logo
সোমবার ১৭ জুন, ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬

  নন্দিনী ডেস্ক   ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০  

নারীরা পুরুষদের চেয়ে বেশি দিন বঁাচে

নারীরা কেন পুরুষদের চেয়ে বেশি দিন বঁাচেন, সেই রহস্য সম্ভবত আবিষ্কার করতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। ফলমূলে বিচরণকারী মাছিদের নিয়ে গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে গুরুত্বপূণর্ তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন বলে দাবি করেছেন।

গবেষণায় মূলত প্রাণীদেহের কোষের শক্তির উৎস মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএর রূপান্তরের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। প্রায় সব প্রাণীকোষেই এই মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে, যা খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তর করে দেহে সামথর্্য জোগায়। বংশানুক্রমে মায়েদের কাছ থেকে মাইটোকন্ড্রিয়া পেয়ে থাকে পরবতীর্ প্রজন্ম। কখনোই এটা বাবাদের কাছ থেকে আসে না। তাই পুরুষের ক্ষেত্রে কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএতে যে ক্ষতি সাধিত হয়, তা ঠেকানোর কোনো উপায় থাকে না। তবে একজন বয়স বিশেষজ্ঞ বলেছেন, লিঙ্গভেদে আয়ু কমবেশি হওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যার জন্য আরও কিছু কারণ রয়েছে।

৮৫ বছর বেঁচে থাকেন যুক্তরাজ্যে এমন মানুষের মধ্যে নারী-পুরুষের অনুপাত ৬: ৪। আর সেটা ১০০ বছর হলে অনুপাত ২: ১। শুধু মানুষ নয়; অন্যান্য অনেক প্রজাতির মধ্যেও পুরুষের চেয়ে স্ত্রী জাতি বেশি দিন বেঁচে থাকে।

অস্ট্রেলিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের ল্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষক দলটি পুরুষ ও স্ত্রী জাতির ১৩টি ভিন্ন ভিন্ন গ্রæপের ফলের মাছি নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে। গবেষক দলটির অন্যতম সদস্য মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ডামিয়ান ডাউলিং বলেন, তাদের গবেষণায় প্রাপ্ত ফল মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএতে সংঘটিত এমন অসংখ্য রূপান্তরকে চিহ্নিত করেছে, যা পুরুষ প্রজাতিগুলো কত দিন বঁাচবে এবং কত দ্রæত তারা বুড়িয়ে যাবে এ রকম বিষয়গুলোকে প্রভাবিত করে। এই একই ধরনের রূপান্তর আবার স্ত্রী জাতির বুড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না।

গবেষক দলটির মতে, যেহেতু মাইটোকন্ড্রিয়া একমাত্র স্ত্রী জাতির মাধ্যমে আসে, তাই পুরুষের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএতে যে ক্ষতি সাধিত হয় তা পূরণ হয় না। আর এ কারণেই লিঙ্গভেদে আয়ু ও বুড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তারতম্য ঘটে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে