logo
বুধবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯, ১০ মাঘ ১৪২৫

  যাযাদি রিপোটর্   ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

খেলাপি ঋণ আদায়ে নতুন কৌশল চান নতুন অথর্মন্ত্রী

খেলাপি ঋণ আদায়ে নতুন কৌশল চান নতুন অথর্মন্ত্রী
খেলাপি ঋণের হার দুই অঙ্কের কোঠা অতিক্রম করে যাওয়ায় প্রেক্ষাপটে অথর্মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই এই অথর্ উদ্ধারে নতুন কৌশল খেঁাজার তাগিদ দিলেন আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সোমবার শেখ হাসিনার নতুন সরকারের অথর্মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পরপরই অথর্ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে এ নিদের্শনা দেন তিনি।

গত পঁাচ বছর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সামলে আসা মুস্তফা কামাল নতুন দায়িত্ব নিয়ে অথর্ মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পরপরই তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিভিন্ন আথির্ক প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।

খেলাপি ঋণকে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন অথর্নীতিবিদরা। খেলাপি ঋণের হার দুই অঙ্কের কোঠা অতিক্রম করে যাওয়ায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।

গত ১০ বছর অথর্মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাওয়া আবুল মাল আবদুল মুহিতও খেলাপি ঋণকে ব্যাংক খাতের সমস্যা হিসেবে স্বীকার করে আসছিলেন।

বিদায়ী সংসদে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পযর্ন্ত বাংলাদেশে ঋণ খেলাপির সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮ জন; তাদের কাছে অনাদায়ী অথের্র পরিমাণ ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।

অথর্মন্ত্রী হিসেবে প্রথম বৈঠকে মুস্তফা কামাল ঋণ আদায় করার নতুন কৌশল বের করার তাগিদ নিয়ে বলেন, ‘আমরা ভালো ও খারাপকে একসাথে মেলাব না। কাউকে জেলেও পাঠাব না, বন্ধও করে দেবো না।’

‘স্প্রেড (সুদ ও আমানতের হারের পাথর্ক্য) বেশি হলে আমানত ফেরত আসে না এসব বিষয় বিবেচনা করতে হবে। যত কম রেটে ঋণ নিতে পারবেন, তত কম রেটে ঋণ দিতে পারবেন’, ব্যাংকারদের উদ্দেশে বলেন তিনি।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘নন-পারফরমিং লোনের যে কথা বলা হচ্ছে, এটা লম্বা সময় ধরে চলে আসছে, এটি ১৩ শতাংশ। এটি ৭ থেকে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।’

‘নিচে নামিয়ে আনতে অনেক কঠিন হতে হবে। আত্মীয়স্বজন চিনব না, যে দেয় এবং যে দেয় না, তাদের এক জায়গায় রাখব না। যে দেয় তার জন্য প্রয়োজনে প্রণোদনার ব্যবস্থা করে দেবো।’

ঋণ দেয়ার সময় কমর্কতাের্দর যাচাই করার নিদের্শনা দেন মন্ত্রী।

‘যে যাচাই বাছাই করে লোন দেয়া হয়, তা ভালো করে করতে হবে। মাঝে মাঝে দেখা যায় চুক্তি করার পর চাজর্ হিসেবে তা পাই না। এগুলো দেখার জন্য প্রফেশনাল ফামর্ নিয়োগ করতে হবে। তাহলে ওই লোনগুলো ব্যাড লোনে যাবে না।’

‘আরেকটি অবকাঠামো হবে মানুষের আস্থা তৈরি করা, মানুষকে বোঝাতে হবে টাকা নিয়ে ব্যবসায় লাভ করতে পারবেন।’

পুঁজিবাজারে ‘চাই’ প্রশিক্ষিত বিনিয়োগকারী

পুঁজিবাজার নিয়েও নিজের ভাবনার কথা বলেন নতুন অথর্মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার এক দিন-দুই দিনের জন্য না, লোভে পড়ে এখানে আসা যাবে না। দীঘর্ সময়ের জন্য এগুলো বিবেচনা করতে হবে, প্রশিক্ষিত বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আসতে হবে।’

‘নিবার্চনের পর বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেল পুঁজিবাজারে’ মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে নানা পদক্ষেপ নিলেও বাজার প্রত্যাশা অনুযায়ী ঘুরে না দঁাড়ানোয় হতাশ বিনিয়োগকারীদের অনেকে।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘যারা এদেশ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে গেছে, তাদের আবার এদেশে নিয়ে আসতে সুযোগ করে দেয়া হবে, যাতে তারা ম্যাক্সিমাম লাভ করতে পারে।’

বন্ড মাকের্ট আরও প্রসারিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।

রাজস্বের নতুন ক্ষেত্র ‘খুঁজতে হবে’

রাজস্ব বাড়ানোর তাগিদের পাশাপাশি রাজস্ব আহরণে নতুন নতুন খাতের দিকে নজর দিতে বলেছেন নতুন অথর্মন্ত্রী মুস্তফা কামাল।

বৈঠকে উপস্থিত এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এবার প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা রাজস্ব দিতে হবে।’

রাজস্ব আদায়ের নতুন খাতগুলোর দিকে দৃষ্টি হবে এবং দোকানগুলোতে ক্যাশ রেজিস্ট্রার মেশিন সরাতে হবে। এ ছাড়া বন্দরগুলোতে স্ক্যানার বসাতে হবে।’

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এবার ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, দুই লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা দিতে পারব।’

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘সাধারণ মানুষ রাজস্ব দিতে চায়, আমাদের লোকরা যাতে নিতে পারে সে দিকে খেয়াল করতে হবে। একটি উইন-উইন অবস্থা তৈরি করতে হবে।’

এনবিআরে বতর্মানে ৩৫ হাজার লোকবল রয়েছে জানার পর মন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজনে লোকবল বৃদ্ধি করা হবে এবং প্রতিটি উপজেলায় প্রয়োজনে আরও রাজস্ব অফিস করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আথির্ক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অথর্ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদারও ছিলেন।

নতুন অথর্মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা এখানে সবাই অভিজ্ঞ। আপনাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে আগামীতে আরও এগিয়ে যেতে হবে। অথর্নীতির অগ্রগতির যে ধারা, তা বজায় রাখতে হবে।’

‘এখন থেকে ১০ বছর আগে অথর্নীতি নিয়ে লজ্জা পেতাম। আমরা বতর্মানে অনেক অজর্ন করেছি। আমাদের স্বপ্ন যে গতিতে এগিয়েছি, এ গতি ২০৪১ পযর্ন্ত চালিয়ে যেতে হবে, উন্নত বিশ্বে পরিণত হতে চাই।’
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে