logo
বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০  

সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ছয়জন নিহত

সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ছয়জন নিহত
ফরিদপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া বাস রেকার দিয়ে তুলে আনা হচ্ছে -যাযাদি
স্বদেশ ডেস্ক

চার জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। ফরিদপুরের নগরকান্দায় চার, নওগাঁর বদলগাছীতে এক, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এক ও রাজশাহীর পুঠিয়ায় একজন নিহত হয়েছেন। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো খবর:

নগরকান্দা (ফরিদপুর): ফরিদপুরের নগরকান্দায় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছকে ধাক্কা দিলে চারজন নিহত হয়। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা বিশ্বরোডের জয়বাংলা নাগারদিয়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- বাগেরহাট সদর উপজেলার মাজার খানজাহান আলী গ্রামের নাসিরউদ্দিন হাওলাদারের স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৩৫), বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার সাইনবোর্ড গ্রামের মুনসুর শেখের ছেলে লিটন শেখ, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার তাড়াশী গ্রামের জেনারউদ্দিন শেখের ছেলে সামাদ শেখ ও বাসের সুপারভাইজার আছাদুজ্জামান। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বাগেরহাট থেকে ঢাকাগামী গোল্ডেন লাইন পরিবহণের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এরপর বাসটি পাশের ব্রিজের রেলিংয়ে আটকে যায়। ফলে বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত ও ১০ জন আহত এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে একজনের মৃতু্য হয়। নগরকান্দা থানা পুলিশ, ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ, নগরকান্দা, ভাঙ্গা ও মুকসুদপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং স্থানীয়রা গিয়ে বাসের মধ্যে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

আহত এক বাসযাত্রী বলেন, চালকের চোখে ঘুমের ভাব থাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে সড়কের পাশের একটি গাছকে ধাক্কা দেয়। এরপর পাশের ব্রিজের রেলিংয়ে গিয়ে আটকে যায়।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, এ ঘটনায় নারীসহ তিন বাসযাত্রী ও সুপারভাইজার নিহত এবং ৭/৮ যাত্রী আহত হয়েছে। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বদলগাছী (নওগাঁ): নওগাঁর বদলগাছীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্রের মৃতু্য ঘটেছে। জানা যায়, উপজেলার সদর ইউপির চাকরাইল গ্রামের ও নওগাঁ জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সাগর চৌধুরীর একমাত্র ছেলে আল আশারী চৌধুরী (১৩) গত সোমবার রাত ৯টায় তার আত্মীয় বাড়ি গাবনা হতে সিএনজিযোগে আসার পথে গাবনা ব্রিজ সংলগ্ন সিএনজি দুর্ঘটনায় মৃতু্যবরণ করেন। সিএনজিতে থাকা তার মা ফেন্সি বেগম, ফুফু রোকসানা পারভিন, দাদি নাসরিন সুলতানা আহত হন। আহতরা জানান, তাদের আত্মীয় বাড়ি গাবনা হতে আসার পথে সিএনজির চালক রফিকুল ইসলাম নিয়ন্ত্রণ হারালে সিএনজিটি পাশের কর্দমাক্ত খাদে পড়ে যায়। এ সময় সিএনজির নিচে চাপা পড়ে আল আশারী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আল আশারী বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র বলে জানা যায়। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা শহরের সিটিসেল টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় বালু বোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কায় চাপা পড়ে আপেল মিয়া (১৮) নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছে। সে উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের নন্দীর কুটি গ্রামের স'মিল মিস্ত্রি শহিদুল ইসলামের ছেলে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিক আপেল মিয়া নিহত হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক ট্রাক্টরের ডালাসহ দুঘর্টনায় পড়া একটি ট্রাক্টর উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহতের পিতা স'মিল মিস্ত্রি শহিদুল জানান, আমার ছেলে আপেল ট্রাক্টরের শ্রমিক। সে একটি খালি ট্রাক্টরে উঠে বাড়ির দিকে আসছিল। ফুলবাড়ী উপজেলা শহরের সিটিসেল টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় বালু বোঝাই ট্রাক্টর তাদের খালি ট্রাক্টরটিকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। এতে আপেল বালু বোঝাই ট্রাক্টরের চাপায় গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে তার মৃতু্য ঘটে।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানার ওসি খন্দকার ফুয়াদ রুহানী বলেন, বালু বোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কায় চাপা পড়ে নিহতের ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল ঘাতক ট্রাক্টরের ডালা ও দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক্টরটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। ঘাতক ট্রাক্টর মালিক ও ট্রাক্টরের ড্রাইভারসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হবে।

পুঠিয়া (রাজশাহী): রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভা কার্যালয়ের কাছে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পি এন সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের (সাবেক) সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহমানের (৬৫) মৃতু্য হয়েছে। তিনি পুঠিয়া পৌরসভার ৪ নং কৃষ্ণপুর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পৌরসভা কার্যালয় হতে ৫০ গজ দূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার বিষয়টি উলেস্নখ করে কাজিপাড়া মহলস্নার প্রত্যক্ষদর্শী মঙ্গবুল হোসেন বলেন, 'স্যার সন্ধ্যার সময় রাস্তার এক পাশ দিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় কৃষ্ণপুর নিবাসী মো. মহুরমের ছেলে (চালক) মাসুদের মোটরসাইকেল স্যারকে সজোরে ধাক্কা মেরে চলে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।'

পরে স্থানীয় বানেশ্বর কলেজের অধ্যাপক মো. আফসার আলীসহ লোকজন তাকে উদ্ধার করে পুঠিয়া হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তিনি মারা যান।

এ ব্যাপারে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলামের ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, 'সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের বিষয়টি আমি শুনেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে