logo
রবিবার, ৩১ মে ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৯ মে ২০২০, ০০:০০  

আপেল পাইকারিতে ১১০, খুচরায় ২০০

আপেল পাইকারিতে ১১০, খুচরায় ২০০
দোকানে সাজিয়ে রাখা আপেল
করোনাভাইরাস প্রকোপের মধ্যে আপেল, কমলা, মাল্টা, আঙুরসহ সব ধরনের ফলের দাম বেড়েছে। তবে পাইকারি ও খুচরা বাজারে ফলের দামে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। খুচরা বাজারে যে দামে বিভিন্ন ফল বিক্রি হচ্ছে তাকে অস্বাভাবিক বলছেন খোদ পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, আড়তে এখন ফলের দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলায় কম। বিশেষ করে আপেলের দাম গত কয়েক বছরের মধ্যে সব থেকে কম। মানভেদে আপেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা থেকে ১১০ টাকা। তবে সিজন শেষ হওয়ায় এবং করোনাভাইরাসের কারণে নতুন করে আমদানিতে না যাওয়ায় মাল্টা ও কমলার দাম একটু বেশি।

তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের ভয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ঠিকমতো দোকান খুলতে পারছেন না। এটার সুযোগ নিয়ে খুচরা বিক্রেতারা ইচ্ছামাফিক দামে ফল বিক্রি করছেন।

এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, আড়তে পর্যাপ্ত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। যে ফল পাওয়া যাচ্ছে তার দামও বেশি। আবার এখন ফল আনতে ভ্যানভাড়াও বেশি দিতে হচ্ছে। এ কারণে বেশি দামে ফল বিক্রি করতে হচ্ছে।

বিভিন্ন খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সবুজ রঙের আপেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। চায়না আপেল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের আপেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি।

রামপুরা বাজারে ২০০ টাকা কেজি আপেল বিক্রি করা খালেদ বলেন, করোনার কারণে আড়তে ঠিকমতো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার দামও একটু বেশি। করোনার আগে আমরাই সবুজ আপেলের কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা বিক্রি করেছি। কিন্তু এখন সব খরচ যোগ করে ২০০ টাকার নিচে বিক্রি করার উপায় নেই।

খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী জহির বলেন, শুধু আপেল নয় এখন আড়তে সব ধরনের ফলের দাম বেশি। আবার মাল আনার জন্য এখন ভ্যানভাড়াও বেশি দিতে হচ্ছে। এখানে আমাদের দোকানভাড়া আছে। আগের তুলনায় এখন বিক্রিও অনেক কম। সব খরচ যোগ করলে দেখা যাবে ২০০ টাকা কেজি আপেল বিক্রি করার পরও আমাদের খুব একটা লাভ হচ্ছে না।

দোকানের মতো চড়া দামে আপেল বিক্রি করছেন ভ্যানের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারাও। রামপুরায় ভ্যানে ফল বিক্রি করা মিন্টু বলেন, আমার নিজের ভ্যান তাই কম লাভে বিক্রি করি। সবুজ ও ভালো মানের লাল আপেল ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। অন্য আপেল ১৫০ টাকা কেজি।

তিনি বলেন, ভ্যানে করে অনেক দিন ধরেই ফল বিক্রি করি। সত্যি কথা বলতে যে দামে ফল কেনা পড়েছে, বিক্রি বেশ হলে এর থেকেও কম দামে বিক্রি করতে পারতাম। আগের তুলনায় এখন বিক্রি অনেক কম। এখন একটু বেশি লাভে বিক্রি করলেও যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার ঠিকমতো চলে না।

শুধু রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও অঞ্চলে নয়, ঢাকা শহরের প্রতিটি অঞ্চলেই খুচরা পর্যায়ে এমন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আপেল। পুরান ঢাকা থেকে আদনান রহমান জানান, সবুজ আপেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকা। এছাড়া অন্যান্য আপেলের কেজি ১৫০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ঢাকার ফলের অন্যতম পাইকারি বাজার বাদামতলীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সবুজ রঙের আপেল বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা কেজি। দুই ধরনের চায়না আপেলের মধ্যে একটি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি এবং অন্যটি ১০০ টাকা। আর দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের আপেল বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা কেজি।

এ বিষয়ে বাদামতলীর সাথী ফ্রেস ফ্রুটস লিমিটেডের মালিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা এক ধরনের চায়না আপেল ২০ কেজি বিক্রি করছি ১৪০০ টাকা। এতে প্রতি কেজির দাম পড়ে ৭০ টাকা। আর এক ধরনের চায়না আপেল ২০ কেজি দুই হাজার টাকা বা ২১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের আপেল বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা কেজি।

তিনি বলেন, এখন আড়তে আপেলের দাম অনেক কম। গত কয়েক বছরে এত কম দামে আপেল বিক্রি হয়নি। এখন এই আপেল যদি খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করেন তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই। অনেক ভালো কোয়ালিটির প্রিমিয়াম আপেল আমাদের এখানে বিক্রি হয় ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকা, সেই আপেল গুলশানের ইউনিমার্ট ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে বলে কিছুদিন আগে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে। বলেন আমরা কোন শহরে বাস করছি। ডাকাতরা তো কিছু রেখে যায়, এরা তো তাও রাখছে না।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে