logo
রোববার ২৫ আগস্ট, ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

  আফরিন জামান   ০১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০  

বাহারি সাজ নিয়ে তারুণ্য

নব ফ্যাশনে রঙিন ও রঙে নানা পরিবর্তন হলেও, মেহেদি সাজে সাজতে এখনো সবাই খুব আগ্রহী। মেহেদি লাগানোর আগে, খুব ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, বাটার সময় পানির পরিমাণ যেন কম থাকে। মুখে ভালো করে লাগাতে সহজ হবে...

বাহারি সাজ নিয়ে তারুণ্য
বর্তমানে মেহেদির নকশায় ফিউশন এসেছে। ফুলেল নকশা যেমন চলছে, তেমনি ক্যালিগ্রাফি ধাঁচের নকশাও এঁকে নিতে পারেন। এছাড়া ডিজাইনভেদে রাজধানীর পারসোনা, লুসি, আলভিরাস, লিউ লুক, রোমা, লিয়ানাসহ বিভিন্ন নামি বিউটি পার্লারে মেহেদি সাজের প্যাকেজ থাকে ২০০ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে। মেহেদি প্রস্তুতি : নকশা আঁকতে নিজেই যদি খুব পারদর্শী হয়ে থাকেন, তাহলে তো খুবই ভালো। নিজের মনের ক্যানভাসের নকশাটি ফুটিয়ে তুলুন আপনার মেহেদি সাজে। তা নাহলে চলে যেতে পারেন কাছের কোনো পার্লারে। অনেকে বলে থাকেন, মেহেদি পরেছেন কিন্তু ঠিক রঙটা আসেনি। অর্থাৎ তিনি যেমনটা আশা করছিলেন, সেই অনুপাতে রঙটা হয়েছে হালকা। হালকা বা ফিকে হয়ে ওঠা মেহেদি দেখতে ভালো দেখায় না এবং রঙটা দেখে নিজের মনটাও খারাপ হয়ে যায়। তাই গাঢ় রঙের মেহেদি ত্বকে ফুটিয়ে তুলতে আপনাকে আগে থেকে কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে। ত্বকের নির্দিষ্ট অংশটি পানি, সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। ঙ্ পরিষ্কারের পর সেখানে লোশন, ক্রিম কিছু লাগানো যাবে না। চা পাতা জ্বাল দিয়ে তার মধ্যে সারারাত মেহেদি পাতা বা মেহেদি গুঁড়া রেখে দিন। পরদিন বেটে হাতে লাগান।হাল ফ্যাশনে রূপ ও রঙে নানা অদল-বদল হলেও, মেহেদি সাজে সাজতে এখনো সবাই খুব আগ্রহী। মেহেদি লাগানোর আগে, খুব মিহি করে বেটে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, বাটার সময় পানির পরিমাণ যেন কম থাকে। তাহলে মিশ্রণটি আপনার ত্বকে লাগাতে সহজ হবে। আর যদি টিউব মেহেদির কথা চিন্তা করে থাকেন, তাহলে বাজারে হরেক রকম মেহেদির (কালো, নীল, খয়েরি) মধ্যে নিজের ত্বকের সঙ্গে মানানসই মেহেদি বাছাই করে নিতে হবে। ত্বকের যত্নে সুপরিচিত কোম্পানির মানসম্মত পণ্য ব্যবহার করা উচিত। এতে আপনার হাত ও পা থাকবে সুরক্ষিত। আর আপনাকে দেখাবে চমৎকার। ঈদে কী পরবেন? শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ নাকি অন্যকিছু? এসব চিন্তা মাথায় রেখে, ভাবতে হবে মেহেদি নকশার কথা। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুতে পরিবর্তন আসে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেক সময় আমরা নিজেদের আবিষ্কার করি ভিন্নরূপে। বাজারে নানা ধরনের মেহেদি পাওয়া যায়। দ্রম্নত রঙ পাকা করার জন্য বিশেষ মেহেদি পাওয়া যায়। এসব মেহেদিতে ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য দেয়া থাকে। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তারা মেহেদি ব্যবহার করার আগে শরীরে যে কোনো অংশে একটু মেহেদি লাগিয়ে নিয়ে পরীক্ষা করে নেবেন। যদি কারো কোনো প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়, তাহলে মেহেদি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। পরিবর্তন আসে ফ্যাশনেও। তাই নিজের রূপ ও রুচির সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন নতুন ফ্যাশন। সামনে আসছে কিছু উৎসব। এই আমেজে তরুণীদের মন মেতে ওঠে মেহেদির নানা সাজে নিজেকে সাজাতে। উৎসবকে আকর্ষণীয় করতে, মেহেদি রঙে রাঙিয়ে দিতে পারি খুব সহজে। শাড়ি হলে দুই হাত ভরে মেহেদি পরতে পারেন।বেশ কয়েক বছর আগেও মেহেদি পাতা বেটে তা হাতে, আঙ্গুলে চ্যাপ্টা করে লাগানোই ছিল একমাত্র পদ্ধতি। কিন্তু এখন টিউব মেহেদির যুগে, সেই প্রচলনটা একদম পাল্টে গেছে। আগে শুধু বিয়ে-শাদিতে মেহেদির সাজ দেখা যেত। কিন্তু এখন যে কোনো উৎসবে এই সাজ চোখে পড়ে। এখন বাজারে পাওয়া যায় নানা ধরনের নানা রঙের টিউব মেহেদি। তরুণীরা পার্লারে ছুটছেন নিজের কাপড়ের সঙ্গে মিল রেখে, পছন্দের মেহেদি সাজে সাজতে। মেহেদি সাজ ছাড়া ঈদ ভাবাই যায় না। বাংলাদেশে প্রচলিত মেহেদী প্রডাক্টের মধ্যে রয়েছে মমতাজ, স্মার্ট, লিজান, এলিট, রাঙাপরী, নাসিম গোল্ডসহ বিভিন্ন ধরনের মেহেদী। সম্প্রতি নাসিম গোল্ড মেহেদী তরুণ তরুণীদের মধ্যে বেশ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এ প্রসঙ্গে নাসিম গোল্ড মেহেদীর জিএম বলেন, আমরা বাজারের বিভিন্ন মেহেদী প্রডাক্টগুলোকে বিশ্লেষণ করার পর এমন কিছু উপাদান দিয়ে আমাদের মেহেদী প্রডাক্টকে বানিয়েছি যা তরুণ তরুণীসহ সব বয়সীদের আকৃষ্ট করবে আশা করা যায়। বাস্তবে তার প্রতিফলনও আমরা দেখতে পেয়েছি। গত এক বছরে ক্রেতাদের মাঝে আমাদের নাসিম গোল্ড বেশ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। মমতাজ মেহেদী এবং আলফা মেহেদীর কর্মকর্তারাও তাদের মেহেদী প্রডাক্টকে এক ধাপ এগিয়েই বক্তব্য দিলেন। যাই হোক, উৎসব ভাবনার পূর্ব প্রস্তুতি হচ্ছে মেহেদি সাজ। এটি ছোট-বড় সবার মধ্যে এনে দেয় ঈদের আমেজ। বাটা মেহেদি ব্যবহার করলে, তা চাঁদ রাতের দুদিন আগে কিনে রাখতে হবে। সালোয়ার-কামিজ যদি হয়, হাতের তলায় বেশি নকশা দিয়ে, ওপরটা হালকা রাখতে পারেন। কুর্তি বা লম্বা কামিজের সঙ্গে কনুই পর্যন্ত মেহেদি না পরাই ভালো। কালো মেহেদি হাতের তালুতে না দিয়ে ওপরে দিলে ভালো দেখাবে। ফুলস্স্নিভ কামিজের সঙ্গে হাতের তালু থেকে শুরু করে নখের ধার ঘেঁষে অনেকে ছোট করে ডিজাইন করে থাকেন। আর বাকি অংশ খালি রাখেন। স্স্নিভলেস কামিজ এখন খুব জনপ্রিয়। এর সঙ্গে বাহুতে বাজুবন্ধের মতো সুন্দর আলপনা নকশা এঁকে নেন অনেকে। কালো মেহেদির ক্ষেত্রে এখন জ্যামিতিক নকশা বেশি চলছে। এছাড়া চেক ধাঁচের নকশা, কোনাকুনি করে হাতের আঙ্গুল থেকে শুরু করে কনুই পর্যন্ত দেয়া যেতে পারে। তবে লাল মেহেদি যে কোনো নকশা করেই পরতে পারেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে