logo
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

মোদি সরকারকে তোপ

দিলিস্নতে 'ভারত বাঁচাও' সমাবেশ কংগ্রেসের :মানুষের ঢল

নির্বাচনের পর সবচেয়ে বড় এই সমাবেশে একত্রিত হয়েছিলেন সোনিয়া, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা সংবিধানের মূল্যবোধ বজায় রাখতে আমরণ লড়াই

দিলিস্নতে 'ভারত বাঁচাও' সমাবেশ কংগ্রেসের :মানুষের ঢল
ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও সমসাময়িক অন্যান্য ইসু্যতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের অন্যায্য পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দিলিস্নর রামলীলা ময়দানে দলটির ডাকা 'ভারত বাঁচাও' সমাবেশে শনিবার হাজারো মানুষের ঢল নামে। সমাবেশের একাংশ -পিটিআই/আউটলুক ইনডিয়া
দীর্ঘ নিস্তব্ধতার পর আবারও জেগে উঠল ভারতের সর্বপ্রাচীন ও বর্তমান বিরোধীদল কংগ্রেস। দেশটির সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (ক্যাব) ও সমসাময়িক অন্যান্য ইসু্যতে সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দিলিস্নর রামলীলা ময়দানে দলটির ডাকা 'ভারত বাঁচাও' সমাবেশে শনিবার হাজারো মানুষের ঢল নামে। গত লোকসভা ভোটের পর দলটির সবচেয়ে বড় এই সমাবেশে একই মঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, সাবেক সভাপতি রাহুল ও সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। সংবাদসূত্র : ইনডিয়া টুডে, এনডিটিভি

সমাবেশে কংগ্রেস নেতারা নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করেছেন। এই সমালোচনায় নাগরিকত্ব বিল ছাড়াও অর্থনীতি ও নারী সুরক্ষার বিষয়টি স্থান পেয়েছে। সমাবেশটি এমন সময় আয়োজিত হলো, যখন বিজেপি শাসিত ঝাড়খন্ডে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন।

ভাষণে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বলেন, 'নাগরিকত্ব আইন ভারতের হৃদয় ছিন্নভিন্ন করবে। অথচ তা নিয়ে মোদি-অমিত শাহের কিছু যায় আসে না।' এ সময় ভারতকে বাঁচাতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান তিনি। সোনিয়া আরও বলেন, 'অবস্থা এখন এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তারা চাইলেই একটি ধারা জারি করতে পারে, চাইলে একটি ধারা বাতিল করতে পারে এবং চাইলেই রাজ্যের প্রকৃতি পাল্টে ফেলে। যেখানে ইচ্ছা সেখানেই রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা জারি করছে। বিল পাস করছে বিতর্ক ছাড়াই।'

রাহুল গান্ধীও নাগরিকত্ব আইনের সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এর মধ্য দিয়ে মোদি উত্তর-পূর্ব ভারতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন। ধর্ষণ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে বিজেপি তাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, 'আমার নাম রাহুল সাবারকার নয়, রাহুল গান্ধী। সত্য বলার জন্য কখনো ক্ষমা চাইব না।'

তিনি আরও বলেন, 'একটা সময় ছিল যখন এই দেশে ৯ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল, লোকজন চীন ও ভারতের সাফল্যের গল্প একসঙ্গে বলত। আমাদের 'চিনডিয়া' বলে ডাকত। কিন্তু এখন আমাদের দেশের দিকে তাকান। এখন এখানে দেশের মানুষ হাতে পেঁয়াজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পেঁয়াজ ২০০ রুপি কেজিতে পৌঁছেছে।'

সমাবেশে রাহুল বলেন, 'আমরা এখানে এসেছি এই বার্তা দিতে যে, কংগ্রেস দল পিছু হটবে না। আমরা এই জাতি ও আমাদের সংবিধানের মূল্যবোধ বজায় রাখতে আমাদের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করব।'

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, 'দেশের চলমান অবিচারের বিরুদ্ধে যারা লড়াই করবে না, তারা ভীতু। ভারত হলো ভালো, অহিংসা ও ভ্রাতৃত্বের দেশ। কিন্তু যদি আতঙ্ক ও মিথ্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার না হন, তাহলে সংবিধান ধ্বংস হয়ে যাবে। বিজেপি-আরএসএসের মিথ্যাবাদী ও বেপরোয়া নেতাদের মতোই আমরাও সেজন্য দায়ী থাকব।' সমাবেশে রাহুল গান্ধীকে 'আমার নেতা' উলেস্নখ করে সরকারের 'মোদি থাকলে সব সম্ভব' স্স্নোগান নিয়েও ব্যঙ্গ করেন তিনি। এদিনের সমাবেশে সদ্য কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা পি. চিদাম্বরমও বক্তব্য রাখেন।

এদিকে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনসহ নানা ইসু্যতে কংগ্রেসের করা আক্রমণের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি শাসক দল বিজেপির পক্ষ থেকে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে