logo
  • Mon, 16 Jul, 2018

  অনলাইন ডেস্ক    ১১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

আমানতে উচ্চ মুনাফার টোপ

যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে

একটি দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধি অজের্নর ক্ষেত্রে অথৈর্নতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার বিকল্প নেই। আর বলার অপেক্ষা রাখে না, এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকিং খাতের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূণর্। সঙ্গত কারণেই এই খাতে যে কোনো ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা থাকলে তা আমলে নিয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। সম্প্রতি খবরে প্রকাশ, সুদনিভর্র অনেক পরিবার এখন ব্যাংক ছেড়ে অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকতে পারেন এমন বিষয় উঠে এসেছে। এ ছাড়া ব্যাংক ও আথির্ক প্রতিষ্ঠানের বাইরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্রঋণ দান ও সমবায় সমিতির নামে গজিয়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানে বেশি মুনাফার আশায় সঞ্চয় জমা রাখতে উৎসাহিত হবেন এমন বিষয়ও সামনে আসছে।

প্রসঙ্গত বলা দরকার, ব্যাংকগুলো এখন সবোর্চ্চ ৬ শতাংশ সুদে আমানত নিচ্ছে। কিন্তু উচ্চ মুনাফার টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমানত নিচ্ছে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান ফলে এই বিষয়টি এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। জানা গেছে, সমবায় সমিতির এসব প্রতিষ্ঠান আমানতে সুদ দিচ্ছে ২০ শতাংশ পযর্ন্ত। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, প্রতারিত হওয়ার নানা দৃষ্টান্ত থাকলেও এক শ্রেণির মানুষ এ ফঁাদে আবারও পা দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমরা বলতে চাই, ব্যাংকে আমানতের সুদহার সবির্নম্ন পযাের্য় নেমে আসায় এ প্রবণতা বাড়তে পারেÑ এমন আশঙ্কায় অমূলক নয়, ফলে অবৈধ ব্যাংকিং ঠেকাতে তৎপরতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকও।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সৃষ্ট পরিস্থিতিতে করণীয় নিধার্রণ এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। এমন ঘটনাও সামনে এসেছে যে, একজন প্রায় ১৫ লাখ টাকা ১২ শতাংশ সুদে একটি বেসরকারি ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করেন। কিন্তু ১ জুলাই থেকে সুদহার ৬ শতাংশে নেমে আসায় দিশেহারা তিনি। এখন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে অন্য কোথাও তা বিনিয়োগের চিন্তা করছেন। দেখা যাচ্ছে অনেকেই বেশি সুদে আমানত রাখলেও আমানতে সুদ কমে আসায় ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নিয়ে উচ্চ মুনাফার ঠিকানা খুঁজছেন। এভাবে অনেকেই বিকল্প সন্ধানে নামছেন, ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি উদ্বেগজনক বলেই আমরা মনে করি। বেসরকারি ব্যাংকের এক কমর্কতার্ বলেছেন, মাত্র এক মাস আগে প্রায় ১১ শতাংশ সুদে ৮০ লাখ টাকা এক গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করেন তিনি। কিন্তু নতুন সুদ হারের কথা শুনে ওই গ্রাহক টাকা তুলে নেয়ার কথা জানিয়েছেন তাকে। কমর্কতার্ জানিয়েছেন, আমানতের এমন হার বজায় থাকলে ব্যাংকের তারল্য সংকট দেখা দিতে পারে।

আমরা বলতে চাই যে, যখন সমবায় সমতিগুলো ১৫ থেকে ২০ শতাংশ সুদ অফার করছে এবং ব্যাংকে সুদ হার কমায় আমানতকারীরা অনেকেই টাকা তুলে বিকল্প চিন্তা করছে আর এর পরিপ্রেক্ষিতে তারল্য সংকটের বিষয়ও সামনে আসছে, তখন সংশ্লিষ্টদের কতর্ব্য হওয়া দরকার এর পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত করা। উল্লেখ্য, এর আগে এমন আশঙ্কা সামনে এসেছিল যে, যদি আমানতের সবোর্চ্চ সুদের হার হবে ৬ শতাংশ আর ঋণের সুদহার হবে ৯ শতাংশ, তবে আমানতকারীরা আগ্রহ হারাবে কিনা! কেননা আমানতের সুদহার কম, এই কারণে ব্যবসায়ীরা সঞ্চয়পত্রের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারে। এনআরবি কমাশির্য়াল (এনআরবিসি) ব্যাংকের চেয়ারম্যানও বলেছিলেন, ব্যাংকের সুদহার কমানোর পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রের দিকে নজর দিতে হবে। আর এখন আবার আমানতে উচ্চ মুনাফার টোপের বিষয়টি সামনে আসছে।

সবোর্পরি আমরা বলতে চাই, যখন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তখন তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনিভাবে এর ফল যেন ইতিবাচক হয় সেই বিষয়টিকে সামনে রেখে কাযর্কর পদক্ষেপ গ্রহণ সমীচীন। বলাই বাহুল্য, বিভিন্ন সময়েই ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে যা কোনোভাবেই সুখকর নয়। ফলে ব্যাংকিং খাতের সুশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যথাযথ উদ্যোগ জারি রাখতে হবে। আর যখন সমবায় সমিতি এবং নানারকম অবৈধ ব্যাংকি এর উচ্চ মুনাফার অফারের বিষয়টি সামনে আসছে তখন এর প্রভাব কী হতে পারে সেটি বিবেচনায় নিতে হবে। সামগ্রিকভাবে পুরো বিষয়টি আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত হোক এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

উনিশ বিশ
নন্দিনী

উপরে
Error!: SQLSTATE[42000]: Syntax error or access violation: 1064 You have an error in your SQL syntax; check the manual that corresponds to your MySQL server version for the right syntax to use near 'WHERE news_id=2862' at line 3