logo
শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০  

ট্রেনের আসল টিকিটের দামে নকল টিকিট!

ঈদযাত্রা শুরু আজ

ট্রেনের আসল টিকিটের দামে নকল টিকিট!
কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীর হাতে রেলের টিকিট -ফাইল ছবি
যাযাদি রিপোর্ট

আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষকে টার্গেট করে অভিনব প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে একটি চক্র। অনলাইনে টিকিট প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। চক্রটি অনলাইনে বিভিন্ন রুটে ট্রেনের টিকিটের বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল। গ্রাহকরা আগ্রহী হয়ে টিকিট কিনতে চাইলে টাকার বিনিময়ে তাদের সরবরাহ করা হতো নকল টিকিট।

ট্রেনের টিকিটের বিপুল চাহিদার সুযোগে অভিনব পন্থায় এ প্রতারণা চক্রের দুই সদস্যকে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে আটক করেছে রেলওয়ে থানা (জিআরপি) পুলিশ। 'চলো যাই ডট কম' নামে একটি ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল চক্রটি।

আটকরা হলো- তানভির ও হিমেল। এসময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ট্রেনের প্রায় ১৬টি টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকা রেলওয়ে থানার (কমলাপুর) উপপরিদর্শক (এসআই) রুশো বণিক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, চলো যাই ডটকম নাম ব্যবহার করে একটি চক্র অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রি করে আসছিল। তারা গ্রাহকের কাছ থেকে আসল টিকিটের টাকা আদায় করলেও সরবরাহ করত জাল টিকিট। দেখতে অবিকল আসল টিকিটের মতো হওয়ায় যাত্রীরা বিষয়টি বুঝতে পারতেন না।

আসল টিকিটের নামে জাল টিকিট বিক্রি করায় বিষয়টি নিয়ে যাত্রার দিন যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়বেন। ফলে একই সিটে একাধিক যাত্রী বসতে গেলে বিপত্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এসআই রুশো বণিক বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৫ আগস্ট) দিনগত রাতে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে জাল টিকিট বিক্রির ওই চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। চক্রের মূল হোতা আহসান হাবীব পলাতক রয়েছেন। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কমলাপুরে আলাদা অভিযানে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্রের তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আটকরা হলেন- রুবেল, হজরত আলী ও দুলাল মিয়া।

এসআই রুশো বণিক এ বিষয়ে বলেন, এই তিনজনকে টিকিট কালোবাজারির দায়ে আটক করা হয়েছে। তারা আসল টিকিট সরবরাহ করলেও অবৈধ পন্থায় বাড়তি দামে টিকিট বিক্রি করছিলেন।

জাল টিকিট বিক্রি ও কালোবাজারির ঘটনায় সর্বমোট আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে আলাদা তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু আজ

\হ

এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শেষ হয়েছে ২ আগস্ট। অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয় ২৯ জুলাই। যারা ২৯ জুলাই টিকিট সংগ্রহ করেছেন তারা পেয়েছেন ৭ আগস্টের টিকিট। সে অনুযায়ী আজ থেকে শুরু হচ্ছে ট্রেনে ঈদযাত্রা।

অন্যদিকে সোমবার (৫ আগস্ট) থেকে শুরু হয়েছে ট্রেনের ফিরতি টিকিট বিক্রি। মঙ্গলবার দেয়া হয় ১৫ আগস্টের টিকিট। একইভাবে যারা ৭ আগস্ট টিকিট সংগ্রহ করবেন তারা ১৬ আগস্ট, যারা ৮ আগস্ট টিকিট সংগ্রহ করবেন তারা ১৭ আগস্ট এবং যারা ৯ আগস্ট টিকিট সংগ্রহ করবেন তারা পাবেন ১৮ আগস্টের ফিরতি টিকিট।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগে ১০ দিন এবং পরে ১০ দিন পর্যন্ত ট্রেনে ভিআইপিদের জন্য সেলুন সংযোজন করা হবে না। ১১ ও ১৪ আগস্ট ঢাকা-কলকাতা-ঢাকার মধ্যে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী চাহিদা মেটানোর জন্য এক হাজার ৪৩৭টি যাত্রীবাহী কোচ সার্ভিসে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। রেলে প্রতিদিন দুই লাখ ৭৭ হাজার মানুষ চলাচল করলেও ঈদের সময় তা বেড়ে প্রায় চার লাখ হবে।

ঈদযাত্রা শুরু হচ্ছে আগামীকাল থেকে কিন্তু যারা লাইনে দাঁড়িয়ে অথবা ব্যস্ততার কারণে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি তারা ঈদযাত্রার ওইসব ট্রেনের স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন ট্রেন ছাড়ার দুই ঘণ্টা আগে থেকে।

কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, আসন স্বল্পতার কারণে যেসব যাত্রী ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কাটতে পারেনি তাদের সুবিধার্থে ঈদযাত্রার শুরুর দিন থেকে প্রতিটি ট্রেন ছাড়ার দুই ঘণ্টা আগে ৩০ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকেট বিক্রি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের সুবিধার্থে আন্তঃনগরসহ চারটি স্পেশাল ট্রেনে দেয়া হবে স্ট্যান্ডিং টিকিট। তবে কোনো যাত্রীকেই ট্রেনের ছাদে এবার উঠতে দেয়া হবে না। আমরা চেষ্টা করব সিডিউল অনুযায়ী যেন সব ট্রেন চলাচল করতে পারে।

স্টেশন ম্যানেজার বলেন, বন্যার কারণে যেসব রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেসব রুট ঈদের আগেই মেরামত করা হবে। যদি ঈদের আগে সব রুট মেরামত করা না যায় তাহলে রুট পরিবর্তন করে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া হবে। তবে সে ক্ষেত্রে সময় কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।

প্রস্তুত নৌপথ

প্রস্তুত ২১৮ লঞ্চ

অন্যদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে নৌপথে ঘরমুখো মানুষকে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দের যাত্রা উপহার দিতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডবিস্নওটিএ) ও ঢাকা নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২১৮টি লঞ্চ প্রস্তুত করেছেন লঞ্চ মালিকরা। সেজন্য নৌপথে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের আগেই নিজেদের 'রুটিন কর্ম' সম্পাদনের মাধ্যমে প্রস্তুতি শেষ করেছে ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টিম। এর মধ্যে যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

ঈদকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় তিন লাখ মানুষের আপন গন্তব্যে পৌঁছানো নির্বিঘ্ন করতে এরই মধ্যে তিন দফা বৈঠকের মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনা সাজিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ সোমবার (৫ আগস্ট) মতিঝিলে বিআইডবিস্নউটিএ ভবনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ঈদে যাত্রীদের নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি যাত্রা নির্বিঘ্ন করার দিকে জোর দেয়া হয়। এর আগে বিআইডবিস্নউটিএ ও ঢাকা নদীবন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি বৈঠক ও জুনিয়র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেয়ার জন্য আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে