logo
বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  ছবি ঘোষ   ০৪ মে ২০১৯, ০০:০০  

মস্তিষ্কের কাজের নানা ব্যাখ্যায় জিন

আমরা অন্যের ভাষা শুনে বুঝে ফেলি তখনই যখন মিরর নিউরনে বিম্ব পড়ে। মিরর নিউরন এ বিম্বকে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে পাঠায়। প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে যদি উপযুক্ত মেমোরি সেল থাকে, তাহলে ভাষাটা আমরা বুঝব। আর যদি তা না থাকে, তাহলে আমরা বুঝব না।

মানুষ চিন্তা করে প্রিফ্রন্টাল অঞ্চলে। এ অঞ্চলে চিন্তার উপাদান হিসেবে স্নায়ুগুলো যে দুটি তথ্য উপাদান বেশি মাত্রায় পাঠায়, তা হচ্ছে দৃশ্য এবং ভাষা। তাই আমাদের চিন্তায় দৃশ্য ও ভাষার ব্যবহার বেশি। প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের অভ্যন্তরীণ উপস্থাপনা চিন্তা এবং তার প্রয়োজনীয় একটি অংশ আমরা শব্দ করে অন্যের তরে ছেড়ে দিই।

ভাষাসহ সব ধরনের কগনিশন প্রক্রিয়া স্মৃতি ও শিক্ষার মাধ্যমে উপস্থাপন করা যেতে পারে। আসলে আমাদের মানসিক প্রক্রিয়ার একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে স্মৃতি ও শিক্ষা। সে হিসেবে কগনিশনের কেন্দ্রীয় জায়গা হচ্ছে স্মৃতি ও শিক্ষা। আমাদের আজকের মনোযোগ হচ্ছে ভাষাগত কগনিশনের নিয়মকানুন ব্যাখ্যায় স্মৃতি ও শিক্ষার ভূমিকা। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জীবের বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক জিন। জিন মানুষের মানসিক প্রক্রিয়ার মূল সুর। জিন ও সিন্যাপসের কথোপকথনের মধ্যে নিহিত আছে যাবতীয় মানসিক প্রক্রিয়ার বীজ।

স্টিফেন পিঙ্কার ভাষাকে দেখেছেন একটি হোমোজিনিয়াস অ্যাসোসিয়েটিভ স্মৃতিব্যবস্থার ফল হিসেবে অথবা বিকল্পভাবে, জিনগতভাবে নির্ধারিত হিসাব মডিউলের একটি সেট যার ভেতরে নিয়মগুলো প্রতীকগত উপস্থাপনা ম্যানিপুলেট করে। এই যে হোমোজিনিয়াস অ্যাসোসিয়েটিভ স্মৃতিব্যবস্থা এবং জিনগতভাবে নির্ধারিত হিসাব মডিউল নামক দুটো তত্ত্ব তা স্টিফেন পিঙ্কার তার দ্য ল্যাঙ্গুয়েজ ইন্সটিঙ্কট, ওয়ার্ডস অ্যান্ড রুলস গ্রন্থদ্বয়ে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।

মস্তিষ্কের কোন অঞ্চল ভাষা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত তা গত শতাব্দীর শুরুর দিকে বিজ্ঞানীরা চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। ভাষা উপলব্ধি ও তা প্রকাশের সঙ্গে জড়িত অঞ্চলকে চিহ্নিত করে নাম দেয়া হয়েছিল ওয়ারনিকের এলাকা এবং ব্রোকার এলাকা। এ শতাব্দীর সূচনালগ্নে ভাষাবিজ্ঞানীরা ভাষা অঞ্চলের সঙ্গে আরো দুটি বিষয় যোগ করেছেন। এর একটি হচ্ছে মিরর নিউরন, অন্যটি প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে