logo
শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  রওনক জাহান   ১৮ মার্চ ২০১৯, ০০:০০  

তারুণ্যের ত্বকের যত্ন

তারুণ্যের ত্বকের যত্ন
ত্বকের দিকে তারুণ্যে থাকে বিশেষ মনোযোগ ছবি : ইন্টারনেট
গরম আসি আসি করছে। তবে এখনো রয়েছে শীতের কিছুটা আভাস। তাই লক্ষ্য রাখতে হবে কিভাবে নিজের ত্বকের যত্ন নেয়া যায়। বাতাসে আর্দ্রতা কমার কারণে ত্বক ফাটা, ত্বকে ছোপ ছোপ কালো দাগ, ফাঙ্গাশ, ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়াসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এ ধরনের সমস্যায় কী করবেন, দেখুন প্রতিবেদনে। প্রকৃতিতে শীত সমাগত। ঋতু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকে। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। ফলে ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক ও রুক্ষ। ত্বক ফাটা, ত্বকে ছোপ ছোপ কালো দাগ, ফাঙ্গাশ, ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়াসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। একটু যত্ন আর সচেতনতাই পারে শীতে আপনার হাসিকে অমলিন রাখতে। শীতে সুস্থ-সুন্দর ত্বকের যত্নে পরামর্শ দিয়েছেন বিউটি কনসালট্যান্ট ফারহানা রুমি। তিনি বলেন, শীতে সকালের রোদে আলট্রাভায়োলেট বেশি থাকে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন লোশন ভালো করে লাগাতে হবে। লোশনের এসপিএফ যেন অন্তত ১৫ থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পরে তা পরিষ্কার করে আবার লাগাতে হবে। শীতের সময় গলা ও ঘাড় বেশি কালো হয়ে যায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ব্যবহার করতে পারেন অ্যালোভেরা জেল। সপ্তাহে অন্তত চার থেকে পাঁচ দিন অ্যালোভেরা গলা আর ঘাড়ের উন্মুক্ত স্থানে ঘষে লাগালে ত্বক উজ্জ্বল হবে। অ্যালোভেরা লাগিয়ে দশ থেকে পনেরো মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। কমলা, টমেটোর রসও ত্বকের পরিচর্যায় খুব উপকারী। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর সময় মুখ, হাত ও পায়ে ময়েশ্চারাইজার যুক্ত ক্রিম লাগাতে হবে। আধা চামচ শসার রসের সঙ্গে আধা চামচ দুধ ও আধা চামচ মধু মিশিয়ে ফ্রিজে রাখুন। ঠান্ডা হলে ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। তবে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য শুধু শসার রস বা শসা কুচি ব্যবহার করুন। যাদের ত্বক খুব তৈলাক্ত বা ব্রণের সমস্যা আছে, তারা আনারসের সঙ্গে সমপরিমাণ গোলাপজল মিলিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে এর সঙ্গে বেসন দিতে পারেন, তবে এটি ২০ মিনিটের বেশি ব্যবহার করবেন না। মুখ পরিষ্কার করার জন্য কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন ব্যবহারে ত্বকে রোদে পোড়াভাব চলে যাবে। সপ্তাহে একদিন স্ক্রাবিং করতে হবে। শসার বা মাল্টার রসের সঙ্গে চালের গুঁড়া মিশিয়ে নিন। ত্বক স্বাভাবিক বা শুষ্ক হলে দুধ ও মধু মেশাতে পারেন। শুষ্ক ত্বক হলে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দিতে হবে। স্বাভাবিক ত্বকের জন্য কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল যোগ করে স্ক্রাব তৈরি করে নিতে পারেন। তৈরি করা স্ক্রাব শুধু মুখে নয়, আপনার হাত, গলা ও ঘাড়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। যাদের ত্বক সেনসেটিভ, তারা টকদই দিয়ে স্ক্রাবিংয়ের কাজটা সেরে নিতে পারেন। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে দুধের সরও খুব উপকারী। প্রতিদিন কাজের ফাঁকে ১০ মিনিট সময় নিয়ে এক চামচ দুধের ময়দা বা বেসন মিলিয়ে মুখ, গলা আর হাতে লাগাতে পারেন। ১০ মিনিট পর উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শীতে ত্বকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ফাঙ্গাশের সংক্রমণ। শীতের সময়ে প্রকৃতির শুষ্কতার প্রভাব পড়ে ত্বকে। তা ছাড়া চারদিকের ধুলাবালি ত্বকে জমার ফলে নানা ধরনের সংক্রমণ হয়। তাই প্রতিদিন কয়েকবার করে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। আলাদা মেকআপ কিটস, টাওয়েল, চিরুনি ব্যবহার করতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রতিবার ত্বক পরিষ্কারের পর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। যাদের হাতে কালো দাগ পড়েছে, তারা একটি প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। ১ টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ জায়ফলের গুঁড়া ও ২টি ডিমের কুসুম ভালো করে মিশিয়ে নিন। এতে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে ২০ মিনিট পুরো হাতে লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি হাতের কালো দাগ, পোড়াভাব ও আঙুলের ভাঁজের কালো দাগ তুলতে সহায়তা করবে। যারা বাড়িতে থাকেন, তারা প্রতিদিনের কাজ শেষে এক টুকরো লেবু ঘষে লাগিয়ে হাত পরিষ্কার করে নেবেন। দিনের কোনো এক সময়ে হাত দুটো লেবু লাগিয়ে কুসুম গরম পানিতে ১০ মিনিট ডুবিয়ে রেখে ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এর পর পুরো হাতে লোশন লাগাতে হবে। ১৫ দিন পর পর বাড়িতে বা পার্লারে গিয়ে মেনিকিউর করে নিতে পারেন।

শীতে ত্বক সজীব রাখতে আপনার খাদ্যাভ্যাসে আনতে হবে পরিবর্তন। ভাজা খাবার পরিহার করে মৌসুমি ফল, সবজি, সালাদ ও সু্যপ রাখতে হবে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায়। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম আর বিশ্রামের ফলে ত্বক সজীব থাকবে। নিয়মিত যত্নে শীতেও আপনার ত্বক থাকবে প্রাণবন্ত।যাদের ত্বক শুষ্ক তারা এ সমস্যায় বেশি ভোগেন। বাইরে ত্বকের আর্দ্রতার অভাবে শীতকালে ত্বক ফেটে যায়। চেহারায় কাজ করে রুক্ষতা। এক ধরনের বিশ্রি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

ত্বকে দেখা দেয় সাদা দাগ ও নানান সংক্রমণ। ত্বক ফাটা থেকে বাঁচতে এই সময়ে শুষ্ক ত্বক আর্দ্র রাখা জরুরি।

প্রকৃতিতে শীত জেঁকে বসেছে। সঙ্গী করে নিয়ে এসেছে কিছু মৌসুমি সমস্যা। এ সময়ে ত্বকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ফেটে যাওয়া। শুষ্ক ত্বকের সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য ঘরোয়া কিছু প্রতিকার রয়েছে।

নারিকেল তেল : আমরা সবাই নারিকেল তেলের বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা জানি। শুষ্ক ত্বকের চিকিৎসা করতে দুর্দান্ত কাজ করে প্রাকৃতিক এই উপাদান।নারিকেল তেল শুষ্ক ত্বকের চিকিৎসার জন্য পেট্রোলিয়াম জেলি হিসেবে নিরাপদ ও কার্যকর। এই তেল উলেস্নখযোগ্যভাবে ত্বকের হাইড্রেশন উন্নত করে এবং ত্বকে লিপিডের (চর্বি) সংখ্যা বৃদ্ধি করে।ওটমিল : ওটমিল এমন এক প্রাকৃতিক উপাদান, যা শুষ্ক ত্বকের চিকিৎসার জন্য উপকারী। গোসলের সময় গুঁড়ো ওটমিল যোগ করলে বা ওটমিলযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করলে শুষ্ক ত্বকের উপশমে সাহায্য করতে পারে। কাঁচা দুধ ও ওট মিশিয়ে প্যাকও বানাতে পারেন।দই: আপনার ত্বকে দই প্রয়োগ করলে মুখে ময়শ্চারাইজারের পরিমাণ ঠিক থাকে এবং ব্রেকআউটের বিরুদ্ধেও তা লড়াই করতে পারে। মুখে দই প্রয়োগ করলে তা আপনার ত্বক নরম এবং ময়শ্চারাইজ করতে সহায়তা করে।

এটি আপনার ত্বককে একটি মসৃণ কাঠামো দেয়। আপনার ত্বকে সাদা দই প্রয়োগ করুন এবং প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য ছেড়ে দিন। তারপর উষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে দিন। শুষ্কতা হ্রাস করতে সপ্তাহে কয়েকবার বা প্রতিদিনই দই প্রয়োগ করতে পারেন।মধু : শুষ্ক ত্বকের জন্য আরেকটি দুর্দান্ত ঘরোয়া প্রতিকার হলো মধু। মধু খুবই ময়শ্চারাইজিং ও শুষ্কতা কমিয়ে ত্বক নরম করতে সাহায্য করবে। মধুতে অনেক ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এবং এতে অ্যান্টিমাইকোবিয়াল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যও রয়েছে।আপনি ফেস মাস্ক হিসেবে কাঁচা মধু প্রয়োগ করতে পারেন। শুকিয়ে গেলে উষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে তিনবার মধু ব্যবহার করলে আপনার ত্বকের শুষ্কতা ও সাদা দাগ হ্রাস পাবে।

দুধ : যদি ত্বকে চুলকানি বোধ করেন এবং আপনার ত্বকে সাদা দাগ দেখতে পান, তবে ঠান্ডা দুধ ব্যবহার করতে পারেন। কাঁচা দুধ একটি কাপড় ভিজিয়ে তা ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য আপনার ত্বকে প্রয়োগ করুন। দুধের ল্যাকটিক এসিড আপনার শুষ্ক ত্বকের জন্য বিস্ময়করভাবে কাজ করে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে