logo
  • Sat, 17 Nov, 2018

  এফ এইচ চৌধুরী ঢাকা   ২১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০  

যানজট নিরসন আদৌ হবে কি?

যানজট নিরসন আদৌ হবে কি?
ইদানীং প্রায়ই হরতাল হচ্ছে। ফলে দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘœ ঘটছে। অনেক সময় হরতাল হচ্ছে টানা ২/৩ দিন। এ অবস্থায় হরতাল শেষ হওয়ার পরপরই কিংবা হরতালের আগের দিন রাস্তাঘাটে মারাত্মক ভিড় সৃষ্টি হতে দেখা যাচ্ছে। হরতালের আগের দিন কিংবা হরতালের অবকাশে নগরীসহ বিভিন্ন স্থানের লোকজনকে মাকের্ট, বিপণি ও দোকানপাটে হুমড়ি খেয়ে পড়তে দেখা যায়। এতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। আর যানজটে পড়ে লোকজনকে সীমাহীন দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে।

প্রায় সোয়া কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত ঢাকা মহানগরী ইতোমধ্যে বিশ্বের অন্যতম মেগাসিটি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মেগাসিটি অভিধাটি গবের্র অনুষঙ্গ বলে বিবেচিত হলেও যানজটসহ নানা সমস্যায় ঢাকা মহানগরী বিশ্বের শীষর্স্থানীয় সমস্যাবহুল নগরী হিসেবেও বদনাম কিনেছে। জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারের পর ঢাকাকে নাগরিক সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে বাজে নগরী বলে ভাবা হয়। ঢাকার যানজট এতটাই দুনার্ম কিনেছে যে সস্তা শ্রমশক্তি এবং প্রারম্ভিক নানা সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্তে¡ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যে কারণে বাংলাদেশমুখী হতে চায় না তার পেছনে ঢাকার যানজট অন্যতম দায়ী। দুভার্গ্যজনক হলেও সত্যি, যানজট তার আওতা রাজধানী ঢাকা ছাড়িয়ে সবকটি মহাসড়ককেও আক্রান্ত করেছে। ফলে শুধু ঢাকায় চলাচলই নয় রাজধানী থেকে বাইরের কোনো জেলায় যাওয়াও ঝক্কি-ঝামেলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সিএনজি, বাস যেখানে সেখানে দঁাড় করিয়ে রাখতে দেখা যায়। আগে ট্রাফিক পুলিশকে এখানকার যানজট নিরসনে তৎপরতা চালাতে দেখা যেতো। কিন্তু ইদানীং এই স্থানে তাদের তৎপরতা নেই বললেই চলে। একথা সত্য যে, দেশে রাজনৈতিক অস্থির ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষকে অত্যন্ত দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে। তাই হরতালের অবকাশে সুযোগ পেলেই হকাররা পণ্য নিয়ে ফুটপাত বা রাস্তায় বসে পড়ছে তাদের পণ্যসামগ্রী বিক্রির জন্য।

একটি শহরের জন্য মোট আয়তনের ২২ থেকে ২৫ ভাগ রাস্তা থাকা প্রয়োজন হলেও ঢাকায় এর পরিমাণ মাত্র ৮ ভাগ। এতটুকু রাস্তার মধ্যে অনেক জায়গাতেই অধের্ক যানবাহন পাকির্ংয়ের কারণে বেদখল থাকে। ফলে রাজধানীর এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় থেকে যেতে কয়েক মিনিটের জায়গায় কয়েক ঘণ্টা সময় লাগছে। প্রতি বছর ঢাকা মহানগরীতে গড়ে প্রায় ২১ হাজার নতুন গাড়ি রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে। যানবাহনের ভারে রাজধানীর অধিকাংশ রাস্তারই কাহিল অবস্থা। রাজধানীতে বিশেষ করে কঁাচপুর ব্রিজ থেকে সায়েদাবাদ পযর্ন্ত সড়কে প্রতিদিনই তীব্র যানজটে আক্রান্ত। এতটুকু রাস্তা পেরোতে সময় লেগে যাচ্ছে দেড় থেকে আড়াই ঘণ্টা পযর্ন্ত। এর পাশাপাশি দেশের অন্যতম মহাসড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-খুলনাসহ সব মহাসড়কেই যানজটের পরিমাণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কঁাচপুর ব্রিজ পেরোলেই চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেট থেকে রাজধানীতে প্রবেশে বাসযাত্রী ও প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহারকারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়ছে হচ্ছে।

রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে শহরের মাঝ বরাবর ট্রেন চলাচলকে। প্রতিদিন কমলাপুর স্টেশনে রাজধানীর ভেতর দিয়ে প্রায় ৭২টি ট্রেন চলাচল করে। এতে রাজধানীর প্রায় ২০টি রেলওয়ে গেট প্রতিটি ট্রেনের জন্য ন্যূনতম ৫ মিনিট হিসেবে প্রায় ৬ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এর প্রভাবে গোটা রাজধানীতেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে সব সরকারের সময়ে আলোচনা হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি এখনো।

যানজট নিরনে ঢাকার বিপণি বিতানগুলোকে ৭টি অঞ্চলে ভাগ করে সপ্তাহে নিদির্ষ্ট ১ দিন বন্ধ রাখা হলেও যানজটে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। এমনকি যানজট নিরসনে অফিস এবং স্কুলের সময়সূচি বদলেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে একের পর এক পদক্ষেপ নেয়া হলেও তা তেমন কোনো কাজে আসছে না। যানজট নিরসনে প্রয়োজন সমন্বিত পদক্ষেপ। বিচ্ছিন্নভাবে একক পদক্ষেপ নিয়ে এই সবর্গ্রাসী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। রাজধানীর রাস্তার তুলনায় যানবাহনের আধিক্য যানজটের জন্য অন্যতম দায়ী। এর পাশাপাশি রয়েছে ট্রাফিক নিয়ম না মেনে চলার প্রবণতা। ফুটপাত অপদখল, রাস্তার অব্যবহারও যানজটের অন্যতম কারণ। বিশাল ঢাকা মহানগরীতে ট্রাফিক পুলিশ রয়েছে তিন হাজারের মতো। ২০০৫ সালে রাজধানীর ৫৯ পয়েন্টে বৈদ্যুতিক ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হলেও যান্ত্রিক ত্রæটি তার একটা অংশকে অচল করে রেখেছে। মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের চাপে কোনো কোনো এলাকায় যান্ত্রিক ট্রাফিক সিগন্যাল অকাযর্কর হয়ে পড়েছে। রাজধানীর ২১০০ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে মোটরযান চলে মাত্র ২৮০ কিলোমিটার রাস্তায়। এর এক বড় অংশ হকার এবং অবৈধ পাকির্ংয়ের কারণে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে। আমাদের মতে, যানজট নিরসনে রাজধানীর রাস্তাগুলো প্রশস্তকরণ, ব্যাপকহারে ফ্লাইওভার নিমার্ণ, রাজপথ থেকে হকার উচ্ছেদ এবং অবৈধ পাকির্ংয়ের অবসান ঘটাতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলার ক্ষেত্রেও আরোপ করতে হবে কঠোর শৃঙ্খলা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে