logo
বুধবার ২১ আগস্ট, ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

  উনিশ বিশ ডেস্ক   ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

চযার্পদের কথা

চযার্পদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কাব্য তথা সাহিত্য নিদশর্ন। নব্য ভারতীয় আযর্ভাষারও প্রাচীনতম রচনা এটি। খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবতীর্ সময়ে রচিত এ গীতিপদাবলির রচয়িতারা ছিলেন সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচাযর্রা। বৌদ্ধ ধমের্র গূঢ়াথর্ সাংকেতিক রূপবন্ধে ব্যাখ্যার উদ্দেশেই তারা পদগুলো রচনা করেছিলেন। বাংলা সাধন সঙ্গীতের শাখাটির সূত্রপাতও এ চযার্পদ থেকেই। এ বিবেচনায় এটি ধমর্গ্রন্থ স্থানীয় রচনা। একই সঙ্গে সমকালীন বাংলার সামাজিক ও প্রাকৃতিক চিত্রাবলি এ পদগুলোয় উজ্জ্বল। এর সাহিত্যগুণ আজও চিত্তাকষর্ক। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে চযার্র একটি খÐিত পুঁথি উদ্ধার করেন। পরে আচাযর্ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষাতাত্তি¡ক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চযার্পদের সঙ্গে বাংলা ভাষার অনস্বীকাযর্ যোগসূত্র বৈজ্ঞানিক যুক্তিসহ প্রতিষ্ঠিত করেন। চযার্র প্রধান কবিরা হলেন লুইপাদ, কাহ্নপাদ, ভুসুকুপাদ, শবরপাদ প্রমুখ।

শ্রীকৃষ্ণকীতর্ন বড়–চÐীদাস নামক জনৈক মধ্যযুগীয় কবি রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রণয়কথা বিষয়ক একটি আখ্যানকাব্য। ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বঁাকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রাম থেকে এই কাব্যের একটি পুঁথি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ সালে তারই সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীতর্ন নামে পঁুথিটি প্রকাশিত হয়। যদিও কারো কারো মতে মূল গ্রন্থটির নাম ছিল শ্রীকৃষ্ণসন্দভর্। কৃষ্ণের জন্ম, বৃন্দাবনে রাধার সঙ্গে তার প্রণয় এবং অন্তে বৃন্দাবন ও রাধা উভয়কে ত্যাগ করে কৃষ্ণের চিরতরে মথুরায় অভিপ্রয়াণ– এই হলো শ্রীকৃষ্ণকীতর্ন কাব্যের মূল উপজীব্য।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে