logo
মঙ্গলবার ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৫

  আল মাসিদ   ০৪ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০  

রানি রাসমণির নায়ক বাংলাদেশের নূর

বতর্মান সময়ে ভারতের চ্যানেল জি বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘করুণাময়ী রানি রাসমণি’। এখানে রানি রাসমণির স্বামী রাজচন্দ্র দাসের চরিত্রে অভিনয় করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন বাগেরহাটের ছেলে গাজী আবদুন নূর।

রানি রাসমণির নায়ক  বাংলাদেশের নূর
সিরিয়ালের দৃশ্যে দ্বিতীপ্রিয়া ও নূর
‘করুণাময়ী রানি রাসমণি’ সিরিয়ালের বদৌলতে কলকাতা ও বাংলাদেশের দশর্কদের কাছে এখন খুব প্রিয় চরিত্র ‘রানি রাসমণির স্বামী রাজচন্দ্র দাস’। তবে এই চরিত্রের অভিনেতার আসল পরিচয় হয়ত অনেকেই জানেন না। কলকাতার সিরিয়াল করে জনপ্রিয়তা পেলেও তিনি মূলত বাংলাদেশেরই সন্তান। নাম গাজী আবদুন নূর। বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট উপজেলায় বাবার বাড়ি আর নানাবাড়ি গোপালগঞ্জে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পযাের্য়র পড়াশোনা করেছেন বাগেরহাটে। নূর মঞ্চ নাটকের সঙ্গে জড়িত হন বাংলাদেশেই। যশোরের ‘বিবতর্ন’ নাট্যদলের সদস্য ছিলেন তিনি। কলাকাতার অনিক থিয়েটার আয়োজিত গঙ্গা-যমুনা নাট্যোৎসবে ‘রাজা প্রতাপাদিত্য’ নাটক নিয়ে ২০১১ সালে কলকাতায় যান নূর। ওই সময় সেখানে নাটক নিয়ে পড়াশোনা করার আগ্রহ তৈরি হয় তার। ২০১২ রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক নিয়ে স্নাতক করার সুযোগ পেয়ে যান। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন।

বাবা গাজী আবদুল মান্নান যখন মারা যান, তখন গাজী আবদুন নূর খুব ছোট। এক সময় সংসার চালানোর ভার চলে আসে তার ওপর। তাই কলকাতায় শুরু থেকেই কাজের সন্ধানে ছিলেন। শুরুতেই ক্যামেরার পেছনের কাজ, অরোরা ফিল্মস-এ নিবার্হী প্রযোজক হিসেবে কাজ পান। তবে খুব বেশি দিন ক্যামেরার পেছনে কাজ করতে হয়নি তাকে। একসময় সিদ্ধান্ত নেন, পেছনে নয়, ক্যামেরার সামনে কাজ করবেন। কিন্তু কলকাতার টিভি ও চলচ্চিত্রে এখন কঠিন প্রতিযোগিতা। এর মাঝে কীভাবে নিজের জন্য এতটুকু জায়গা করে নেবেন তিনি?

নূর জানান, শুরুতে তার ইচ্ছা ছিল বড়পদার্য় কাজ করার। কিন্তু প্রস্তাব পান ছোটপদার্র। কালারস বাংলার ‘রেশম ঝঁাপি’ আর জি বাংলার ‘বাক্স বদল’ সিরিয়ালের মূল চরিত্র। কিন্তু রাজি হননি। তার মনে হয়েছিল, দুটোই গতানুগতিক গল্প।

তবে ‘রেশম ঝঁাপি’ সিরিয়ালটি না করলেও সেই অডিশনেই জি বাংলার একজন তাকে দেখে পছন্দ করেন। তিনি ‘করুণাময়ী রানি রাসমণি’ সিরিয়ালে রাজচন্দ্র দাশের চরিত্রে অডিশন দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। অডিশনের সেই অভিজ্ঞতা শোনা যাক নূরের মুখেই, ‘এই চরিত্রে অডিশন দিতে এসেছিল ২০০ জন! আমার সিরিয়াল ছিল ১১৭। এত দিন নাটক নিয়ে পড়েছি, তাই কিছুটা আত্মবিশ্বাস ছিল। শেষ পযর্ন্ত সফল হয়েছি।’

রানি রাসমণির যে গল্প ‘করুণাময়ী রানি রাসমণি’ সিরিয়ালে তুলে ধরা হয়েছে, তা ২০০ বছর আগের। চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে কিছু নাটকীয়তা যুক্ত করা হলেও মূল গল্প থেকে সরে যায়নি কতৃর্পক্ষ।

নিজেকে এত আগের একটি ভিন্নধমীর্ চরিত্রের জন্য কীভাবে তৈরি করলেন জানতে চাইলে গাজী আবদুন নূর বলেন, ‘এই সিরিয়ালের কাজ শুরু করার আগে পঁাচ বছর সেই কাহিনী নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তা থেকে রাজচন্দ্র দাশের চেহারার ব্যাপারে যতটা ধারণা পাওয়া গেছে, সেভাবেই নিজেকে সাজিয়েছি। সেই পুরোনো আমলের জমিদারদের সঙ্গে মিলে যায়, তেমনিভাবে গেঁাফ আর দাড়ি রেখেছি। যে বাড়িতে আমি থাকি, সেই বাড়ির সব আসবাবপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে বিভিন্ন নিলাম থেকে। সেসব আসবাবপত্র বিভিন্ন জমিদারবাড়ির। এ ছাড়া ২০০ বছর আগে কলকাতার বাবুরা যেভাবে কথা বলতেন, সেভাবে কথা বলার ঢং রপ্ত করেছি। একে তো আমি বাংলাদেশি তাই আমাদের কথার ঢং কলকাতা থেকে আলাদা। তার ওপর এত আগের জমিদারদের কথার ধরনটি আয়ত্ত করতে অনেক চচার্ করতে হয়েছে আমাকে।’

নূর যে তার পরিশ্রমের ফল পেয়েছেন, তা তার জনপ্রিয়তা দেখলেই বোঝা যায়। এ ছাড়া তাকে নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় চিত্রপরিচালক রাজ চক্রবতীর্। কিন্তু এখনই চলচ্চিত্রের জন্য সময় দিতে পারছেন না গাজী আবদুন নূর। তিনি বলেন, ‘সিরিয়ালটি একটা জায়গায় পেঁৗছে গেছে। আমাদের সপ্তাহে সাত দিনই কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু একটা চলচ্চিত্রের জন্য ন্যূনতম ১৭-১৮ দিন সময় দিতে হবে। এখন যদি আমি ছুটি নিই, তাহলে সিরিয়ালটির জনপ্রিয়তার ওপর তার প্রভাব পড়বে, তা আমি চাই না।’

এরই মধ্যে তিনি বড়পদার্য়ও নাম লিখিয়েছেন। তবে সেটা বিদেশে নয়, দেশের ছেলে নিজের দেশের ছবি দিয়েই বড়পদার্য় যাত্রা শুরু করছেন। সেলিম আল দীনের কাহিনী অবলম্বনে নারগিস আক্তারের ‘যৈবতী কন্যার মন’ ছবিতে দেখা যাবে এই প্রতিভাবান তরুণ অভিনেতাকে। ছবিটি অচিরেই মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক। এর আগে তিনি বাংলাদেশে আসবেন, ছবিটির প্রচারণার কাজে অংশ নিতে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে