logo
রোববার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২ ফাল্গুন ১৪২৫

  তাহমিনা সানি   ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

শব্দের সান্নিধ্যে জেগে ওঠা সৃষ্টিশীলতা

‘শুধু সাহিত্যে কেন সমাজেও নারীর পরিধি বলে কিছু নেই। এটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের একটা ইঙ্গিতমাত্র। আমাদের সমাজের নারীরা এখনও এই স্বাধীন সময়ে এসেও এক অদৃশ্য পরাধীনতাকে আপন করে নিতে চায়। হয়তো যুগে যুগে বয়ে আসা এক ধরনের বোধ বাধ্য করছে গৃহবাসী হতে। কিন্তু সময় এখন বদলেছে। এখন পড়াশোনা ও প্রযুক্তির জোরালো প্রভাবে অনেক নারীরই চেতনার বিকাশ হয়েছে। এখন তারা বুঝতে শিখেছে কোনটা ভালো কোনটা মন্দ। কোনটা আলো, কোনটা অন্ধকার।’

শব্দের সান্নিধ্যে জেগে ওঠা সৃষ্টিশীলতা
যখন কলম চাষির কলমের অঁাচড়ে অঁাকা সময়ের সুখ-দুঃখÑ হাহাকার, তৃপ্তি-অতৃপ্তির গল্প কিংবা পাওয়া-না পাওয়ার হাজারো ছবি বইবন্দি হয় তখন সময়কে ধরা যায় পরম যতেœ। যদি তার বুনন হয় নিখুঁত, যাপনের বোধকে অক্ষরে গেঁথে রাখা যায় বইয়ের ভঁাজে, তবে তা হয় কালের সাক্ষী। সে ছড়ায় বিচিত্র দ্যুতি জীবনের পরতে পরতে। তাই সময়ের আবতের্ন কলমের ফলায় রেখে যাওয়া বোধের অস্তিত্বÑ পথ চলে আগামীর পথে।

আর তা যদি হয় বইমেলার মতো আত্মার, মননের, বাঙালির সংস্কৃতিঘেঁষা; তাহলে একজন লেখক হিসেবে গবির্ত না হয়ে পারি না। বইমেলার স্পন্দন আমাকে জড়িয়ে রাখে পরম মিত্রতায়। এ এক গভীর সুখানুভ‚তি, যা ভাষা দিয়ে প্রকাশযোগ্য নয়। বইমেলা আমার কাছে আত্মায় চাষ করা মননের ফসল যেন।

বইমেলা ঘিরে পাঠক-লেখক-প্রকাশকের এই মিলনমেলায় সৃষ্টিশীল প্রত্যাশাগুলো জেগে ওঠে শব্দের সান্নিধ্যে। কবি-লেখকরা জীবনের পরম সত্যকে লিখে যান শানিত প্রত্যয়ে, কখনো নিজের কিংবা চারপাশে ঘটমান চরিত্রগুলো যা খোলা চোখে যায় না ধরা, অথচ সাদা কাগজের বুকঘেঁষে তার উজ্জ্বল উপস্থিতি। আমিও একজন অক্ষরের সহযাত্রী, বেদনা ও বোধ রোপণ করি শব্দে শব্দে। তাই বইমেলা আমার কাছে অতি প্রিয় একটি উৎসব।

সৃষ্টিশীলতার এই উৎসবে এখন বেড়েছে অনেক নারী লেখক। স্বাগত তাদের। শুধু লেখকিপনায় নয় নারী এখন সমাজের সবর্স্তরেই অনেক এগিয়ে। তবুও আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দিক থেকে বলব, আমাদের সমাজে এখন নারীদের অবস্থান কাজের স্বাধীনতার দিক থেকে জোরাল, কিন্তু পেশাদারিত্বের দিক থেকে অসহায়। আমাদের নারীরা সারাদিন নিজের কমের্ক্ষত্রে সময় দেয়ার পর যখন শ্রান্ত ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসে তখন তারা তাদের অবশিষ্ট সময়টুকু ব্যয় করে সংসার, সন্তান ও স্বামী সবোর্পরি পরিবারের উৎকষর্তায়। আর নিজের উৎকষর্তা কিংবা নিজের বুদ্ধিচচার্র পেছনে অনেকেই তাই সময় দিতে পারেন না। যে কারণে প্রতিভা থাকা সত্তে¡ও অনেকে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন না। ঘুরে ফিরে এক অদৃশ্য গÐির মধ্যে পড়ে যান তারা। তা ছাড়া অনেক পুরুষ সচেতনভাবেই নারীকে গৃহস্থালী কাজে সাহায্য করতে চান না। বলেন, এটা মেয়েদের কাজ। অথচ এটা নারীদের অধিকারÑ পুরুষরা যেমন কমর্স্থল থেকে ফিরে এসে অবসর ভোগ করেন, তেমন অবসর ভোগ করার।

তবে হ্যঁা, একটা ব্যাপার এখন লক্ষণীয়Ñ নারীরা নিজেদের করণীয় সম্পকের্ ধীরে ধীরে সম্যক হচ্ছেন। নারীদের কমর্যজ্ঞ বেড়েছে, যে কারণে বেড়েছে ডেকেয়ার সেন্টারগুলোর চচার্। এমনকি ডিভোসর্ও! সচেতন অনেক নারীই এখন নিযার্তনকে নিয়তি হিসেবে মেনে না নিয়ে প্রতিরোধ করতে শিখছেন। সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে চ্যালেঞ্জিং সব পেশায় এখন নারীদের অংশগ্রহণ বলে দিচ্ছে তারা নিজেদের শীষর্ স্থানের খুব কাছাকাছি।

তাই বইমেলা আমার কাছে আলাদা একটি ভুবন, উচ্ছলিত সব প্রাণের কেন্দ্রবিন্দু। বইমেলার নাম শুনলেই মন কেমন যেন বইয়ের প্রতি আলাদা ভালোবাসায় নেচে ওঠে। এই বইমেলাকে কেন্দ্র করে কত প্রিয়জন ছুটে আসে তার প্রিয়তম ভালোবাসাকে সবচেয়ে সুন্দর একটা উপহার দিতে, যেখানে লেখা থাকবে তার মনের সব কথামালা। থাকবে তার প্রত্যাশার আদ্যোপান্ত, সঞ্চিত কথাগুলো। এমন অনেকেই আসেন বছরে একবার যাদের দেখা হয় বইমেলায় শুধু বইয়ের ভুবনে। তারপর সারা বছর আর দেখা নেই। বইমেলাকে ঘিরে প্রকাশক বা লেখকদের একটা আয়ের পথ হয়। বই প্রকাশ যদিও সারা বছরই করা যায় তবু বইমেলায় উৎসুক ক্রেতার সংখ্যা বেড়ে যায় বলে কেউ কেউ অপেক্ষায় থাকেন এই মাসের।

বইমেলায় বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক বইয়ের সমাহার ঘটে। শিক্ষণীয় বিষয়ের বইগুলোও প্রচুর প্রকাশ হয়। আবার সৃজনশীল বই নিয়েও আত্মপ্রকাশ করেন নতুন নতুন লেখক। বাচ্চাদের ছড়া, গল্প, ইতিহাস, রম্য, কৌতুক, প্রকৃতি-পরিবেশসহ বিভিন্ন বই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের কিনে দিতে পারেন এক জায়গা থেকে। এ ছাড়া বইমেলাকে কেন্দ্র করে দেশের প্রতিটি মানুষের মাঝে এক ধরনের উদ্দীপনা কাজ করে। হাজারো ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও অনেকেই আবার বইমেলায় উপস্থিত হতে পারেন না।

এবারের বইমেলায় আমি অনেক বই কিনব। তবে আমার প্রিয় একজন লেখকে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ড. আনোয়ারা আলমের একটি ভ্রমণ কাহিনীর জন্য অপেক্ষা করে আছি। ‘গোধূলি বেলায় মেঘের ভেলায়’ নামের বইটি প্রকাশিত হতে চলেছে রোদ্দুর প্রকাশনী থেকে। পাতায় পাতায় থাকছে তার কাশ্মিরসহ ভারতের দৃষ্টিনন্দন সব এলাকায় ভ্রমণের নানা উপাখ্যান ও ছবি। এ ছাড়াও তার ‘প্রিয় অপ্রিয় প্রসঙ্গ’ বইটিও কিনব ভাবছি। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, বাংলা সাহিত্যে নারীর পরিধি বলে কী কিছু আছে?

বাঙালির জন্য বইমেলা অতীব গুরুত্বপূণর্ একটি মেলা। এই ফেব্রæয়ারি মাস যেমন বাঙালির জন্য বেদনার তেমনি বইমেলা প্রতিটি বাঙালির জন্য গবের্র, অহংকারের। প্রত্যাশা করি বইমেলা নিবির্ঘœ হোক, হোক নিরাপদ। বইমেলা যেন কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি না হয়, সে প্রত্যয়ও থাকা দরকার দেশের প্রতিটি মানুষের।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে