logo
শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬

  সাহিনুর রহমান   ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০  

পরমাণু শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে

পরমাণু শক্তির ব্যবহার  বাড়াতে হবে
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন বাংলাদেশের বিজ্ঞান গবেষণার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। বাংলাদেশের পরমাণুসংক্রান্ত গবেষণার অধিকাংশ এ প্রতিষ্ঠানেই হয়ে থাকে। সরকারি এ প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা কাযর্ক্রম চলে। তবে স্বাস্থ্য খাতে যে গবেষণা ও প্রকল্প থাকা প্রয়োজন ছিল তা নেই। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার এখনই সময়।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে উন্নত পযাের্য়র কাজ করার মাধ্যমে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন বিগত তিন দশকেরও অধিক সময় ধরে দেশের সবর্বৃহৎ বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বল্প, মধ্যম ও দীঘের্ময়াদি যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে পারমাণবিক গবেষণা ও উন্নয়ন কাযর্ক্রম পরিচালনা করে আসছে। কমিশনের সাবির্ক কমর্কাÐে মান নিয়ন্ত্রণ ও মান নিশ্চিতকরণ, অত্যাধুনিক পরমাণু চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে সবর্স্তরের জনগণ বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে এ সেবা পেঁৗছে দেয়া, তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহারে যথাযথ বিকিরণ নিরোধ ও নিরাপত্তা বিধান করে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ, আমদানিকৃত খাদ্যসামগ্রীতে তেজস্ক্রিয়তার গ্রহণযোগ্য মাত্রা নিধার্রণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য তথা পরিবেশ সুরক্ষা ও সবোর্পরি পরমাণু প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ ও কমর্সংস্থান সৃষ্টি ইত্যদি অন্তভুর্ক্ত। কমিশনের রয়েছে সুনিদির্ষ্ট ভিশন ও মিশন।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে সম্প্রতি সেখানকার বিজ্ঞানীরা দেশীয় প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য খাতে পরমাণু শক্তিকে কিভাবে আরো বেশি কাযর্করভাবে ব্যবহার করা যায় সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন। পরমাণু শক্তি কমিশনের সাভার অফিসের বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানা সম্ভব হয়েছে। সাভার শাখায় কমর্রত পরমাণু শক্তি কমিশনের কয়েকজন বায়োটেকনোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরমাণু শক্তির রয়েছে বহুবিধ ব্যবহার। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যদিও পরমাণু শক্তিকে ক্ষমতার অপব্যবহারের স্বাথের্ ব্যবহার করছে তার পরও উন্নত দেশেই আবার তেজস্ক্রিয় পরমাণু এবং পরমাণু শক্তির আরো কিছু রূপকে ব্যবহার করে মানবকল্যাণে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ভিশন হচ্ছে পরমাণু শক্তির শান্তিপূণর্ ব্যবহারের মাধ্যমে সাবির্ক আথর্-সামাজিক উন্নয়নে অবদানের লক্ষ্যে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি সাধন দ্বারা আত্মনিভর্রশীলতা অজর্ন।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের মিশনের মধ্যে রয়েছেÑ

ভৌত, জীব ও প্রকৌশল শাখার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনিভর্র মৌলিক ব্যবহারিক ও উন্নত গবেষণা কমর্সূচির অগ্রগতি সাধন।

পারমাণকি শক্তি তথা পারমাণবিক বিদ্যুৎবিষয়ক কমর্সূচির বাস্তবায়ন

পারমাণবিক প্রযুক্তনিভর্র সেবামূলক কমর্কাÐ ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তিক ব্যবহারকারীর কাছে পেঁৗছে দেয়া।

কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের ক্ষেত্রে পরমাণু প্রযুক্তির প্রয়োগ

পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে মানবসম্পদ উন্নয়ন

বিকিরণজনিত নিরাপত্তা চচার্ প্রতিষ্ঠাকরণ

খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণে পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহার

পরমাণু শক্তি কমিশনে বেশ কিছু গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে এগুলো হচ্ছেÑ

- পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইন্সটিটিউট

- খাদ্য ও বিকিরণ জীববিজ্ঞান ইন্সটিটিউট

- ইন্সটিটিউট অব ইলেকট্রনিক্স

- ইন্সটিটিউট অব কম্পিউটার সায়েন্স

- রিঅ্যাক্টর চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিট

- এনাজির্ ইন্সটিটিউট

- টিস্যু ব্যাংকিং অ্যান্ড বায়োম্যাটেরিয়াল রিসাচর্ ইউনিট

- পরমাণু খনিজ ইউনিট

- কেন্দ্রীয় প্রকৌশল সুবিধাদি

এ ছাড়া পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের ঢাকা অংশে রয়েছেÑ

এক্সিলারেটর ফ্যাসিলিটিজ বিভাগ, রসায়ন বিভাগ, ইলেকট্রনিক্স বিভাগ, পরীক্ষণ পদাথির্বজ্ঞান বিভাগ, স্বাস্থ্য পদাথির্বজ্ঞান বিভাগ, বস্তুবিজ্ঞান বিভাগ, ননডেস্ট্রাকটিভ টেস্টিং, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড জেনারেল সাভিের্সস।

এ ছাড়াও পরমাণু শক্তি কমিশনের আওতায় রয়েছে পরমাণু চিকিৎসা ও আল্ট্রাসাউন্ড কেন্দ্র, তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষণ ও মনিটরিং গবেষণাগার, সৈকত খনিজ বালি আহরণ কেন্দ্র।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ভিশন আর মিশন মাথায় রেখে কমিশনের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। একটি দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাত যত উন্নত হবে দেশ নানা দিক দিয়েই তত স্বাবলম্বী হবে। এ জন্য দেশের সরকার এবং গবেষণায় নিয়োজিত বিজ্ঞানীদের একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যেতে হবে।

সাভারের বায়োটেকনোলজিস্টরা আরো জানালেন, পরমাণু শক্তি কমিশনের এই যে বহুমাত্রিক উদ্যোগ তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তবে সরকারকে এ পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য আরো বেশি আন্তরিক হতে হবে। কারণ, উন্নত দেশগুলো এখন পরমাণু শক্তিসংক্রান্ত নানারকম উপায় উদ্ভাবন করে ফেলেছে। জিনপ্রযুক্তি, টিস্যু কালচার ও পরমাণু শক্তির সমন্বয়ে তারা অনেক দুরারোগ্য ব্যাধির নিরাময় করছে। স্বাস্থ্য খাতে রাখছে বহুমাত্রিক উদ্যোগ। আমাদের এ উদ্যোগগুলো বুঝতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের উদ্ভাবন শক্তিও বাড়াতে হবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে