাপেক্ষে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে সবার্ত্মক প্রচেষ্টা জারি থাকুক এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে