logo
  • Thu, 15 Nov, 2018

  তানজিন তপা   ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

গৃহশ্রমিককে সুরক্ষা দেবে কে?

‘১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে গৃহকাজে নিয়োগ করা যাবে না বা কোনো গৃহকমীের্ক ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা যাবে না, গৃহকমীর্র নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাড়ি তালাবদ্ধ করাও যদি হয় একটি চাবি তার কাছে রাখতে হবে। বয়স ও সামথের্্যর সঙ্গে অসামঞ্জস্য বিবেচিত ভারী ও বিপজ্জনক কাজে কিশোর-কিশোরীদের নিয়োগ করা যাবে না...

গৃহশ্রমিককে সুরক্ষা দেবে কে?
‘১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে গৃহকাজে নিয়োগ করা যাবে না বা কোনো গৃহকমীের্ক ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা যাবে না, গৃহকমীর্র নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাড়ি তালাবদ্ধ করাও যদি হয় একটি চাবি তার কাছে রাখতে হবে। বয়স ও সামথের্্যর সঙ্গে অসামঞ্জস্য বিবেচিত ভারী ও বিপজ্জনক কাজে কিশোর-কিশোরীদের নিয়োগ করা যাবে না। আমাদের দেশে সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা এসব নিয়ে চিন্তা করলেও, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং আমাদের ব্যক্তিগত সচেতনতা ও বিবেকপূণর্ মানসিকতার অভাব বলে গৃহশ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও সুস্বাস্থ্য এবং কমর্সংস্থানের নীতিমালা কেবল টকশো আর খবরের পাতায়। দৈনন্দিন জীবনে এ প্রতিফলন হচ্ছে না। এখন পযর্ন্ত গৃহশ্রমিকদের কোনো নিবন্ধন বা পরিচয়পত্র নেই।

গৃহশ্রমিকের দ্বারা কোনো ধরনের অহিতকর ঘটনা ঘটলে তখনই বলা হয় গৃহশ্রমিক রাখার আগে দাবি ও পরিচয় নিজস্ব থানায় জমা দেয়ার কথা। এখন পযর্ন্ত তারও কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। এ কারণে মোট কতজন গৃহশ্রমিক কাজ করছে, বা কে কোন ধরনের সমস্যায় আছে বা কার অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু হচ্ছে তার কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। গৃহশ্রমিকদের কাজের পাশাপাশি লেখাপড়ার কথা চললেও হাতেগোনা ২-৪ জন ছাড়া কেউ এমন সুযোগ গ্রহণ করতে পারছে না। বতর্মান ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন শহরগুলোয় অসহায় ঝরেপড়া পথশিশুদের শিক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই রাত্রিকালীন বলে গৃহশ্রমিকরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত’ তার মধ্যে ঢাকা শহরের বস্তিগুলো বারবার ভেঙে দেয়ার ফলে এই পথশিশুরা নিয়মিতভাবে এক জায়গায় বসবাস করতেও পারে না, শিশু সুযোগও নিতে পারে না। গৃহশ্রমিকদের কাজ করার কোনো নিদির্ষ্ট সময় নেই বলে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবিরাম কাজ করার ফলে তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

গৃহকমীর্ সংক্রান্ত দুঃখজনক ঘটনাগুলো জনসম্মুখে আসে আবার হারিয়ে যায়। অপরাধীরা আইনি ফঁাক দিয়ে বের হয়ে ঘুরে বেড়ায় খোলা আকাশের নিচে। তেজগঁাও এলাকার এক বাড়ির মালিকের বাসায় কাজ করত দিপালী। প্রতি মুহূতের্ অত্যাচার নিযার্তন করা হতো। একদিন দিপালী বলে কাজ পছন্দ না হলে আমার পাঠিয়ে দিন। এমন কথা বলার অপরাধে গৃহকত্রীর্ গরম পানি ঢেলে দেয় দিপালীর গায়ে। ৫-৭ দিন ঘরে রেখে বাধ্য হয়ে দারোয়ানকে দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে কিছুটা জানাজানি হলে বাড়ির মালিক পুরো পরিবার নিয়ে ২ মাসের জন্য নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। দিপালী মারা যায়। তবে এর তেমন কোনো বিচার হয় না। শুধু নিযার্তন নয়। যে কোনো বাড়িতে চুরি-ডাকাতি হলে সবর্প্রথম দায়ী করা হয় গৃহকমীর্, দারোয়ান ও ড্রাইভারকে। এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে।

আইএলওর হিসাব অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রায় ৫ কোটি মানুষ গৃহশ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। তার মধ্যে বেশিরভাগ নারী। ২০১১ সালে ১ থেকে ১৭ জুন জেনেভায় অনুষ্ঠিত সংস্থায় শততম অধিবেশনে (নাম্বার ১৮৯) গৃহীত হয়। সেখানে বলা হয় সপ্তায় ৪৩ ঘণ্টার বেশি কাজ করলেই তা ঝুঁকিপূণর্। শ্রমশিশু বা গৃহশ্রমিকদের নিয়ে যতবারই আলোচনা হয়েছে সেখানে একটা কথা বারবার উঠে এসেছে, তাহলো শ্রমজীবী এসব গৃহশ্রমিকদের সাপ্তাহিক ছুটি প্রসঙ্গে কখনো ১ দিন আবার কোনো আলোচনায় ২ দিন ছুটির কথা উল্লেখ করা হলেও খসড়া নীতির চ‚ড়ান্ত ও বাস্তবায়নের পথ বন্ধ। সাধারণত সব চাকরিতেই সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। কোথাও ১ দিন কোথাও ২ দিন। কিন্তু গৃহশ্রমিকদের ক্ষেত্রে তা কেউ মানছে না। গৃহশ্রমিকদের স্বাথের্ সাপ্তাহে ১ দিন ছুটি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। তারা মনে করেন ১ দিন ছুটি পেলে তারা তাতে আরামবোধ করবেন, মানসিক প্রশান্তি ভোগ করবেন, তার সঙ্গে সরকার ঘোষণা দেয় যদি কোনো মালিকপক্ষ ছুটির দিনে গৃহশ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে চান তাহলে তাকে অতিরিক্ত বেতন দিতে হবে। সিঙ্গাপুরে আন্তজাির্তক শ্রম সংস্থা (আইএলও) সাম্প্রতিক এক জরিপ করে জানিয়েছে, একজন গৃহকমীর্ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টা কাজ করে। আর মাত্র ১২ শতাংশ সপ্তাহে ১ দিন ছুটি পায়।

আমাদের দেশেও কমর্জীবী নারীর সংস্থা দিন দিন বাড়াছে। ফলে বাসায় সন্তান লালন-পালন, স্কুল নেয়া আনা ঘরের কাজ করার জন্য অনেকে গৃহশ্রমিকদের ওপর নিভর্রশীল হয়ে পড়ছে। সে হিসেবে গৃহকতার্ বা গৃহকত্রীের্ক বিবেচনায় রাখতে হবে যে গৃহশ্রমিকেরও ছুটি প্রয়োজন, নীতি নিধার্রণ করে কোনো আইনে বাস্তবায়ন করা সম্পূণর্রূপে হয় না। প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের সচেতনতা অন্যের অসহায়ত্বের সুযোগ গ্রহণ না করা ঘর বা বাহির শ্রমিকের শ্রমকে মূল্য দেয়া প্রয়োজন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে