logo
  • Wed, 21 Nov, 2018

  ড. ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ   ১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

প্রগতি ও উন্নয়নে জাতীয় একাত্মতা ও সংহতির কোনো বিকল্প নেই

জাতীয় উন্নয়নে আমাদের সকলকে সব বিভেদ ভুলে গিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে একযোগে সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তবেই সম্ভব হবে সুখী ও সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়া। জাতির অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে থাকা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ একদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে এক সুতোয় গেঁথেছিল। আমাদের সামনে এগুতে হলে মুক্তিযুদ্ধের সমন্বয়ের মতো আজ ষোলো কোটি জনগণকে ঐক্যের পথ বেছে নিতে হবে।

সংহতি একটি ব্যাপক শব্দ এবং এটি মানবীয় সম্পকর্ ও দৃষ্টিভঙ্গির এক বৃহত্তর ক্ষেত্রকে আওতাভুক্ত করে। তাই সংহতি কথাটি বিভিন্ন অথের্ ব্যবহৃত হয়েছে। এটি একদিকে সরকারের সেই ক্ষমতাকে বোঝায়, যার বলে রাষ্ট্র সীমারেখার ভেতরে যাবতীয় সংগঠনের ওপর কতৃর্ত্ব চালাতে পারে এবং অন্যদিকে এটি জনগণের যাবতীয় আঞ্চলিক ও সংকীণর্ দৃষ্টিভঙ্গি দূরীভ‚ত করে এমন এক মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করে যা তাদের সকল স্থানীয়, আঞ্চলিক ও সংকীণর্ অনুভ‚তির ঊধ্বের্ জাতীয় চেতনাকে স্থাপন করে। আরেক দল পÐিতের মতেÑ সংহতি হলো বিভিন্ন রাজনৈতিক কাঠামো ও কাযর্প্রণালীর সেই নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়া, যা একটি নিদির্ষ্ট জাতীয় ভ‚খÐের অন্তগর্ত বিচ্ছিন্ন উপাদানগুলোকে অথর্বহ রাজনৈতিক অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। বিভিন্ন কারণে জাতীয় সংহতি বা রাজনৈতিক সংহতি একটি দেশের জন্য গুরুত্বপূণর্ সমস্যায় পযর্বসিত হয়ে থাকে। এ সমস্যার ফলেই দেশের জাতীয় ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা হয়। এর ফলে একটা দেশের উন্নয়নের গতি হ্রাস পায়। একটি উন্নয়নশীল দেশে ভাষা, বণর্, জাতিগত বিভিন্ন সমস্যা থাকে। একটি দেশেই অনেক ধরনের বণের্র, ভাষাভাষীর লোক বাস করে। এর ফলে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। এসব উন্নয়নশীল দেশের সংহতি সমস্যা কখনই পুরোপুরি মিটে যায় না। বাংলাদেশে কিছুটা হলেও এ জাতীয় সমস্যা আছে। বাংলাদেশের অনেক উপজাতির বসবাস, তারা শান্তির জন্য শান্তিচুক্তি করেছে, তবে এখনও তা পরিপূণর্ভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

প্রবাদ আছেÑ ‘একতাই বল’। আমাদের জাতীয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে একতার প্রয়োজন সবাির্ধক। পৃথিবীতে যে ব্যক্তি নিঃসঙ্গ এবং একা সে নিঃসন্দেহে অসহায়। ঐক্যবদ্ধ জীবনপ্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন বলে সে শক্তিতে সামান্য। পৃথিবীর আদিপবের্ মানুষ ছিল ভীষণ অসহায়। তখন ঐক্যবদ্ধহীন ছিল মানুষ। সভ্যতার উষালগ্নে মানুষ উপলব্ধি করলÑ ঐক্যবদ্ধ জীবন ছাড়া পৃথিবীর সমস্ত প্রতিকূলতার কাছে সে তুচ্ছ। তখন মানুষ স্বীয় প্রয়োজনে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য গড়ে তুলে সমাজবদ্ধ জীবন ও গড়ে ওঠে সামাজিক বলে বলীয়ান। জাতীয় জীবনে যারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে চলে তাদের শক্তি অসীম। ঐক্যই প্রকৃত শক্তি।

সভ্যতার উন্নতির বিকাশে চাই মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস। জাতীয় ঐক্যই পারে যে কোনো উন্নয়নের স্বণির্শখরের চ‚ড়ায় আরোহণের। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূতির্ উদযাপন করা হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে সাম্য, মানবিক মযার্দা আর সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন দেখেছিলাম একদিন আমরা, তার কতটা পূরণ হয়েছেÑ সে হিসাব করার এখন সময় এসেছে। বাংলাদেশ আজ নি¤œমধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। বতর্মান সরকারের প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের মযার্দায় পেঁৗছবে বাংলাদেশ। দক্ষ ও কমর্ক্ষম জনসম্পদ, কৃষিতে বিপ্লব, প্রবৃদ্ধি নিঃসন্দেহে দেশের জন্য আশার বাতার্ বহন করে। তবে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শুধু অথৈর্নতিক আর অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়। টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই একটি অংশীদারিমূলক, সামাজিক, অথৈর্নতিক ন্যায়বিচারসম্পন্ন, জনকল্যাণমূলক সহিষ্ণু, শক্তিকামী ও সমৃদ্ধ সমাজ। জাতীয় ঐক্যই দেশকে সুন্দর, সুদৃঢ় ও সংহতির চরম পযাের্য় উঠাতে সহায়ক ভ‚মিকা পালন করে থাকে। জাতীয় একাত্মতা ঠিক করবে আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে।

শক্তি বা সামথের্্যর ক্ষুদ্রতার কারণে একক মানুষ সকলের নিকট উপেক্ষিত ও অবাঞ্ছিত। বাংলাদেশের গৌরবময় বিজয়কে জাতীয় জীবনে স্থিতিশীল করে রাখার শপথ নিয়ে দেশ ও জাতির জন্য আমাদের কাজ ঐক্যবদ্ধভাবে করে যেতে হবে। জাতীয় জীবনের চেতনাকে সবর্ত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের জাতীয় জীবনের ঐক্যই বিভিন্ন সমস্যা, সংকট, অভাব, অনটন, অশিক্ষা, দারিদ্র্য দূর করে দেশকে একটি আত্মনিভর্রশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেই স্বাধীনতাপ্রাপ্তি সকল দিক থেকে অথর্বহ হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমাদের ভৌগোলিক স্বাধীনতা এলেও পুরোপুরিভাবে অথৈর্নতিক মুক্তি এখনও আসেনি। আমাদের সকলকে তাই অথৈর্নতিক মুক্তির জন্য জাতির কল্যাণের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

জাতীয় একাত্মতা প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্য একান্ত আবশ্যক। জাতীয় একাত্মতার অভাবে অনেক রাষ্ট্রের পতন ঘটেছে। আবার এর প্রভাবে অনেক রাষ্ট্র শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে। জাতীয় একাত্মতার অভাবেই পাকিস্তান তৎকালীন পূবর্ পাকিস্তানকে ধরে রাখতে পারেনি। সোভিয়েত ইউনিয়ন পারেনি এর অখÐতা রক্ষা করতে। এই জাতীয় একাত্মতার সমস্যা আধুনিক বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রেই প্রকট আকার দেখা দিয়েছে। লুসিয়ান পাই তার ‘অংঢ়বপঃং ড়ভ চড়ষরঃরপধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ’ নামক গ্রন্থে রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংকটসমূহকে ৬টি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো জাতীয় একাত্মতার সংকট। বিশেষ করে বৃহদায়তন রাষ্ট্রের জন্য এটি একটি মারাত্মক সমস্যা হয়ে দঁাড়িয়েছে। আমাদের দেশে জাতীয় একাত্মতার সমস্যা তেমন একটি নেই। তথাপিও যতটুকু আছে তাকে মোটেই ছোট করে দেখা যায় না।

একাত্মতা একটি জটিল ও কঠিন বিষয়। একে এক কথায় বা খুব সংক্ষেপে প্রকাশ করা যায় না। যাই হোক জাতীয় একাত্মতা বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে বোঝায় যার মাধ্যমে বিভিন্ন দিক দিয়ে বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীকে একটি অখÐ ভৌগোলিক ইউনিটের আওতায় নিয়ে আসা যায় এবং তাদের জাতীয় এক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করা সম্ভব হয়। কাজেই জাতীয় একাত্মতা একটি ভ‚খÐগত ঐক্যের চেতনা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই চেতনা জাতীয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে সহায়ক অন্য সব উপাদানকে ¤øান করে দেয় বা গুরুত্বহীন করে তোলে। আমরা এ কথা বলতে পারি যে, রাজনৈতিক অগ্রগতির জন্য একাত্মতার প্রয়োজন অত্যধিক। বিভিন্ন ভাষাভাষী, ধমার্বলম্বী, বিভিন্ন সংস্কৃতি ও বিভিন্ন এলাকা ও অঞ্চলের জনগণের মধ্যে এমন ঐক্যানুভ‚তি সৃষ্টি করতে হবে যাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করেও জনসাধারণ একটি রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে গবর্ ও অহংকার অনুভব করতে পারে।

তাছাড়া এটাও মনে রাখা দরকার, জাতীয় ঐক্য মানে কিন্তু এই নয় যে, দেশের সব মানুষ কোনো একটি বিষয়ে একমত পোষণ করবে। দুনিয়ার কোথাও সব মানুষ কোনো সময় কোনো ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে না, একমত হতে পারে না। তবে অধিকাংশ মানুষ একমত হওয়াটাকে আসলে জাতীয় ঐকমত্যের লক্ষণ বা প্রতিফলন হিসেবে ধরা হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও প্রকৃতপক্ষে দেশের সব মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন না। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে আমরা যতটা খাটো করে দেখি, প্রকৃত অবস্থা সে রকম নয়। ১৯৭০-এর নিবার্চনে আওয়ামী লীগ একচেটিয়া বিজয় অজর্ন করেছিল। তার মানে এই নয় যে, দেশে তখন আওয়ামী লীগবিরোধী কোনো মানুষ ছিল না। ১৯৭০-এর নিবার্চনেও কমবেশি ৩০ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেই ভোট দিয়েছিল। বিরোধীরা কোনো আসন পায়নি কিন্তু ভোট পেয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় তারা পক্ষবদলও করেনি। তাই এটা ধরে নেওয়া ঠিক যে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিরোধিতাকারীদের সংখ্যাও প্রায় ওই রকমই ছিল। অথার্ৎ দেশের বেশির ভাগ মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল বলেই আমাদের পক্ষে যুদ্ধে জয় সম্ভব হয়েছে। তাই যে কোনো ইস্যুতে ঐক্য বলতে কোনো সময়েই সব মানুষের ঐক্য বোঝায় না।

যে কোনো ইস্যুতে ঐক্য বলতে কোনো সময়েই সব মানুষের ঐক্য বোঝায় না। অবশ্য সব ক্ষেত্রে বিরুদ্ধবাদীদের সাথে ঐক্য হয় না। ঐক্য হয় সমমনাদের সাথেই। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনেক ইস্যুতে একাত্ম হওয়ার থাকে না। থাকলেও তা কাযর্কর করতে তারা উষ্মা প্রকাশ করে থাকেন। তবে এ ক্ষেত্রে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, ভ‚মিদস্যুতা, মাদক, রোহিঙ্গা সমস্যা ইত্যাদি বিষয়ে রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে যে ভাবনাই থাকুক না কেন, নিরঙ্কুশ জনগণ সামাজিকভাবে তার প্রতিকার চায় ও প্রতিহত করে থাকে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ইস্যুতে যে মতের বা পক্ষের হোক না কেন, তাকে জাতীয় স্বাথের্ একাত্ম হওয়া প্রয়োজন। আবার মাদকবিরোধী আন্দোলনকেও সামাজিক আন্দোলন হিসেবে না দেখে উপায় নেই। একটা বিষয় আমাদের সজাগ ও সচেতন থাকা প্রয়োজন যে সরকারি দলকে ঢালাওভাবে বিএনপির মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের এবং জামায়াতবিরোধী আছেন তাদের সম্পকের্ কঠোর অবস্থান যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য হবে না। অথার্ৎ তাদেরকে শুধুই দোষারোপের জন্য দোষী বা দাগি বলে আখ্যায়িত করাটা যুক্তিযুক্ত হবে না। এতে বিভেদ বাড়বে বৈ কমবে না। বিএনপিকে ঢালাওভাবে রাজাকার বা জঙ্গিবাদের দল হিসেবে প্রচার করাটা সুবিবেচনাপ্রসূত না। ব্যক্তি লোভ, হিংসা, পরশ্রীকাতরতা এবং মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নামক প্রবণতার জন্ম দিয়ে থাকে। অতএব কে কখন কীভাবে সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদের শিকার হয়ে পড়েন তা সঠিকভাবে শনাক্ত করাটাও কঠিন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন কারণে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি যে কোনো পরিবারের যে কেউই উপরিউক্ত দুষ্টক্ষতের জন্য জঙ্গি, সন্ত্রাসী বা মাদকসেবী হয়ে ব্যক্তি, পরিবার, দল ও সমাজের ভাবমূতির্ নষ্ট করে থাকতে পারে। কাজেই হাওয়ায় তলোয়ার না ঘুরিয়ে বাস্তবের কঠিন জমিনে পা রেখেই বৃহত্তর ঐক্যের ভিত্তি রচনা করতে হবে। তবে বতর্মান সরকারের যে ডিজিটাল রূপরেখা, উন্নয়নশীল দেশের কমর্সূচি বাস্তবায়ন, অব্যাহত ধারার উন্নয়ন লক্ষ্য, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পদাপর্ণ, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের তালিকাভুক্ত হওয়াÑ এ সকল বিষয়ে অন্তত দলমত নিবিের্শষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

জাতীয় উন্নয়নে আমাদের সকলকে সব বিভেদ ভুলে গিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে একযোগে সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তবেই সম্ভব হবে সুখী ও সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়া। জাতির অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে থাকা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ একদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে এক সুতোয় গেঁথেছিল। আমাদের সামনে এগুতে হলে মুক্তিযুদ্ধের সমন্বয়ের মতো আজ ষোলো কোটি জনগণকে ঐক্যের পথ বেছে নিতে হবে।

তাই জাতীয় উন্নয়নের জন্য জাতীয় একাত্মতা ও সংহতির কোনো বিকল্প নেই।

ড. ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ: কলামিস্ট ও গবেষক

ভড়ৎয়ধহ.রহভড়@মসধরষ.পড়স
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে