logo
  • Wed, 21 Nov, 2018

  অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার মোহাম্মদ মেহেদি আকতার   ১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

এটি শুধু সংখ্যার বিষয় নয়, নীতিবোধ, ধমর্, দশর্ন, জৈবিক চাহিদা ইত্যাদি বহু প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত । তাই জনবিস্ফোরণ ঠেকাতে পারিবারিক-সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পযাের্য় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

জনসংখ্যা বোঝা নাকি সম্পদ?

জনসংখ্যা বলতে কোনো নিদির্ষ্ট জাতি বা ভৌগোলিক এলাকার মোট লোকসংখ্যাকে বুঝায়, জনসংখ্যা ছাড়া কোনো সমাজ বা রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না। ১৯৮৭ সালের ১১ জুলাই বিশ্বের জনসংখ্যা ৫০০ কোটিতে উন্নীত হয়। জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাসী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে এবং এটি সমাধানের পথ খুঁজতে থাকে। এই ধারাবাহিকতায় ইউএনডিপির গভানর্্যান্স কাউন্সিল প্রতি বছর এই দিনটিকে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব করে। পরবতীের্ত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৮৯ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রতি বছর ১১ জুলাই “বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালন” করে আসছে। “জনসংখ্যা দিবস ২০১৮” এর প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে “ঋধসরষু চষধহহরহম রং ধ ঐঁসধহ জরমযঃ” অথার্ৎ “পারিবারিক পরিকল্পনা একটি মানব অধিকার”।

প্রবাদ আছে, যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী সে জাতি তত বেশি উন্নত, তাই রাষ্ট্রের উন্নয়নে জনবল এর ভ‚মিকা অনস্বীকাযর্। কিন্তু অতিরিক্ত জনসংখ্যা সমাজ বা দেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দঁাড়ায়। অতিরিক্ত জনসংখ্যা কি আশীবার্দ নাকি অভিশাপ এটা নিয়ে কিছুটা বিতকর্ আছে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন পৃথিবীতে যা সম্পদ রয়েছে এতে সবোর্চ্চ ২০০ থেকে ৩০০ কোটি মানুষের বসবাস সম্ভব, কিন্তু বতর্মানে সারা পৃথিবীতে ৭৬০ কোটি মানুষ বসবাস করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে জনসংখ্যা কমিয়ে প্রকৃতির উপর নিযার্তন বন্ধ করা উচিত। তবে জাতিসংঘ জনসংখ্যা না কমিয়ে বরং অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। তাদের মতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও উন্নত বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে বধির্ত জনসংখ্যার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূণর্ দেশ। ১৮৬০ সালে বাংলাদেশের ভ‚খÐে জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২ কোটি। ১৯৪১ সালে যা বেড়ে দঁাড়ায় ৪ দশমিক ২০ কোটি। অথার্ৎ ৮০ বছরে মাত্র দুই কোটি জনসংখ্যা বাড়ে। আবার ১৯৬১ সালে জনসংখ্যা ছিল ৫ দশমিক ৫২ কোটি যা ১৯৯১ সালে তা বেড়ে দঁাড়ায় ১১ দশমিক ১৫ কোটি। ত্রিশ বছরে দ্বিগুণ জনসংখ্যা বেড়েছে। সাড়ে সাত কোটি জনসংখ্যা নিয়ে বাংলাদেশের জন্ম। বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সালে দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ২৭ লাখ। ২০১৬ সালের ১ জুলাইতে এই জনসংখ্যা বেড়ে দঁাড়ায় ১৬ কোটি ৮ লাখ। দেশের বতর্মান জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার। এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৭ সালের ১লা জানুয়ারির সবের্শষ হিসাব অনুযায়ী, দেশে এখন মোট পুরুষের সংখ্যা ৮ কোটি ১০ লাখ এবং মহিলার সংখ্যা ৮ কোটি সাড়ে ৭ লাখ জন। হিসেবে দেখা যায় গত তিন যুগে তা দ্বিগুণের ও বেশি বেড়েছে। জরিপের তথ্যানুযায়ী দেশে পঁাচ বছরের ব্যবধানে ৪ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার কমেছে প্রায় ২২ ভাগ। মাতৃমৃত্যু হারও কমেছে। গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭১ দশমিক ৬ বছর। সাক্ষরতার হার বেড়ে হয়েছে ৭১ শতাংশ। তবে এক থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুমৃত্যুর হার গত তিন বছরেও কোন পরিবতর্ন হয়নি। প্রতি-হাজারে মৃত্যুহার ৯ জনে স্থির রয়েছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার বাড়েনি পঁাচ বছরেও। তাছাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে মাইগ্রেশন বা স্থানান্তর। গ্রাম থেকে শহরমুখী হওয়ার ফলে গ্রামের তুলনায় শহরে জনসংখ্যার চাপ ব্যাপক হারে বাড়ছে। বাড়তি জনসংখ্যার জন্য প্রয়োজন বাড়তি বাসস্থান ফলে প্রতিনিয়তই উজাড় হচ্ছে বন, হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য, কমছে আবাদি জমি, সবোর্পরি প্রকৃতি হারাচ্ছে ভারসাম্য। ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর দিকে তাকালে চোখে পড়ে মানুষের অবস্থা। রাস্তা, ফুটপাত, অলিগলি পাকর্ যে যেখানে যেভাবে পারছে মাথাগেঁাজার ব্যবস্থা করে নিচ্ছে। নিরাপদ আবাসস্থলের কারণে স্বাস্থ্য ও জীবন ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

দেশের জনসংখ্যা বোঝা নয়, এটি সম্পদ। জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের ভাষায় বাংলাদেশের জন্য এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনসংখ্যা থেকে ‘লভ্যাংশ’ পাওয়ার সময়। জনমিতির পরিভাষায় ডিভিডেন্ড বলতে বোঝায় ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী মানুষের আধিক্য। এ বয়সসীমার মানুষই সবচেয়ে কমর্ক্ষম, যারা জাতীয় অথর্নীতিতে অবদান রাখতে পারেন। সেখানে বাংলাদেশে ৬৫ শতাংশ মানুষের বয়স ১৫ থেকে ৫৯ বছরের এর মধ্যে। এই সময়কে জনসংখ্যার বোনাসকাল বলে। আর এই সময়টাতে নিভর্রশীল জনগোষ্ঠী সবচেয়ে কম থাকে। আর সবচেয়ে বেশি থাকে কমর্ক্ষম জনসংখ্যা। কিন্তু দুঃখের বিষয় এ সুবণর্ সুযোগ ভেস্তে যাচ্ছে। বতর্মানে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল অংশ বেকারত্বের বোঝা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দিনের পর দিন চাকরির বাজারে ছোটাছুটি করে চাকরি না পেয়ে তাদের মাঝে জন্ম নিচ্ছে হতাশা। আর হতাশা থেকে তাদের কমর্শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। অথচ একটি রাষ্ট্র জনসংখ্যা পরিবতের্ন এ সুযোগ একবারই পেয়ে থাকে।

সাধারণত জনসংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি হয় জন্ম, মৃত্যু ও দেশান্তর এই তিনটি কারণে আমাদের দেশে নিদির্ষ্ট কিছু কারণে জনসংখ্যার হার বাড়ছে। বাংলাদেশে জনসংখ্যা সমস্যা নিয়ন্ত্রণে নিন্মক্ত কমর্সূচির গ্রহণ করা যেতে পারে।

পরিবার পরিকল্পনার কমর্সূচির কাযর্ক্রম আরও ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে। এ ছাড়া মাঠকমীর্ ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, অধিক ক্লিনিকের স্থাপনা এবং উন্নত যন্ত্রপাতি ও ওষুধপত্রের সরবরাহ নিশ্চিত থাকতে হবে। বিপুল জনসংখ্যাকে কমর্ক্ষম শ্রমিকের প্রশিক্ষণ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিমের উন্নত দেশে প্রেরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়বে, বেকারত্ব দূর হবে সঙ্গে সঙ্গে জনসংখ্যার স্থায়ী সমাধান হবে। বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে। নারী শিক্ষার হার বাড়াতে হবে। বেতার, নাটক, যাত্রা, টেলিভিশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে এ সমস্যার ভয়াবহতা সম্পকের্ জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। জনসংখ্যার ক্ষতিকর দিক সম্পকের্ জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের প্রধান সমস্যা হচ্ছে জনসংখ্যার দ্রæত বৃদ্ধি। বাংলাদেশকে একটি আত্মনিভর্রশীল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে জনসংখ্যা নীতির পূণার্ঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে।

এটি শুধু সংখ্যার বিষয় নয়, নীতিবোধ, ধমর্, দশর্ন, জৈবিক চাহিদা ইত্যাদি বহু প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত । তাই জনবিস্ফোরণ ঠেকাতে পারিবারিক-সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পযাের্য় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

লেখকদ্বয় : যথাক্রমে স্টামফোডর্ ইউনিভাসিির্ট বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক ও গবেষণা শিক্ষাথীর্।

শধসৎঁষথংঁন@যড়ঃসধরষ.পড়স
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে