logo
রোববার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২ ফাল্গুন ১৪২৫

  তারার মেলা রিপোটর্   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

মানবহিতৈষী জোলি

মানবহিতৈষী জোলি
অ্যাঞ্জেলিনা জোলি
হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি এখন বাংলাদেশে। জাতিসংঘের শরণাথীির্বষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের বিশেষ দূত হিসেবে চারদিনের জন্য বাংলাদেশে এসে ঢাকা থেকে কক্সবাজার তারপর টেকনাফ ঘুরে বেড়াচ্ছেন হলিউডের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রÑ বিষয়টি ভেবেই স্বস্তি পাচ্ছেন বাংলাদেশের জোলি ভক্তরা। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদশর্ন করছেন তিনি। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সংবাদ সম্মেলনেও অংশ নিয়েছেন তিনি।

অুুলনীয় সৌন্দযর্ ও মেধাশক্তির বদৌলতে আজ প্রায় ৩ যুগ পরে হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রীদের তালিকায় গৌরব এবং দাপটের সঙ্গে লিখিয়ে নিয়েছেন নিজের নামটি। তিনি একজন মাকির্ন অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নিমার্তা ও মানবহিতৌষী। তিনবার গোল্ডেন গেøাব পুরস্কার, দুইবার স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার এবং একবার একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছেন। একাধিকবার তিনি ‘বিশ্বের সেরা সুন্দরী’ নিবাির্চত হয়েছেন। অভিনয়শিল্পী, পরিচালক ও প্রযোজক এই পরিচয়গুলো ছাপিয়ে, জোলিকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখে তার মানবহিতকর কমর্কাÐ। বিশ্বব্যাপী মানবতার প্রচার এবং বিশেষ করে শরণাথীের্দর নিয়ে কাজ করার জন্য জোলি বিশেষভাবে সমাদৃত।

২০০১ সালে জোলি যখন কম্বোডিয়াতে টম্ব রেইডার চলচ্চিত্রে কাজ করছিলেন, তখন থেকেই ব্যক্তিগতভাবে মানবতার অভাবকে উপলব্ধি করতে শুরু করেন। একপযাের্য় এসে আন্তজাির্তকভাবে পীড়িত ও দুঃস্থ অঞ্চলগুলো সম্পকের্ তথ্য জানার জন্য জোলি ইউএনএইচসিআরের দ্বারস্থ হন। মানবতার এই বিপযর্য়কে ভালোভাবে জানা ও বাস্তবতা উপলব্ধির জন্য কয়েক মাস জোলি বিশ্বের বিভিন্ন শরণাথীর্ শিবির ও দুগর্ত এলাকা পরিদশর্ন করেন। ২০০১ সালে তার প্রথম সফওে জোলি ১৮ দিনের জন্য সিয়েরা লিওন ও তানজানিয়া ভ্রমণ করেন। এ সম্পকের্ তার উপলব্ধির কথা তিনি পরবতীর্ সময়ে গণমাধ্যমকে জানান। পরে মাসগুলোতে তিনি যেসব স্থানে সফর করেন তার মধ্যে দুই সপ্তাহের জন্য কম্বোডিয়া সফর ও পরে পাকিস্তানের আফগান শরণাথীর্ শিবির পরিদশর্ন করেন। ইউএনএইচসিআরের জরুরি অনুদান প্রাথর্নায় সাড়া দিয়ে তিনি সেখানে আফগান শরণাথীের্দর জন্য ১০ লাখ মাকির্ন ডলার অনুদান দেন। এ সমস্ত ক্ষেত্রে তার সব সফরের ব্যয়ভার তিনি নিজেই বহন করেন এবং তিনি ঠিক সেই সুযোগ-সুবিধাটুকুই গ্রহণ করেন, যা ইউএনএইচসিআরের একজন মাঠপযাের্য়র কমীর্র জন্য বরাদ্দকৃত। ২০০১ সালের ২৭ আগস্ট জেনেভায় অবস্থিত ইউএনএইচসিআরের সদর দপ্তরে জোলিকে ইউএনএইচসিআর শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ভ‚ষিত করা হয়।

মাঠপযাের্য় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জোলি পরিদশর্ন করেছেন এবং ২০টিরও বেশি দেশে তিনি শরণাথীর্ ও উচ্ছেদ হওয়া মানুষের সঙ্গে দেখা করেছেন। ২০০২ সালে জোলি থাইল্যান্ডের থাম হিন শরণাথীর্ শিবির ও ইকুয়েডোরে বসবাসরত কলম্বীয়া শরণাথীের্দও দেখতে যান। পরবতীর্ সময়ে জোলি কসভোতে অবস্থিত বিভিন্ন ইউএনএইচসিআর শিবির পরিদশর্ন করেন এবং কেনিয়ার কাকুমা শরণাথীর্ শিবির পরিদশর্ন করেন। কেনিয়ার এই শিবিরের শরণাথীর্রা প্রধানত সুদান থেকে আগত। নামিবিয়াতে বডার্রস চলচ্চিত্রে কাজ করার সময় তিনি সেখানকার অ্যাঙ্গোলান শরণাথীের্দর সঙ্গেও দেখা করেন।

২০০৩ সালে জোলি তানজানিয়ার পশ্চিম সীমান্তে যান, যেখানে মূলত কঙ্গোর শরণাথীর্রা অবস্থান করেন। এ ছাড়া তিনি শ্রীলঙ্কাতেও এক সপ্তাহব্যাপী একটি সফর করেন। নথর্ ককেশাস অঞ্চলে ভ্রমণের ইতি টানার জন্য চারদিনের সফরে রাশিয়াও ভ্রমণ করেন। ব্যক্তিগতভাবে ২০০৩-এর ডিসেম্বরে তিনি জডাের্নর পূবর্ মরুভূমিতে অবস্থিত ইরাকি শরণাথীর্ শিবির পরিদশের্নর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তার পরের মাসে তিনি সুদানি শরণাথীের্দর সঙ্গে দেখা করতে মিসর যান।

জোলি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তার প্রথম জাতিসংঘ সফরের অংশ হিসেবে ২০০৪ সালে অ্যারিজোনা সফর করেন। সেখানকার তিনটি আশ্রয় কেন্দ্র দক্ষিণ-পূবর্ অঞ্চলের মূল কমর্কাÐগুলোর ফিনিক্সের উদ্বাস্তু শিশুদের আশ্রয় কেন্দ্র পরিদশর্ন করেন। ২০০৪ সালে তিনি শাদের সীমান্তবতীর্ অঞ্চলগুলোতে পশ্চিম সুদানের দারফুর সংকটের কারণে সৃষ্ট উদ্বাস্তুদের শরণাথীর্ শিবিরগুলো পরিদশর্ন করেন। চার মাস পর তিনি সরাসরি দারফুরেই সফর করেন। ২০০৪ সালে তিনি থাইল্যান্ডে অবস্থিত আফগান শরণাথীের্দর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বড়দিনের ছুটিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইউএনএইচসিআরের আঞ্চলিক দপ্তর পরিদশর্ন করেন। সেই সঙ্গে এ সফরে তিনি বৈরুতের কিছু অল্পবয়সী শরণাথীর্ ও ক্যান্সার রোগীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

২০০৫ সালে জোলি পাকিস্তানে অবস্থিত আফগান শরণাথীর্ শিবির পরিদশর্ন করেন এবং সেই সঙ্গে পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রতি পারভেজ মোশাররফ ও প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ২০০৫ সালের কাশ্মির ভূমিকম্পের প্রভাব ও ভূমিকম্প পরবতীর্ অবস্থা পরিদশের্নর জন্য তিনি থ্যাংকসগিভিংয়ের সাপ্তাহিক ছুটিতে ব্র্যাড পিটের সঙ্গে আরেকবার পাকিস্তান সফর করেন। ২০০৬-এ জোলি ও পিট হাইতিতে যান ইয়োলা হাইতি নামের একটি দাতব্য সংগঠনের স্কুল পরিদশের্নর জন্য। ২০০৬ সালের বড়দিন তিনি কোস্টা রিকার স্যান হোসেতে কলম্বীয় শরণাথীের্দর সঙ্গে পালন করেছেন। সেখানে তিনি তাদের মাঝে উপহারও বিতরণ করেন। ২০০৭-এ জোলি দারফুরের অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিমাপের জন্য দুদিনের সফরে শাদ সফর করেন। শাদ ও দারফুরের তিনটি ত্রাণ সংগঠনকে জোলি ও পিট ১০ লাখ ডলার করে অনুদান দেন। সেই বছরে জোলি প্রথমবারের মতো সিরিয়া সফর করেন এবং দুইবার ইরাক সফর করেন। ইরাকে তিনি শরণাথীের্দর সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি বহুজাতিক সৈন্য ও মাকির্ন সৈন্যদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জোলি মানবতার পথে সংশ্লিষ্টতা বাড়ানোর কাজে আরও বেশি সময় দেয়া শুরু করেন।

সবের্শষ জাতিসংঘের শরণাথীির্বষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের বিশেষ দূত হিসেবে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদশর্ন করছেন। সেখানে হলিউডের এই অভিনেত্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নারীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় ধষের্ণর শিকার নারীদের বুকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। জোলি তাদেও ধৈযর্ ধরার পরামশর্ দেন। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গেও সময় কাটান। মঙ্গলবার কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে সংবাদ সম্মেলনে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের ভ‚য়সী প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশের পাশে এসে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে আহŸান জানান জোলি।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে