logo
মঙ্গলবার ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৫

  অনলাইন ডেস্ক    ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

‘কাউকে আইডল মনে করি না’

তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা ঐশি। হৃদয়ছেঁায়া সুর আর ভিন্নধমীর্ গায়কী দিয়ে জয় করে নিয়েছেন দশর্ক-শ্রোতার হৃদয়। খুব অল্প সময়েই পরিচিতি পেয়েছেন গানের ভুবনে। গান আর সমসাময়িক নানা বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেনÑ মাসুদুর রহমান

‘কাউকে আইডল  মনে করি না’
ফাতেমা তুজ জোহরা ঐশি
বতর্মান ব্যস্ততা কি নিয়ে?

গান ও পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত আছি। বতর্মানে এম এইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজে চতুথর্ বষের্ পড়ছি। তাই পড়াশোনা নিয়ে একটু বেশিই ব্যস্ত থাকতে হয়। এ জন্য ঢাকার বাইরের কসসাটর্গুলোতে খুব একটা যাওয়া হয় না। তবে ঢাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করছি। এ ছাড়া বিভিন্ন রেডিও-টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে নিয়মিত গান করছি। ঈদের পর অনেক টিভিতে প্রোগ্রাম করেছি। সবের্শষ দীপ্ত টিভিতে কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে একটি লাইভ প্রোগ্রামে নজরুলের ফোক ঘরানার গান করেছি। কনসাটর্ ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানের অনেক প্রস্তাব আসে, কিন্তু সব অনুষ্ঠানে গান করি না। অনুষ্ঠানের মান বুঝে রাজি হই। এর বাইরে অচিরেই কিছু নতুন গানের কাজ শুরু করব। এখনই এ নিয়ে কিছু বলতে চাই না। সময় হলে সবাই জানবেন।

সম্প্রতি রফিকউজ্জামানের কথায় প্রথম গান করেছেন?

হ্যঁা, কিছু দিন আগে অরুণ চৌধুরীর নতুন সিনেমা ‘চেহারা’র জন্য গানটি করেছি। নারীদের নিয়ে গানটি গাওয়ার সময় এক ধরনের স্পৃহা কাজ করেছে। ‘নারী-পুরুষ দিয়ে গড়া এই দুনিয়াটাই, ছোট-বড় করে দেখার কোনো সুযোগ নাই’Ñ এমন কথার গানটি লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। এ গানের সুর-সংগীত করেছেন ফরিদ আহমেদ। খুব ভালো লাগার বিষয় যে, এই প্রথম রফিকুজ্জামান স্যারের মতো একজন গুণী ব্যক্তির গানে কণ্ঠ দিতে পেরেছি। স্যারের কথায় গান করতে পারব এমনটা কখনো ভাবিনি। এটা আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। এর জন্য ফরিদ আহমেদ স্যারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, আমাকে এ সুযোগটা করে দেওয়ার জন্য। সব মিলিয়ে গানটা খুব ভালো হয়েছে।

অরুণ চৌধুরীর প্রথম চলচ্চিত্র ‘আলতাবানু’ ছবিতে ফরিদ আহমেদেরই সুর ও সংগীতে থিম সং করেছিলাম। ‘জীবন খেঁাজে জীবন’ শিরোনামের সেই গানটি করার পর অনেক প্রশংসা পেয়েছি। এবারের গানটিও ব্যতিক্রম। শ্রোতাদশর্করাও বেশ উপভোগ করবে আশা করি।

প্লেব্যাকে ব্যস্ততা কেমন?

এ পযর্ন্ত ৩০টির মতো ছবিতে প্লেব্যাক করেছি। ‘পাষাণ’, ‘আলতাবানু’ ও ‘গহিন বালুচর’ সিনেমার গান দুটি বেশ সাড়া ফেলেছে। সবের্শষ শাকিব খান ও বুবলী অভিনীত ‘চিটগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া’ ছবিতে গান করেছি। এখন পড়াশোনার ব্যস্ততায় আপাতত প্লেব্যাক কমিয়ে দিয়েছি। বেছে বেছে দু-একটিতে প্লেব্যাক করছি।

আপনার প্রকাশিত অ্যালবামগুলো নিয়ে বলুন ...

২০১৫ সালে লেজার ভিশনের ব্যানারে প্রথম একক অ্যালবাম ‘ঐশী এক্সপ্রেস’ প্রকাশ পায়। এর আগে আমি মিক্সড অ্যালবামে গান করেছি। ২০১৬ সালে বেলাল খানের সুর ও জেকের সংগীত আয়োজনে প্রকাশ হয় দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘মায়া’। একই বছর ঈদুল আজহায় প্রদীপ সাহার কথায় নাজির মাহমুদ ও অভি আকাশের সুরে প্রকাশ হয় তৃতীয় অ্যালবাম ‘হাওয়া’। এরপর অ্যালবাম আর হয়নি। এখন তো আসলে অ্যালবামের সময়টা নেই। সবাই অনলাইনে গান প্রকাশ করছে।

মিউজিক ভিডিও নিয়ে আপনার কি অভিমত?

সময়ের দাবি হিসেবে গানের মিউজিক ভিডিওর গুরুত্ব আছে। গান এখন দেখারও বিষয় হয়ে দঁাড়িয়েছে। তবে মাথায় রাখতে হবে গান আগে শোনার, তারপর দেখার। তাই শুনতে ভালো না লাগলে মিউজিক ভিডিও করে লাভ নেই।

গানের সঙ্গে শখ্য কখন থেকে?

গানে হাতেখড়ি হয়েছিল ছোটবেলায় মায়ের কাছেই। নোয়াখালীতে আমার জন্ম হলেও বাবার চাকরির সুবাদে আমার শৈশব কেটেছে রংপুরে। সেখানে ২০০০ সালে শিশু একাডেমিতে গান শেখা শুরু। এরপর ২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল পযর্ন্ত নোয়াখালীর মৌমাছি কচিকঁাচার মেলায় গান শিখেছি। ২০০৮ থেকে আমার সংগীতগুরু হাফিজউদ্দিন বাহার। ২০১২ সাল থেকে গানের ভুবনে পরিচিতি পাই। পরিবারের সমথর্ন থাকলেও মায়ের সহযোগিতা আমাকে এত দূর নিয়ে এসেছে। মা পাশে না থাকলে হয়তো আজ আমি গানের ঐশী হতে পারতাম না।

কোন ধরনের গান গাইতে ভালো লাগে?

কণ্ঠশিল্পী হিসেবে সব ধরনের গানই আমার ভালো লাগে। তবে বেশি গাওয়া হয় ফোক গান। ফোক গানে একটা তৃপ্তি পাওয়া যায়।

কাদের গান ভালো লাগে?

সত্যি বলতে অনেকের গান আমার ভীষণ পছন্দ। তবে কাউকে আমি আইডল মনে করি না। এর মধ্যে শ্রদ্ধেয় রুনা লায়লা ম্যাডামের গান সবচেয়ে বেশি পছন্দ। আর নতুনদের মধ্যে কনা আপুকে ব্যক্তি হিসেবে আমার অনেক ভালো লাগে।

ভবিষ্যতে পেশা হিসেবে চিকিৎসক না গানকে বেছে নেবেন?

গানতো ছাড়তে পারব না, আবার একজন ভালো চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নও অনেক দিনের। আমার কাছে দুটিরই গুরুত্ব অনেক। দুটিতে ব্যালেন্স করে চলতে চাই। তবে গান আমার নেশা বলা যায়। গান আমার রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে। গান ছাড়া বাকিজীবনের চিন্তা করতে পারি না। গান নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন, অনেক ভাবনা। গান নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই বহুদূর।

নিজেকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আমি যেমন একজন অতি সাধারণ মানুষ তেমনই ক্ষুদ্র একজন গানের মানুষ হওয়ার চেষ্টা করছি। সংগীতশিল্পী হিসেবে কিছুটা পরিচিতি পেলেও এখন পযর্ন্ত নিজেকে শিল্পী মনে করি না। শিল্পী হওয়া অনেক বড় বিষয়। প্রচুর সাধনা করতে হয়।

সময়ের দাবি হিসেবে গানের মিউজিক ভিডিওর গুরুত্ব আছে। গান এখন দেখারও বিষয় হয়ে দঁাড়িয়েছে। তবে মাথায় রাখতে হবে গান আগে শোনার, তারপর দেখার। তাই শুনতে ভালো না লাগলে মিউজিক ভিডিও করে লাভ নেই...
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে