logo
বুধবার ২১ আগস্ট, ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

  যাযাদি রিপোটর্   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

কারাগারে খালেদা জিয়ার এক বছর

আজ ইঞ্জিনিয়াসের্ বিএনপির প্রতিবাদ কমর্সূচি

কারাগারে খালেদা জিয়ার এক বছর
খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের এক বছর পূণর্ হলো আজ। গত বছরের এই দিনে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুনীির্ত মামলায় সাজা হওয়ার পর খুব দ্রæত সময়ের মধ্যেই তিনি জামিনে বের হয়ে আসবেন বলে ধারণা করা হলেও তা হয়নি। এখন আইনি মারপ্যঁাচে তার কারাবন্দিত্ব আরও দীঘাির্য়ত হবে, নাকি সহসা তিনি মুক্তি পাবেন তা নিয়ে ঘোরতর অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত বছরের ৮ ফেব্রæয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পঁাচ বছরের কারাদÐ দেয় বিশেষ আদালত। কারাগারে থাকা অবস্থায় এই মামলায় উচ্চ আদালত তার সাজা আরও পঁাচ বছর বাড়িয়ে ১০ বছর করেছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের আরেকটি মামলায় তার সাজা হয়েছে সাত বছর। যে মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন, সেটিতে গ্রেপ্তারের দেড় মাসের মাথায় জামিন মিললেও তার মুক্তির পথে বাদ সেধেছে আরও ৩৫ মামলা। একটি মামলায় জামিন হলে, অন্য মামলা সামনে আসছে। এভাবেই পার হয়েছে এক বছর। দলটির সিনিয়র নেতারা বলেছেন, যে মামলায় বেগম জিয়া কারাভোগ করছেন, সেই মামলায় তিনি জামিন পাওয়া সত্তে¡ও কেবলমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে দীঘর্সময় ধরে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও যেসব মামলা রয়েছে, সেগুলোও জামিনযোগ্য বলে জানান তারা। খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার পর থেকে তার মুক্তির জন্য মানববন্ধন, কালো পতাকা প্রদশর্ন, অবস্থান কমর্সূচি, অনশন, স্মারকলিপি দেয়ার মতো শান্তিপূণর্ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে বিএনপি। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনের কারণে এ দাবিতে কমর্সূচি দেয়া থেকে বেশ কিছুদিন বিরত ছিল দলটি। কারাবন্দির বষর্পূতির্ উপলক্ষে অবশ্য দুইদিনের কমর্সূচি দেয়া হয়েছে। এউপলক্ষে আজ বেলা আড়াইটায় ঢাকায় বিএনপির উদ্যোগে ইঞ্জিনিয়াস ইনস্টিটিউশনে প্রতিবাদ কমসূির্চ পালিত হবে। এছাড়া আগামীকাল দেশব্যাপী একই দাবিতে প্রতিবাদের কমসূির্চ রয়েছে। এক বছরের কারাজীবনে খালেদা জিয়া বিভিন্ন মামলায় হাজিরা দেয়া এবং এক মাস দুইদিন হাসপাতালে থাকা ছাড়া পুরো সময়টায় কেটেছে একমাত্র বন্দি হিসেবে পুরনো ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগারে। একটি জন্মদিন ও দুটি ঈদও নিজর্ন কারাগারে থাকতে হয়েছে তাকে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ডিভিশনপ্রাপ্ত কয়েদি হিসেবে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। জেলকোড অনুযায়ী সকল সুবিধাও পাচ্ছেন। তার দীঘির্দনের গৃহকমীর্ ফাতেমা তার সঙ্গেই কারাগারে আছেন। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া সাধারণও শান্ত ও চুপচাপ থাকেন। কারা কমর্কতাের্দর কাছে তিনি কোনো চাহিদার কথা জানান না। ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ পড়েন। এরপর প্রায় প্রতিদিনই সকালের নাস্তা হিসেবে রুটি ও সবজি খান। নাস্তার পরে পত্রিকা পড়েন। এরপর গোসল করেন, পরে জোহরের নামাজ পড়েন। জোহরের নামাজ শেষে তিনি মাঝে মাঝে অজিফা পড়েন। কখনো তিনি ডে-কেয়ার সেন্টারের বারান্দায় পায়চারিও করেন। দুপুরের খাবার খান বিকাল চারটা থেকে সাড়ে চারটার দিকে। বিকালে আসরের নামাজের পর হঁাটাহঁাটি করে সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর বিটিভি দেখেন। এরপর এশার নামাজের পর রাতের খাবার খান। খাবার শেষে আবার কিছু সময় টিভি দেখেন। জানা যায়, খালেদা জিয়ার তত্ত¡াবধানের জন্য গৃহকমীর্ ফাতেমা ছাড়াও দিনে কতর্ব্যরত নারী-কারারক্ষীরা কাছে থাকেন। এছাড়া খালেদা জিয়ার সেবায় কারাগারের ভেতরে সাবর্ক্ষণিক একজন নারী ফামাির্সস্ট, প্রয়োজন হলে একজন চিকিৎসক থাকেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় খালেদা জিয়ার কক্ষ ঘিরে একজন নারী উপ-কারাধ্যক্ষের নেতৃত্বে সাবর্ক্ষণিক চারজন নারী কারারক্ষী থাকেন। কারাগারের বাইরে আছেন একজন উপকারাধ্যক্ষের নেতৃত্বে একদল কারারক্ষী। দÐিত হওয়ায় সবের্শষ একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে অংশ নিতে পারেননি খালেদা জিয়া। কবে খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে, বিএনপির সংসদে যাওয়ার শতের্ খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে খেঁাজ নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অবশ্য সরকারের তরফ থেকে বারবার বিএনপিকে সংসদে যাওয়ার আহŸান জানানো হচ্ছে। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপিকে সংসদে যাওয়ার আহŸান জানিয়েছেন। বিএনপিকে সিদ্ধান্ত বদলের অনুরোধ জানিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংখ্যায় কম হলেও বিএনপির বিজয়ীদের সংসদে যাওয়া উচিত। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তাদের দলের কেউ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না। খালেদা জিয়ার মুক্তির আইনি বিষয়ে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘কেবল সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপে দেশনেত্রী কারামুক্ত হতে পারছেন না। তাকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে।’ একই বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মিজার্ ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে হবে। এর জন্য আইনি লড়াই যেমন চলবে, তেমনি সাংগঠনিক কমর্সূচিও অব্যাহত থাকবে। প্রসঙ্গত, এই মামলায় সাজা হওয়ার আগে খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি রাজনীতিতে যোগ দেয়ার পর মোট চারবার গ্রেপ্তার হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর গ্রেপ্তার হন। সবের্শষ তত্ত¡াবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুনীির্তর মামলায় গ্রেপ্তার করে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ সাব জেলে আটক করে রাখা হয় তাকে। সাবজেলে ৩৭২ দিন কাটানোর পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে