logo
সোমবার ১৭ জুন, ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬

  আলিজা ইভা   ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

এই শীতে ত্বকের যতœ

এই শীতে  ত্বকের যতœ
শুষ্কতার সমস্যা আমাদের অনেকেরই আছে। বিশেষ করে এখন শীতকালে এই সমস্যা বৃদ্ধি পায় অনেক হারে। তবে মাঝে মধ্যে আবহাওয়া ছাড়াও শারীরিক কারণে ত্বকের শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। তাই আপনি যদি ত্বকের শুষ্কতায় ভুগে থাকেন তাহলে কিছু টিপস মেনে চলুন, দেখবেন ত্বকের শুষ্কতা থেকে রেহাই পাবেন সহজেই!

ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন : প্রথমেই আপনার ত্বককে বাইরে থেকে ময়েশ্চারাইজ করার চেষ্টা করুন। ময়েশ্চারাইজ বলতে ত্বকের ওপর অংশের কোষগুলো যাতে পযার্প্ত ভেজা থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা। প্রতিনিয়ত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক শুকিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে। এজন্য প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুখের চামড়ায় এবং হাতে-পায়ে ময়েশ্চারাইজার ক্রিম ব্যবহার করুন। এ ছাড়া অনেকের মধ্যে হাতের চামড়া শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা যায়। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে হলে নিজের সঙ্গে হ্যান্ড ক্রিমের একটি ছোট টিউব রাখতে পারেন। যখনই মনে হবে হাত শুষ্ক, তখনই হ্যান্ড ক্রিম ব্যবহার করে হাতের চামড়া ভেজা ও নরম রাখবেন। প্রতিদিন অন্তত ৩-৪ বার মুখ ধোয়া জরুরি। এতে মুখের চামড়া নরম থাকবে এবং ধুলোবালি আটকে থাকবে না। প্রতিবার মুখ ধোয়ার পর নিদির্ষ্ট পরিমাণে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। এখন অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন আসতে পারে কোন ময়েশ্চারাইজারটি ব্যবহার করবেন। আসলে নিদির্ষ্ট করে কোনো ময়েশ্চারাইজার ক্রিমের নাম নেয়া কঠিন। তবে আপনার চামড়ার সঙ্গে মানিয়ে যায় এমন যে কোনো ময়েশ্চারাইজার ক্রিম আপনি ব্যবহার করতে পারেন। দরকার হলে অভিজ্ঞদের সাহায্য নিন।

শরীরের ভেতর থেকে চামড়ায় পযার্প্ত পুষ্টি উপাদানের জোগান দিন : পানি মানুষের শরীরের জন্য একটি অপরিহাযর্ বস্তু। তাই প্রতিদিন পযার্প্ত পরিমাণে পানি পান করার চেষ্টা করুন। পানি আপনার শরীরের মধ্যে টক্সিন জাতীয় পদাথর্গুলোকে পরিষ্কার করে এবং চামড়ার কোষগুলোকে সজীব রাখে। একজন সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিদিন ৪-৫ লিটার পানির দরকার। সেই প্রয়োজনীয়তা যাতে পূরণ হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।

প্রতিদিন খাবারে প্রচুর শাক-সবজি গ্রহণ করুন। মাংস কিংবা চবির্জাতীয় খাবারের চাইতে শাক-সবজি আপনার ত্বকের যতেœ বেশ কাজে দেবে। সবুজ শাকজাতীয় খাবারে যে খনিজ উপাদান থাকে তা ত্বকের সজীবতা রক্ষায় সাহায্য করে। এ ছাড়া চাইলে পানিজাতীয় ফল ও সবজি খেতে পারেন। তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর আমিষজাতীয় খাবার যেমন ডিম, বাদাম, ডাল ইত্যাদি খেতে পারেন। তবে ফাস্টফুড এবং অধিক মসলাদার খাবার পরিহার করুন। আর ধূমপানের অভ্যাস থাকলে সেটাও পরিহার করতে পারেন। কারণ ধূমপান আপনার ত্বকের শুষ্কতার অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে।

ত্বকের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন : অনেকের শুচিবাইসহ বিভিন্ন কারণে অধিক পরিমাণে গোসল ও হাতমুখ ধোয়ার অভ্যাস থাকতে পারে।

এই ব্যাপারটি পরিহার করার চেষ্টা করুন। কারণ অধিক পরিমাণে পানির ব্যবহার আপনার ত্বকের সুরক্ষা স্তর ধুয়ে নিয়ে যেতে পারে। যার কারণে ত্বকের শুষ্কতার মাত্রা বাড়তে পারে।

এছাড়া শীতকালে ত্বক ঢেকে রাখার চেষ্টা করুন। নইলে বাইরের ঠাÐা বাতাস আপনার ত্বককে রুক্ষ বানিয়ে দেবে সহজেই। আর শীতকাল ছাড়া গরমকালে ত্বককে রোদের তাপ, বাইরের ধুলোবালি থেকে বঁাচিয়ে রাখবেন। না হলে ঘাম এবং ধুলোবালি ত্বকের ভেতরে ঢুকে চামড়ার ক্ষতি করতে পারে। খুব বেশি টাইট জামা-কাপড় না পরাই ভালো। এতে চামড়ার যে ফ্লেক্সিবিলিটি আছে সেটি নষ্ট হয়। নিজের জন্য আরামদায়ক কাপড় ব্যবহার করুন। এতে চামড়ার ওপর বাড়তি চাপটা পড়বে না।

ঘরোয়া চিকিৎসা : এই শীতে যদি আপনার ত্বক শুষ্ক হয়েই যায়, তাহলে কিছু জিনিস অনুসরণ করতে পারেন। প্রথমত, ত্বক ভালোমতো পরিষ্কার করুন। এরপর ত্বকে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করুন। এটি ত্বকের সজীবতা রক্ষা করবে এবং শীতের প্রকোপ থেকে আপনার ত্বককে বঁাচিয়ে রাখবে। ঘরে থাকা নানা জিনিস ব্যবহার করে আপনি ত্বকের যতœ নিতে পারেন। অ্যালোভেরা, নারিকেল তেল, গিøসারিন এগুলো ত্বকের যতœ বেশ কাযর্কর। তাই শীতের দিনে এগুলো নিয়মিত ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। ত্বক আপনার সৌন্দযের্র বহিপ্রর্কাশ ঘটায়। ত্বক যত সুন্দর ও সজীব থাকবে, আপনিও থাকবেন তত সুস্থ ও সুন্দর। সুতরাং ত্বকের যতœ নিন, সজীব থাকুন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে