logo
বুধবার ১৬ অক্টোবর, ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬

  রায়হান রহমান   ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০  

বন্দিত্ব থেকে মুক্ত হতে চান তারকারা

বন্দিত্ব থেকে মুক্ত হতে চান তারকারা
দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগে অভিযুক্ত টিভি নাটক। চিত্রনাট্যহীন সস্তা ও একগুঁয়ে গল্প, কমেডির নামে ভাঁড়ামি আর যাচ্ছেতাই ভাষার ব্যবহার- সবকিছু মিলিয়ে অনেকটাই দেখার অযোগ্য হয়ে পড়ছে টিভি নাটক। দর্শক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই যেন দর্শকশূন্য হয়ে পড়ছে এসব নাটক টেলিফিল্মগুলো। আর দর্শকের সঙ্গে সঙ্গে এসব নাটকে অভিনয় করতেও বিরক্তি প্রকাশ করছে অনেক পেশাদার অভিনয় শিল্পীরা। পেশাদারিত্বের কারণে এতদিন চোখ বুঝে অভিনয় করলেও বর্তমানে অনেক তারকাই নাটকের গন্ডিতে বন্দি থাকা এসব নাটক থেকে বের হয়ে অন্যদিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। কেউ অভিনয় বাদ দিয়ে বেকার বসে আছেন।

বছরের সবচেয়ে বেশি নাটক নির্মিত হয় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে। নাট্যপাড়ায় এ সময়টাকে নাটকের পিক আওয়ার বা মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অভিনয় শিল্পীদের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকরাও মুখিয়ে থাকেন এ সময়ের নাটকের জন্য। তবে বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। দর্শকের অভিযোগ, চলচ্চিত্রাঙ্গনের মতো নাট্যাঙ্গনকেও ধ্বংস করা হচ্ছে। সব নাটকেই যুগলবন্দি প্রেম, অপ্রযোজনীয় গান, অশ্লীল সংলাপ, গালাগালি ও ইশারা ইঙ্গিত বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু নাটকের অবস্থা আরো নাজেহাল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখার পরেও গল্পটা বোঝার উপায় থাকে না।

এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেক তারকাও। তার মধ্যে একজন মনোজ প্রামাণিক। বর্তমান সময়ের আলোচিত এ অভিনেতা নাটকের হালচাল নিয়ে বলেন, 'গত ঈদে আমি ১২-১৩টি নাটকে অভিনয় করেছি। প্রত্যেকটি নাটকের চিত্রনাট্য পড়ার পরেই মনে হয়েছে, কোথায় যেন একটা মিল আছে। একটি নাটকের সঙ্গে আরেকটি নাটকের সংলাপ হুবহু না মিললেও কনসেপ্ট মিলে যাচ্ছে। তাই চেষ্টা করছি এখন থেকে বেছে বেছে ভিন্ন গল্পের কাজ করব।' নাট্যাঙ্গনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ জোর করে লোক হাসানোর নামে ভাঁড়ামো করা নিয়ে। আর ভাঁড়ামো নাটকের সবচেয়ে বড় পোস্টার জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। বিগত চার-পাঁচ বছর ধরে কমেডি নাটকের বাইরে একটি নাটকেও অভিনয় করার সুযোগ পাননি তিনি। এ নিয়ে ক্ষোভ আছে ছোটপর্দার শিল্পীদের মধ্যে। ছোটপর্দার প্রিয়মুখ অহনা বলেন, 'একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী যখন একটি চরিত্রে জনপ্রিয়তা পান, তখন সবাই একই ধরনের চরিত্রে তাকে বারবার ডাকেন। এ চর্চাটা খুবই বাজে। নচেৎ মোশাররফ করিম ভায়ের মতো মেধাবী অভিনেতাকে কেন বছরের পর বছর কমেডি নাটকে আটকে থাকতে হবে। আমাদের গল্পের অভাব রয়েছে। চিত্রনাট্যকারের অভাব রয়েছে। এসব থেকে বের হয়ে নতুন কিছু দরকার।'

একই বিষয়ে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বলেন, 'ইদানীং অনেকেই চিত্রনাট্য ছাড়া নাটক নির্মাণ করছে। এমন কাজ ভালোতো হয়ই না, বরং দর্শকরা বিরক্ত হয়। এসব থেকে বের হতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করি সবসময়ই ভালো গল্প বেছে নিতে। তবে মাঝে মধ্যে গতানুগতিক বিষয়গুলোর সঙ্গে আমাকেও গা ভাসাতে হয়। কারণ আমার রুটি রুজি আসে অভিনয়ের মধ্য থেকেই। তাই নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করি ভালো মানের কাজ করতে।' এক সময়ের দাপুটে অভিনেত্রী ও সদ্য অভিনয় শিল্পী সমিতির নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য বন্যা মির্জা বলেন, 'ঘরের মানুষ হয়ে ঢালাওভাবে মন্তব্য করা উচিত নয়। তাও বলতে বাধ্য হচ্ছি, অনেকই পেটের দায়ে মানহীন কাজ করছে। এভাবে চলতে থাকলে তো মুশকিল।'

এদিকে বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। বেশির ভাগ নাটকেই তাকে দেখা যায় বেকার ছেলের সঙ্গে প্রেম করতে। এ বিষয় তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'গল্পের প্রয়োজনেই এমনটি করতে হয়। তবে এর দায়ভার চিত্রনাট্যকারের। তারা যেভাবে গল্প লিখেন আমরা সেভাবেই ক্যামেরার সামনে দৃশ্যায়ন করি। আমরাও চাই নিত্য নতুন চরিত্রে অভিনয় করতে।'

তবে আশার কথা হচ্ছে, সামনের দিনগুলোতে বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে চাইছেন নতুন প্রজন্মে অভিনয় শিল্পীরা। সময়পযোগী গল্পে অভিনয়ের মাধ্যমে গতানুগতিক ধারাকে ভাঙতে চাইছেন এসব তারকারা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে