logo
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৬

  ক্রীড়া প্রতিবেদক   ১৮ মে ২০২০, ০০:০০  

ভিন্নভাবে সেঞ্চুরি উদ্‌যাপন মুমিনুলের

আমি চাচ্ছিলাম যে, কিছু একটা করতে। আর আলস্নাহর রহমত ছিল, ভাগ্যও ভালো ছিল। আর আমার মনে হয়েছিল, তেমন ইনিংস না খেলতে পারলে টেস্ট দলে আমার জায়গা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যেত। ভাগ্যিস সেই ইনিংসটা হয়েছে, আর তাই আমার ভেতর থেকে অটোমেটিক উদ্‌যাপনটি হয়ে গিয়েছিল

ভিন্নভাবে সেঞ্চুরি উদ্‌যাপন মুমিনুলের
টেস্টে শ্রীলংকার বিপক্ষে ১৭৬ রান করার পর বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকের উচ্ছ্বাস -ফাইল ফটো

শান্ত স্বভাবের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিতি আছে মুমিনুল হকের। বড় কোনো অর্জনে সেভাবে আবেগের প্রকাশ ঘটান না। কিন্তু ২০১৮ সালে টেস্টে সেঞ্চুরি করেই একটু ভিন্নভাবে উদ্‌যাপন করেছিলেন। শূন্যে ছুঁড়েছেন ঘুষি! জানুয়ারিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে মুমিনুলের ওই উদ্‌যাপনে কিছুটা ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছিল। শনিবার তামিম ইকবালের লাইভ আড্ডায় সেই উদ্‌যাপনের কারণ তুলে ধরেছেন মুমিনুল। ওই টেস্টে মুমিনুলের করা ১৭৬ রান ও ১০৫ রানের ওপর ভর করেই ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। মুমিনুলকে করা তামিমের প্রশ্নটা ছিল, 'মুমিনুল আমি তোর অনেকগুলো টেস্ট সেঞ্চুরি দেখেছি। কিন্তু আমি লক্ষ্য করছি, তোর মধ্যে আবেগ খুব একটা কাজ করে না। আর যদি করেও থাকে, তাহলে সেটা তুই প্রকাশ করিস না। কিন্তু একটা ইনিংসের কথা আমার মনে আসছে। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংয়ের বিপক্ষে যেটা আমরা প্রথম টেস্ট খেলেছি, শ্রীলংকার সঙ্গে। যা ওরা আমাদের দেশে এসে খেলেছে। সাধারণত তুই খুব অল্প উদযাপন করিস। কিন্তু সেদিন আমি তোকে প্রথমবারের মতো দেখেছি, খুব রাগের মাথায় উদ্‌যাপন করতে। এর পেছনের কাহিনী কী?' উত্তরে মুমিনুল জানান, 'সত্যি বলতে কি, হাথুরুর ইচ্ছাতেই আমি বাংলাদেশের শততম টেস্টে বাদ পড়েছিলাম। এ ছাড়াও বাংলাদেশ যেবার অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জেতে, তখনকার আগে-পরে মিলিয়ে আমার খারাপ সময় যাচ্ছিল।' মূলত জেদের কারণেই ওমন উদ্‌যাপন করেছেন বলে জানান মুমিনুল, 'আসলে সবার মতোই আমার ভেতর তখন হালকা একটু জেদ কাজ করেছিল। বিষয়টা এমন না যে, আমি করে দেখিয়ে দেব- এমন কিছু ভেবেছি। তবে আমি চাচ্ছিলাম যে, কিছু একটা করতে। আর আলস্নাহর রহমত ছিল, ভাগ্যও ভালো ছিল। আর আমার মনে হয়েছিল, তেমন ইনিংস না খেলতে পারলে টেস্ট দলে আমার জায়গা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যেত। ভাগ্যিস সেই ইনিংসটা হয়েছে, আর তাই আমার ভেতর থেকে অটোমেটিক উদ্‌যাপনটি হয়ে গিয়েছিল।' জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুরে অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম টেস্ট জিতে আসার দিন মুমিনুল হক শুনিয়েছিলেন কীভাবে সামলাচ্ছেন পরিস্থিতি। অধিনায়কত্বের ভার সামলে প্রয়োজনে নাকি তিনি কঠোরও হচ্ছেন, এমনকি সিনিয়র ক্রিকেটারদেরও ঝাড়ি মারতে ছাড়েন না। তামিম ইকবাল সে কথাই মনে করিয়ে মুমিনুলের কাছে মজারচ্ছলে রেখেছেন এক আবদার। মুমিনুল শুনিয়েছেন তার অধিনায়কত্ব নেয়ার গল্প। মুমিনুলের আকস্মিক টেস্ট অধিনায়কত্ব পাওয়া এবং সামলে নেয়ার প্রসঙ্গ তুলেন তামিম। সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞার পর গত বছর নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে আচমকা নেতৃত্ব পাওয়া মুমিনুল শুরুতে নড়বড়ে হলেও ধীরে ধীরে নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছেন। মুমিনুলের নেতৃত্বের তারিফ করেই তামিমের জিজ্ঞাসা, 'তুই যেভাবে নিজের নেতৃত্ব দেখাচ্ছিস, মাঝে মাঝে এক-দুইটা ঝাড়ি আমাদেরও দিয়ে ফেলিস। নেতৃত্ব উপভোগ করছিস, ভালো, উপভোগ কর।' তামিমের কথা কেড়ে নিয়ে মুমিনুল শোধরে দেন, 'যেটা আপনি বলছেন, ঝাড়ি মারি, এটা ভুল কথা।' তামিম তখন জিম্বাবুয়ে সিরিজের সংবাদ সম্মেলনের কথা মনে করিয়ে দেন, 'তুই বলেছিলি, 'আমি সিনিয়রদেরও ঝাড়ি মারি', আমি তো ওটা নিয়ে বলছি।' মুমিনুল পরিষ্কার করেন কি প্রেক্ষাপটে আসলে তার ঝাড়ি মারার কথাটা বলা, 'এটা, কয়েকজন সাংবাদিক শুনতে চাচ্ছিল, সিনিয়রদের ঝাড়ি মারিই কিনা, আমি (সংবাদ সম্মেলন থেকে) চলে আসছিলাম তখন জিজ্ঞাসা করছিল। তো বলছিলাম।' 'আমি একমাত্র ঝাড়ি কিন্তু আপনাকেই মারি। এটা নির্ভর করে, যখন কোনো বাজে শট খেলেন, তখন মারি। যখন আপনি অ্যালাও করেন, তখন মারি আর কি। ভালোর জন্যই মারি।' তামিম টিপ্পনি কেটে তখন বলেন, 'কিন্তু ঝাড়ি-টাড়ি কম দিস ভাই, বয়সে তো আমি তোর বড়।' খুনসুটি শেষ হলে তামিমের আসল প্রশ্নের জবাব দেন মুমিনুল। জানান আচমকা পাওয়া অধিনায়কত্ব যে কারণে সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন তিনি, 'আমি যখন অধিনায়ক হওয়ার প্রস্তাব পাই, আমার মনে হয়েছিল অধিনায়কত্ব করার এটাই সবচেয়ে ভালো সময়। কারণ, আমার কাছে তখন চারজন খেলোয়াড় ছিল, যারা প্রায় ১০ বছর ধরে খেলছে। এরপর তিন-চারজন জুনিয়র খেলোয়াড় বর্তমানে খুব ভালো অবস্থায় আছে। পেসার আছে, ভালো ভালো স্পিনার আছে। আমি চিন্তা করলাম, আমার জন্য এটা চ্যালেঞ্জ নয়, এটা ভালো সুযোগ হবে। টেস্টে দলকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এটা ভালো একটা সুযোগ।' 'সত্যি কথা বলতে, আপনারা যে ৪-৫ জন আছেন, এটা আমার বড় অনুপ্রেরণা। কারণ, এই সিনিয়র খেলোয়াড় অন্তত আরও ৫-৬ বছর খেলবে। এরপর জুনিয়র যারা আছে, তারাও ভালো করতে শুরু করেছে, আমি উপভোগ করার চেষ্টা করি। আর কোনো কিছু না, খালি উপভোগ করার চেষ্টা করব।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে