logo
বৃহস্পতিবার ২৩ মে, ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

  আফরিন জাহান   ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০  

জিনের ভিন্নধর্মী কাজ

মূলত জেনেটিক কারণেই ঘুমে এ অনিয়ম হচ্ছে। অর্থাৎ আপনার দেরি করে ঘুমানো আর ঘুম থেকে ওঠায় যারা চিৎকার করছেন তারাই আসলে বহন করছেন ঘুমের এ জিন! ঘুম ভালো হলে শরীরে রক্তপ্রবাহ শতকরা ৭ ভাগ বেড়ে যায়। ফলে রক্ত শরীরের সব অংশেই পৌঁছে যায়। বিশেষজ্ঞরা মানুষের অনুভূতিতেও ঘুমের খুব ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করেছেন।

জিনের ভিন্নধর্মী কাজ
মানুষের শরীরে জিনের রয়েছে নানা রকম কাজ। এসকল কাজ নিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত গবেষণা করছেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মূলত জেনেটিক কারণেই ঘুমে এ অনিয়ম হচ্ছে। অর্থাৎ আপনার দেরি করে ঘুমানো আর ঘুম থেকে ওঠায় যারা চিৎকার করছেন তারাই আসলে বহন করছেন ঘুমের এই জিন!

ঘুম ভালো হলে শরীরে রক্তপ্রবাহ শতকরা ৭ ভাগ বেড়ে যায়। এর ফলে রক্ত শরীরের সব অংশেই পৌঁছে যায়। বিশেষজ্ঞরা মানুষের অনুভূতিতেও ঘুমের খুব ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করেছেন। ঘুম ভালো হলে নাকি প্রিয়জনের প্রতি আকর্ষণ এবং ভালোবাসাও বাড়ে!

যদিও অনেক গবেষক এ অনুসিদ্ধান্তের বিরোধিতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন কেউ তাড়াতাড়ি ঘুমালে স্বভাবতই সকালে উঠবেন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কিছু কারণে মানুষের ঘুম স্বাভাবিক হতে না-ও পারে। যেমন- কেউ যদি অত্যধিক মানসিক টেনশনে থাকে, ডিপ্রেশনে থাকে। বিজ্ঞানীদের এ গবেষণা প্রতিবেদন সম্প্রতি ন্যাচার কমিউনিকেশন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

অনেকেই আছেন যারা সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠেন। আবার এমন মানুষের অভাব নেই যারা রাতে ঘুমানই না। তাদের ঘুম শুরু হয় সকালে। মা-বাবা বিশেষ করে বাড়ির বড়রা ঘুমানোর এ অভ্যাসকে সহজভাবে সমর্থন করেন না। অনেকেই দেরি করে ঘুমানো আর ঘুম থেকে ওঠার কারণও হয়তো বা অনুসন্ধান করেছেন। সম্প্রতি গবেষকরা ঘুম নিয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন, যেখানে সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা বা দেরি করে ঘুমানোর কারণ জানা গেছে। ঘুম বা নিদ্রা হচ্ছে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর দৈনন্দিন কর্মকান্ডের ফাঁকে বিশ্রাম নেয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যখন সচেতন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া থেমে থাকে। নিষ্ক্রিয় জাগ্রত অবস্থার সঙ্গে ঘুমন্ত অবস্থার পার্থক্য হলো এ সময় উত্তেজনায় সাড়া দেয়ার ক্ষমতা হ্রাস পায়। মানুষ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী এবং অন্য বেশ কিছু প্রাণীর (যেমন কিছু প্রজাতির মাছ, পাখি, পিঁপড়া ও ফ্রুটফ্লাই) অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নিয়মিত ঘুম আবশ্যক। ঘুমন্ত মানুষের চেহারায় এক অজানা অতিরিক্ত আবেগ অনুভূতি কাজ করে, যা গোপন এক প্রাকৃতিক নিরাপত্তা দেয়।

বেশি ঘুমালে মানুষ মোটা হয়ে যায়- এ ধারণাটাকে বোধহয় আগামীতে হেসেই উড়িয়ে দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম বেশি হলে বরং ওজন কমে। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ঘুম বেশি হলে বিপাকপ্রক্রিয়া ঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, ফলে যেসব খাদ্য উপাদান মেদ বাড়ায় সেগুলো হজম হয়ে যায়। সুতরাং মেদ কমাতে শুধু খাওয়া-দাওয়া, ব্যায়াম, খেলাধুলাই নয়, পাশাপাশি ঘুমের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।

হঁ্যা, কাজে ভুলের হারও কমায় ঘুম। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নির্ভুল কাজের জন্য খুবই দরকার। প্রয়োজনমতো বিশ্রাম নিলে শরীর ও মন দীর্ঘক্ষণ কাজের ধকল সহ্য করার মতো করে প্রস্তুত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভালো ঘুমের পর মানুষ নাকি শব্দ ভালোভাবে শোনে, সব ধরনের রং পরিষ্কার দেখে, এমনকি বোঝার ক্ষমতাও নাকি বাড়ে।

সুস্থ জীবনের জন্য দিনে দুবার ঘুমানো দরকার। রাতের ঘুমের বাইরে একবার সামান্য একটু ঘুমিয়ে না নিলে কর্মক্ষমতা কমে। মন-মেজাজেও তার প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাজের ফাঁকের সামান্য ঘুমও হৃৎস্পন্দনের হার শতকরা ৫ ভাগের মতো কমায় এবং কাজে মনোনিবেশের ক্ষমতা বাড়ায় শতকরা ৩০ ভাগের মতো।

দিনের বেলায় ক্ষণিকের জন্য হলেও অনেককে ঘুমে ঢলে পড়তে দেখা যায়। আধুনিক জীবনযাত্রার চাপে ভাতঘুম তো লোপ পেতে বসেছে। কিন্তু এমন 'পাওয়ার ন্যাপ' শরীরকে চাঙ্গা রাখতে অত্যন্ত জরুরি।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে