logo
মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬

  এস এ হক   ০৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০  

লক্ষ্য নির্বাচন তরুণ বয়সেই

লক্ষ্য নির্বাচন তরুণ বয়সেই
জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেই এগিয়ে যেতে হবে ছবি : সি ক্লিক
সুন্দরকে স্বাগত এবং পক্ষান্তরে কুৎসিতকে সর্বদা বর্জনের মনমানসিকতা তৈরি করতে হবে। সুন্দর সবসময়ই পবিত্র। পবিত্রতা মনকে বিকশিত করে। বিকশিত মনে যে কোনো কঠিন কাজের সুন্দর সমাধান বের করা সম্ভব। কুৎসিত মনকে কলুষিত করে। কলুষিত মন নিয়ে ভালো কোনো কিছু কখনো আশা করা যায় না। জীবন বিনির্মাণের সব লক্ষ্য নির্বাচন করতে হবে তরুণ বয়সেই। লক্ষ্য স্থির করে এগিয়ে যেতে হবে জীবনের পথে। তা না হলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে পিছিয়ে পড়তে হবে সবার থেকে। যা হতাশার সৃষ্টি করবে। আর হতাশা একসময় নিয়ে যাবে ধ্বংসের দিকে।

মানুষের মধ্যে যেমন ভালো-মন্দ আছে, তেমনি সমাজেও ন্যায়-অন্যায় ছিল, আছে বা থাকবে। কিছু কিছু অদম চরিত্রের মানুষ অন্যায় করতেই পারে। তাই বলে সব দেখে-শুনে চোখ বন্ধ রাখলে চলবে না। প্রতিবাদ করতে হবে ন্যায়ের পক্ষে। বিপদগ্রস্তকে উদ্ধার করতে হবে। অন্যায়কারীকে সঠিক পথের দীক্ষা দিতে হবে। সমাজেই মানুষ সঠিক পথে চললে, অন্যায় না থাকলে তা সবার জন্যই মঙ্গল।

'অধ্যবসায় কৃতকার্যের চাবিকাঠি'- একথা কমবেশি সবারই জানা। অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা আমরা জীবনের সর্বক্ষেত্রেই উপলব্ধি করি। পৃথিবীতে মানুষের জন্য কোনো কিছুই সহজলভ্য করা হয়নি। বিনা পরিশ্রমে কোনো কিছুই লাভ বা উন্নতি করা কখনো সম্ভব নয়। কারণ সব কাজেই একটি প্রতিযোগিতা থাকে। তাই জটিলতার মধ্যে নিজের সাফল্য আনতে হলে অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই। নিজের অক্ষমতা অতিক্রম করে সফল হওয়ার একমাত্র পথ অধ্যবসায়। মনে ধারণ-লালন করতে হবে, অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই জীবনে প্রাপ্তির ব্যাপকতা অর্জন করতে হয়।

একে অপরের মতো কখনো হয় না। আর এর প্রধান কারণ দৃষ্টিভঙ্গি বা চিন্তার পার্থক্য। দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। আমাকে পারতেই হবে। আমি পারব না, এমনটা কখনো ভাবা যাবে না। ভাবতে হবে, আমি অবশ্যই পারব। অনেকেই বোঝার চেয়ে মুখস্থ বিদ্যাকে প্রাধান্য দেয়। যা পরে কোনো কাজে আসে না। প্রভাব পড়ে কর্মক্ষেত্রে। তাই মুখস্থের চেয়ে বোঝার দিকটাকে প্রাধান্য দিতে হবে। কবি বলেছেন, 'গ্রন্থগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধন, নহে বিদ্যা, নহে ধন, হলে প্রয়োজন'।

মেধার বিকাশে সহপাঠীদের সঙ্গে বিভিন্নরকম প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হবে। যেমন হতে পারে বিতর্ক প্রতিযোগিতা। হতে পারে প্রতি সপ্তাহে শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে আলোচনা। কোনো কিছু উত্তমরূপে না বুঝে থাকলে যে সহপাঠীরা বুঝেছে তাদের সাহায্য নিয়ে নিজের জ্ঞানকে প্রসারের বিকল্প নেই।

চরিত্র হলো মানসিকতা ও বাহ্যিক আচরণের নিয়মতান্ত্রিক এবং মাধুর্যমন্ডিত সেই রূপ, যা ব্যক্তিকে নিজের মধ্যে যেমনই সুখী ও সৎ-সাহসী করে তোলে, তেমনি অপরের কাছেও গ্রহণযোগ্য এবং বন্ধুত্বপূর্ণ করে তোলে। তা সত্য ও মানবিকতার আলোয় উজ্জ্বল, ক্ষমার মাধুর্যে কোমল, সহিষ্ণুতার শক্তিতে অটল। জীবনে সাফল্য পেতে হলে উত্তম চরিত্র ঘটনের বিকল্প নেই। চরিত্র বা স্বভাবে ত্রম্নটি থাকলে সর্বক্ষেত্রেই জীবনের পদে পদে বিপদগ্রস্ত হতে হবে। কবি বলেছেন, 'এমন চরিত্র করিবে ঘটন, মরিলে হাসিবে তুমি, কাঁদিবে ভুবন'- কবির উক্ত পঙ্‌ক্তি সর্বদা মনে রেখে সব কাজ করতে হবে। আরো মনে রাখতে হবে 'আপনাকে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যারে বড় বলে বড় সেই হয়।'

মানুষ জন্মগতভাবে সামাজিক জীব। সমাজ ছাড়া কোনো মানুষ চলতে পারে না। তেমনি সমাজের মতোই বন্ধু ছাড়াও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। কেননা আমরা সবাই জানি, 'দশের লাঠি, একের বোঝা'। আর বন্ধু নির্বাচনে সবসময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এমন বন্ধু নির্বাচন করতে হবে, যারা বিপদে এগিয়ে আসবে, সঠিক পরামর্শ দিয়ে জীবনের চলার পথে মসৃণ থেকে আরো মসৃণতর করবে। আর খারাপ বন্ধুরা খারাপ পরামর্শ দেবে এটাই স্বাভাবিক। খারাপ আর ভালো বন্ধুর পার্থক্য উপলব্ধি করতে হবে। কেননা 'সঙ্গ দোষে স্বভাব নষ্ট' হয়। তাই বন্ধু নির্বাচন সতর্কতার সহিত হওয়ায় বাঞ্চনীয়।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে