logo
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ২২ মার্চ ২০২০, ০০:০০  

করোনায় ভোটার খরা তিন উপনির্বাচনে

করোনায় ভোটার খরা তিন উপনির্বাচনে
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে ভোটার শূন্য কেন্দ্রে প্রতিক্ষায় পোলিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্টরা। ছবিটি শনিবার ধানমন্ডি লেক সার্কাস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে তোলা -পিবিএ
ভোটার খরায় শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের তিনটি সংসদীয় আসেনর উপ-নির্বাচন। করোনা আতঙ্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ এবং বাগেরহাট-৪ আসনে গতকাল সকাল থেকেই ভোটার উপস্থিতি ছিল হতাশাজনক। এরমধ্যে ঢাকা ১০ আসনে ইভিএম ও অন্য দুটিতে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়। ভোটের ফল প্রকাশের আগেই অনিয়মের অভিযোগ এনে ফল প্রত্যাখ্যান এবং ফের নির্বাচনের দাবি জানান ঢাকা ১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি।

সারাদেশে করোনা আতঙ্কের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এই ভোটগ্রহণ স্থগিতের দাবি উঠলেও ইসি ছিল অনড়। নির্বাচনকালীন সময় ভোটারদের করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে এবং ভোট দেয়ার পর হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন ইসি সচিব মো. আলমগীর। এ ছাড়া ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং সচেতনতামূলক ব্যানার টানানো ছিল।

সকাল ১০টার দিকে ঢাকা সিটি কলেজকেন্দ্রে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে ভোট দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় করোনার জন্য আতঙ্কিত না হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ঢাকা ১০-এর উপ-নির্বাচনে সকাল থেকেই বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র ছিল ভোটারশূন্য। মাঝেমধ্যে হাতেগোনা দুই-এক জন ভোটার কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তবে ভোটার না থাকলেও বেশকিছু কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির

\হসমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

সকাল ৯টা থেকে আসনের ১১৭টি কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। করোনাভাইরাসের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি কেন্দ্রে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ছিল। তবে সকালের দিকে কোনো কেন্দ্রেই ভোটারের তেমন উপস্থিতি চোখে পড়েনি। এমনকি দেড়-দুই ঘণ্টায়ও কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট পড়েনি একটিও। তবে কেন্দ্রের বাইরে বিপুলসংখ্যক লোকের ভিড় দেখা গেছে। যাদের বেশির ভাগই সরকারদলীয় সমর্থক।

নির্বাচনের প্রথম ঘণ্টায়ই চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আনেন বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রগুলো থেকে তার ৮৫০ জন এজেন্টকে বের করে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাত এজেন্টসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলায় একজন এজেন্টসহ অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয় বিএনপির পক্ষ থেকে।

এদিকে সকাল ৯টায় হাজারীবাগ থানা যুবদলের সভাপতি লিটন এবং যুবদল নেতা সেলিমকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ছাড়া ধানমন্ডির ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তাদের বের করে দেয়া হয়। কাছাকাছি সময় কাঁঠালবাগান খান হাসান স্কুল, নিউমার্কেট বলাকা সিনেমা হল কেন্দ্র, রায়ের বাজার হাইস্কুল কেন্দ্র রাজ মুশুরি স্কুল, প্রগতি স্কুল কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়।

বেলা ১১টার দিকে ধানমন্ডি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে মোবাইল-কাগজপত্র রেখে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এর আগে সকাল ১০টার দিকে ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের হামলায় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। বিকাল সাড়ে ৪টায় মনেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং অফিসার সায়েদ আবদুলস্নাহ জানান, তার কেন্দ্রে ২৫৯৮ ভোটের মধ্যে ১৮৩টি কাস্ট হয়েছে। এ ছাড়া সারাদিন ওই কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখান বলে তিনি শুনেছেন।

সকাল ৯টায় নিউমার্কেট বলাকা সিনেমা হল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় সবগুলো বুথই ফাঁকা। কোনো ভোটার নেই। ছয়টি বুথে কোনো ভোটই পড়েনি। তবে কেন্দ্রের সামনে নৌকার সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

ফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচনের দাবি বিএনপির : পোলিং এজেন্ট বের করে দেয়া ও কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থীরা। শনিবার বিকালে ভোটগ্রহণ শেষে রাজধানীর বাংলামোটরের নির্বাচনী অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রবিউল আলম। এ সময় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আধিপত্য বিস্তার, দখল ও কেন্দ্রে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণে মানুষ ভোটবিমুখ হয়েছে। যে নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারল না, সেই নির্বাচনে আমার দল বিএনপি এবং আমি বর্জন করছি। ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।

ফলফল ঘোষণার আগেই প্রত্যাখ্যান করেছেন। নির্বাচনে আপনি বিজয়ী হলে কী করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারল না, সেখানে আমাকে বিজয়ী করা হবে- একটা নাটক। জনগণ যেখানে ভোট দেয়ার সুযোগ পায়নি, আমি সে ফলাফলও প্রত্যাখ্যান করব।

নির্বাচনে ৩৬টি কেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কেন্দ্রগুলো ঘুরেছি। কোনো কোনো কেন্দ্রে ১০-১৩টি ভোট কাস্টিং হতে দেখেছি। ভোটার উপস্থিতি ভয়ঙ্কর রকমের খারাপ। কোনো কোনো কেন্দ্রের আশপাশে ৪০০-৫০০ লোক দেখেছি, তারা যদি ভোটার হতো তাহলে তো তারা ভোট দিত। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তাদেও সবাই বহিরাগত। আওয়ামী লীগ প্রার্থী তাদের বাহির থেকে কেন্দ্র দখল করতে এনেছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক কেন্দ্রে পাঁচজন করে নৌকার এজেন্ট দেখেছি। কিন্তু ওই কেন্দ্রে কোনো ভোট পড়েনি। তাদের সবাইকে বাহির থেকে এনে এজেন্ট দেয়া হয়েছে বলেও এ সময় অভিযোগ করেন তিনি।

জাপা প্রর্থীকে কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়ার অভিযোগ : জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী হাজি মো. শাহজাহান অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় পার্টির কোনো এজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। সকাল সাড়ে ৯টায় কুইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজকেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা তাকে বাধা দেন। এ সময় তার ছেলেকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। শনিবার দুপুরে তার জিগাতলার বাসায় সাংবাদিকদের সব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বেশিরভাগ কেন্দ্রেই তাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। ঢুকতে গেলেই সরকার সমর্থকরা বাধা দিয়েছে। শিকদার স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মনেশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ঢুকতে দেয়া হয়নি। ধানমন্ডির ২ নম্বর রোডের নির্বাচনী অফিস দখল করে নিয়েছে। আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দলের কাছ থেকে জনগণ এটা আশা করেনি বলে জানান তিনি।

ভোটার তালিকায় নাম নেই নৌকার প্রার্থীর : ভোটার তালিকায় নাম না উঠার কারণে ভোট দিতে বিলম্ব হয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের। জটিলতার অবসানের পর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ভোট দিয়েছেন তিনি।

এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে কলাবাগান লেক সার্কাস বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে উপস্থিত হন নৌকার প্রার্থী মহিউদ্দিন। ইভিএমে ভোট দিতে তার আঙুলের ছাপ নেয়া হলে তা মেলেনি। এরপর ভোটার তালিকায় তার নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করে ভোট না দিয়েই ফিরতে হয় তাকে। মহিউদ্দিন ঢাকার উত্তরা এলাকার ভোটার ছিলেন। রাজনীতিতে নেমে এবার ঢাকা-১০ আসনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হওয়ার পর ভোটার তালিকায় নাম স্থানান্তরের আবেদন করেন তিনি।

উপনির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন বলেন, 'তফসিল ঘোষণার দুইদিন আগে এই প্রার্থী (মহিউদ্দিন) স্থানান্তর হওয়ার আবেদন করেছিলেন। উত্তরা থেকে ধানমন্ডির লেক সার্কাস এলাকায় ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে এই আবেদন করেন। ভোটার তালিকা তো আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। ভোটার স্থানান্তরের পর হালনাগাদ তথ্য কেন্দ্রে পৌঁছেনি।

বিকালে প্রিজাইডিং অফিসার আহসানুল হক বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে আপডেট করে এসডি কার্ড নিয়ে আসা হয়েছে। এরপর প্রথম চান্সেই ফিঙ্গার প্রিন্ট কাজ করেছে।

উলেস্নখ্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ঢাকা-১০ আসন গঠিত। এই আসনের মোট ভোটার তিন লাখ ১২ হাজার ২৮১ জন। মোট ১১৭টি কেন্দ্রে একটানা ভোটগ্রহণ করা হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ ছয়জন প্রার্থী অংশ নেন।

বাগেরহাট-৪

করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেই বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কেন্দ্রে কেন্দ্রে আনসার সদস্যদের দেখা যায় ভোটারদের এ ব্যাপারে সহায়তা করতে।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাঁচটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, হাত ধুয়ে ভোটাররা লাইন ধরে ভোট দেন। কেন্দ্রের প্রবেশমুখে লাগানো হয় করোনাভাইরাস বিষয়ে সচেতনতামূলক ব্যানার। ভোটদান কক্ষে ঢুকে নম্বর মিলিয়ে ভোট দিলেও গোপনকক্ষে ঢুকে ব্যালট পেপারে সিল দিতে অনীহা ছিল অধিকাংশ ভোটারের। নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুরোধের পরও অনেকে জোর করে টেবিলে প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল দিয়েছেন।

মোরেলগঞ্জের কচুবুনিয়া রহমতিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ১০টার পর থেকে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থানকালে অধিকাংশকে প্রকাশ্যে ভোট দিতে দেখা যায়। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোটার বলেন, 'বুথে ঢুকে খালি খালি বিপদ বাঁধিয়ে লাভ আছে? যা হওয়ার সেই হবে। নিজের পয়সায় চাল কিনে খাই। কেন নিজের বিপদ ডেকে আনব?'

কচুবুনিয়ায় কেন্দ্রের ভেতর ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র তিনজন। কেন্দ্রে প্রবেশের সময় আশপাশ থেকে আওয়ামী লীগের ব্যাচ লাগানো কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, 'সাংবাদিক আসছে, ভোটারদের লাইন কই?' এর কিছু পরই বাইরে ভিড় দেখা যায়। কেন্দ্রের ভেতরও ভোটার উপস্থিতি বেড়ে যায় সবগুলো বুথে।

ওই কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সুবল কৃষ্ণ সাহা বলেন, 'আমরা সব ভোটারকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট দিতে আসতে উৎসাহিত করেছি। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের নিয়ে আসছি। তাই উপস্থিতিও ভালো। এই কেন্দ্রে ছয়টি বুথে মোট ভোটার তিন হাজার ২১ জন। প্রথম ঘণ্টায় ভোট পড়ে ১৪৪টি।'

বাগেরহাট-৪ উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুস আলী বলেন, সকাল ৯টা থেকে দুুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০-২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। ভোটার উপস্থিতিও মোটামুটি ভালো। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচনী এলাকার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ নেই। ভোটারদের গোপনকক্ষে না গিয়ে প্রকাশ্যেই ভোট দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ভোট দিতেই তো গোপনকক্ষ করা হয়েছে। আমি নিজেও অনেকগুলো কেন্দ্র ঘুরেছি। কোথাও এমন কিছু চোখে পড়েনি। কেউ অভিযোগও করেনি।'

গাইবান্ধা-৩

সকাল ৯টায় গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের উপনির্বাচনের সাদুল্যাপুর ও পলাশবাড়ী উপজেলার ১৩২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় বিকাল ৫টায়। দুই উপজেলায় মোট ভোটার ছিল চার লাখ ৩৫ হাজার ২১১ জন। ১৩২টি কেন্দ্রের মধ্যে দুই উপজেলার অধিকাংশ কেন্দ্রই ভোটারের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। তবে কিছু কিছু কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে ভোটারদের।

গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ছাড়াও নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার কারণে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠু পরিবেশেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে, দুপুরের পর ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালটে সিল মারা এবং নেতাকর্মীদের মারধরসহ অনিয়ম ও কারচুপির নানা অভিযোগ তোলেন বিএনপির অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক।

উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আ'লীগের অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি, বিএনপির অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক ও জাতীয় পার্টির মইনুর রাব্বী চৌধুরী। তবে জাসদের প্রার্থী এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি নির্বাচন থেকে আগেই সরে দাঁড়ান।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে