logo
সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২০, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ০৯ জুলাই ২০২০, ০০:০০  

পাওনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাটকল শ্রমিকরা

পাওনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাটকল শ্রমিকরা
পাটকলে কর্মরত শ্রমিকরা
রাষ্ট্রায়ত্ত সব পাটকল বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ কারণে পাওনা নিয়ে দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন পাটকল শ্রমিকরা। কবে নাগাদ পাওনা টাকা হাতে পাবেন তা নিয়ে কপালে ভাঁজ পড়েছে তাদের।

শ্রমিকদের প্রতিশ্রম্নতি দেওয়া হচ্ছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাওনা পরিশোধ করবে সরকার। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এমন প্রতিশ্রম্নতি পেয়েও ভরসা করতে পারছেন না তারা।

পাটকল শ্রমিকরা বলছেন, 'বছরের পর বছর আমরা মজুরি পাইনি। পাওনা নিয়ে এর আগেও এমন হাজারও প্রতিশ্রম্নতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা পরিশোধ হয়নি। পাটকল শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা হাতে পায়নি।'

২০১৪ সালে অবসরে যাওয়া ৮ হাজার ৯৫৪ জনের পাওনা টাকাও বকেয়া রয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। মূলত এ কারণেই যত দুশ্চিন্তা তাদের। একাধিক পাটকল শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে এমন পরিস্থিতি জানা গেছে।

খুলনার পস্নাটিনাম জুবিলি জুট মিলের শ্রমিক বেলায়েত হোসেন বলেন, '১৩ বছর ধরে কাজ করে এসে এখন বেকার হয়ে গেলাম। পাওনাটা একসঙ্গে পেলে তো পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে বাঁচতে পারতাম। এই পাওনা কবে পাব জানি না। একদিকে মিল বন্ধ, অন্যদিকে করোনাভাইরাস মহামারি; এ অবস্থায় অন্য কোথাও যে কাজ পাব তারও কোনো সুযোগ নাই।'

এদিকে, গত ২ জুলাই পাটকল শ্রমিকদের শতভাগ পাওনা বুঝিয়ে দিতে গণভবনে মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকে কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর আধুনিকায়ন ও রিমডেলিংয়ের জন্য উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা, শ্রমিকদের শতভাগ পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া, শ্রমিকদের আরও দক্ষ করতে প্রশিক্ষণ প্রদান, পরবর্তী সময়ে কারখানাগুলো পুনরায় চালু হলে নিয়োগের ক্ষেত্রে এসব শ্রমিককে অগ্রাধিকার দেওয়া।

গত রোববার রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকল বন্ধ ঘোষণার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়- ২৪ হাজার ৮৮৬ জন স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে অবসর দেওয়া হবে। তাদের জন্য থাকবে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি। ১৫ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। কমিটি এসব পাওনা পরিশোধের একটি রূপরেখা তৈরি করে সরকারকে দেবে। সরকার সেই রূপরেখা অনুযায়ী পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করবে।

পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উলস্নাহকে সভাপতি এবং সিনিয়র সহকারী সচিব নুরউদ্দিন আল ফারুককে সদস্য সচিব করা হয়েছে। অন্য তিন সদস্য হলেন অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. ওয়ালিদ হোসেন, অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মমিনুল হক ভূঁইয়া এবং অতিরিক্ত উপ-মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. সাইদুর রহমান সরকার।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী জানিয়েছিলেন, মজুরি কমিশন-২০১৫ অনুযায়ী পাটকল শ্রমিকদের জুন মাসের মজুরি এ সপ্তাহে তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা পড়বে। সেই প্রতিশ্রম্নতি অনুযায়ী গত ৫ জুলাই বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত বাংলাদেশ জুট মিলস্‌ করপোরেশনের (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন আলিম জুট মিল বাদে অন্যান্য পাটকল শ্রমিকদের জাতীয় মজুরি স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী জুন মাসের চার সপ্তাহের বকেয়া মজুরি পরিশোধের জন্য ৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। বরাদ্দকৃত অর্থ শ্রমিকদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চেকের মাধ্যমে দেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

এতকিছুর পরও সরকার বা বিজেএমসির ওপর আস্থা ফিরছে না পাটকল শ্রমিকদের। তারা বলছেন, 'শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধা দিতে সবেমাত্র কমিটি গঠন হলো। কবে নাগাদ কমিটি তাদের সুপারিশ দেবে, কবে নাগাদ সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন শুরু হবে আর কবে নাগাদ এসব সুবিধা আমরা পেতে শুরু করব, এসব দুশ্চিন্তায় সবার মাথায় হাত।'

শ্রমিকদের মন্তব্য, 'পাটকল শ্রমিকদের পুরো পাওনা পরিশোধে লাগবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। সেখানে ছাড় করা হলো মাত্র ৫৮ কোটি টাকা। এভাবে ছাড় করলে কয়েক বছরেও তো আমাদের পুরো পাওনা হাতে আসবে না।'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে