logo
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৫

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

যারা কর দেয় না তারা সম্পদ আত্মসাৎ করে

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় দুদক চেয়ারম্যান

যারা কর দেয় না তারা সম্পদ আত্মসাৎ করে
রোববার রাজধানীর বিসিএস কর একাডেমিতে দুদক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ -যাযাদি
যারা কর দেয় না তারা জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করে। তাই যারা ট্যাক্স (কর) দেয় না তাদেরকে শান্তিতে ঘুমাতে দেব না বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

রোববার সকালে রাজধানীর শান্তিনগরে বিসিএস কর একাডেমিতে দুদক কর্মকর্তাদের কর আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, যার কাছে অবৈধ সম্পদ আছে বলে সন্দেহ হবে, প্রয়োজনে ঘরে গিয়ে তাকে তলস্নাশি করতে হবে। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ২০ লাখ মানুষ ট্যাক্স দেন। এর মতো লজ্জার আর কিছু নাই।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, রিহ্যাবের কাছ থেকে তথ্য নেন, কত লোক হোল্ডিং ট্যাক্স দেন, কত লোকের ট্রেড লাইসেন্স আছে। সবার গাড়ির তথ্য নেন। এসব তথ্য একসঙ্গে না করে শুধু অটোমেশনে নির্ভর করলে করদাতা বাড়বে না।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, কর আদায়ের প্রক্রিয়া যত জটিল হবে তত বেশি ফাঁকির সুযোগ বাড়বে। তাই কর্মকর্তাদের সুবিধার্থে কর আদায়ের প্রক্রিয়া সহজ করা উচিত।

তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কর বৃদ্ধির পক্ষে নই। তবে যাদের এনআইডি আছে তাদের ট্যাক্স ফাইল থাকা উচিত।

দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, কর কর্মকর্তাদের আটকের ক্ষমতা নেই তাদের অবশ্যই এ ক্ষমতা দেওয়া উচিত। এ সংক্রান্ত্র আইনের সংশোধনের আহ্বান জানান তিনি।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ নেওয়া প্রসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বলেন, কেউ যদি ঘুষ খান তা ভিক্ষার শামিল। তিনি বলেন, জোর করে কেউ টাকা পকেটে দিয়ে যায় না। ঘুষ না চাইলে তো কেউ দেবে না। চাইতে হলে হাত পাততে হয়। আর হাত পেতে ঘুষ নেওয়া ভিক্ষা একই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভিক্ষা করব কি না।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (প্রশাসন) আরিফা শাহানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, 'আমরা দুদক কর্মকর্তাদের বলেছি, আগে নিজেরা ট্যাক্স আইনটা জানেন। যৌথভাবে দেখুন। জালের মতো বিছিয়ে আছে বু্যরোক্রেসি (আমলাতন্ত্র)। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, আমাদের কোনো ট্যাক্স বেইস নেই। এমন অনেক লোককে আমরা পেয়েছি যার কোনো ট্যাক্স ফাইল নেই কিন্তু বিএমডবিস্নও গাড়ি হাঁকাচ্ছে। আমরা যখন দেখতে চাইলাম, এমন দামি গাড়ি কারা চালায়, তখন অনেকে সমালোচনা করেছে। আমরা চাই না কেউ জনগণের হক মেরে পোরশে গাড়ি (এক ধরনের বিলাসবহুল গাড়ি) চালাক।'

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এমনো লোক আছে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করেনি কিন্তু ব্যাংক থেকে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে চলে গেছে। এটা আমরা বন্ধ করতে চাই। দেশের উন্নয়নকে যদি টেকসই করতে চান তাহলে ইন্টারনাল রিসোর্স সিস্টেম থাকতে হবে।

ঠিকমতো ট্যাক্স আদায় না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এমন অনেক তথ্য আমাদের কাছে আছে যে, দুই হাজার ডলার বেতন কিন্তু আর্নহ্যান্ড পাঁচ হাজার ডলার। কনসালট্যান্টদের অনেকে ইনকাম ট্যাক্স দেয়। কিন্তু এত এত কনসালট্যান্টদের সুবিধা অন্য কোথাও নেই। তাদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া, অতিরিক্ত ইনকামের সুযোগ দেওয়া টাকা আত্মসাতের শামিল। চৌকিদার-তফাদার যদি দুই হাজার খানার ট্যাক্স আদায় করতে পারেন, তাহলে এনবিআর কেন পারবে না? তাহলে রাজউক, এনবিআর, সিটি করপোরেশন মিলে কেন ঢাকার হোল্ডিংস ট্যাক্স আদায় করা সম্ভব হবে না।

'ভ্যালু অ্যাডেট ট্যাক্স কেন কাস্টমসকে দিতে হয় তা আজও আমার বোধগম্য নয়' বলে মন্তব্য করেন দুদক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, 'এটা তো ম্যানেজমেন্ট প্রবলেম। দুটো অথরিটির কাছে রেজিস্টার করতে হয়, এটা তো হ্যারেজমেন্ট। এটার প্রসেস সমন্বয় করার সময় এসেছে। আমাদের তদন্ত কর্মকর্তারা যখন কোথাও যায় ট্যাক্সের ব্যাপারে কথা বলার জন্য তখন শুনতে হয়, আমি তো ভ্যালু অ্যাডেট ট্যাক্স দেই। ভ্যাট আর ট্যাক্স মিলিয়ে হিসাব দেন। এটা তো হয় না, এটা আমাদের জন্য প্রবলেম। আর যত প্রসেস জটিল হবে ফাঁকির সুযোগ তত বেশি হবে।'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে