logo
বুধবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯, ১০ মাঘ ১৪২৫

  রুমা জামান   ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণের জন্য

উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণের জন্য
উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণের জন্য সঠিক লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে ছবি : ইন্টারনেট
উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপ-আমেরিকায় যাওয়ার ইচ্ছা আছে অনেকেরই। অনস্বীকাযর্ভাবেই ওইসব দেশের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ অনেক উন্নত। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেও মাস্টাসর্ কিংবা পিএইচডি ডিগ্রি অজের্নর জন্য স্কলারশিপ মিলতে পারে। আজকের লেখায় ভারতে স্কলারশিপের সুযোগ সম্পকের্ আলোকপাত করতে চাই। এ কথা সত্য যে, ইউরোপ-আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনা চলবে না। ভারত সে অথের্ কোনো উন্নত দেশ নয়। তবে অপেক্ষাকৃতভাবে দক্ষিণ এশিয়ার গবেষণার ক্ষেত্রগুলোতে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভ‚মিকা প্রভাবশালী। আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতার রবীন্দ্রভারতীসহ ব্রিটিশ আমল থেকে প্রতিষ্ঠিত কিছু প্রতিষ্ঠান তো বাংলাদেশের প্রায় সবার কাছে পরিচিত। তা ছাড়া দেশটি উচ্চশিক্ষায় দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।

বাংলাদেশের অনেক শিক্ষাথীর্ই নিজ নিজ স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষা অজর্ন করছেন। বাংলাদেশের শিক্ষাথীের্দর মধ্যে অনেকেই মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পাওয়া বেশ কঠিন। কিন্তু বতর্মান সময়ে ধারণাটি সঠিক নয়। সঠিক পরিকল্পনাই পারে একজন শিক্ষাথীর্র উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করতে।

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভতির্প্রক্রিয়া কিছুটা দীঘের্ময়াদি। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা অজের্ন আগ্রহী একজন শিক্ষাথীর্ স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর যে কোনো পযাের্য়ই পড়তে যেতে পারে। তবে একেক পযাের্য়র জন্য প্রস্তুতি কিছুটা ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।

ভারতে স্কলারশিপের তিন ধরনের উপায় আছে। যথাÑ সাকর্ বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত সরকারের অথার্য়ন ও বেসরকারি স্কলারশিপ। সাকর্ তথা সাউথ এশিয়ান ইউনিভাসিির্টর কথাই শুরুতে বলা যাক। এটি আসলে ভারতের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নয়। এটি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সাকর্) অথার্য়নে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে। ২০১০ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষাথীর্ ভতির্ করছে। সাকর্ভুক্ত সব দেশই বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য অথার্য়ন করছে। সে হিসেবে প্রতিটি দেশের শিক্ষাথীের্দর জন্য এখানে রয়েছে নিদির্ষ্ট কোটা। বাংলাদেশি শিক্ষাথীের্দর জন্যও সাকর্ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ শতাংশ কোটা রয়েছে। কম্পিউটার সায়েন্স, আন্তজাির্তক সম্পকর্, সমাজবিজ্ঞান, গণিত, ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকস, আইনশাস্ত্র ও বায়োটেকনোলজির ওপর পিএইচডি এবং দুই বছরমেয়াদি মাস্টার ডিগ্রির জন্য বাংলাদেশি শিক্ষাথীর্রা সেখানে আবেদন করতে পারে। প্রতিবছর জুলাই মাসে নতুন শিক্ষাবষর্ শুরু হয়। প্রতিটি বিভাগের মাস্টাসের্র জন্য ৩০ জন করে শিক্ষাথীর্ ভতির্ হয় প্রতিবছর। ভতির্ ও স্কলারশিপের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় ডিসেম্বর-জানুয়ারি থেকে। ভতির্ করা শিক্ষাথীের্দর মেধার ভিত্তিতে তিন ধরনের স্কলারশিপ দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এসংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণ যে কেউ সহজেই জেনে নিতে পারবেন। উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপ-আমেরিকায় যাওয়ার ইচ্ছা আছে অনেকেরই। অনস্বীকাযর্ভাবেই ওইসব দেশের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ অনেক উন্নত। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেও মাস্টাসর্ কিংবা পিএইচডি ডিগ্রি অজের্নর জন্য স্কলারশিপ মিলতে পারে। আজকের লেখায় ভারতে স্কলারশিপের সুযোগ সম্পকের্ আলোকপাত করতে চাই। এ কথা সত্য যে, ইউরোপ-আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনা চলবে না। ভারত সে অথের্ কোনো উন্নত দেশ নয়। তবে অপেক্ষাকৃতভাবে দক্ষিণ এশিয়ার গবেষণার ক্ষেত্রগুলোতে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভ‚মিকা প্রভাবশালী। আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতার রবীন্দ্রভারতীসহ ব্রিটিশ আমল থেকে প্রতিষ্ঠিত কিছু প্রতিষ্ঠান তো বাংলাদেশের প্রায় সবার কাছে পরিচিত। তা ছাড়া দেশটি উচ্চশিক্ষায় দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।

সাধারণত ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশিদের সরাসরি কোনো স্কলারশিপ দেয় না। ভারত সরকারের অধীনে ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল স্টাডিজ (আইসিসিআর)’ বিভিন্ন দেশের শিক্ষাথীের্দর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নের জন্য স্কলারশিপ দেয়। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন প্রতিবছর বাংলাদেশি শিক্ষাথীের্দর বাছাই করে। প্রতিবছর ২০০ বাংলাদেশি শিক্ষাথীের্ক আইসিসিআরসহ বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় শিক্ষাবৃত্তি দেয়া হয়। এর আওতায় পোস্ট ডক্টরাল, পিএইচডি, মাস্টাসর্ ও স্নাতক ডিগ্রির জন্য আবেদনের সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথীের্দর জন্যও এই কোটায় শিক্ষাবৃত্তি মিলবে।

বেসরকারি স্কলারশিপ: বেসরকারিভাবে সাউথ এশিয়া ফাউন্ডেশন (সাফ) দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় প্রায় ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগে স্কলারশিপ দেয়। এর মধ্যে ভারতে তাদের চারটি প্রকল্প রয়েছে। পেশাদার সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার শিক্ষাথীর্রা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমার জন্য আবেদন করতে পারবেন চেন্নাইয়ের এশিয়ান কলেজ অব জানাির্লজমে (এসিজে)। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে দুজন শিক্ষাথীের্ক স্কলারশিপ দেয়া হয় ওই প্রোগ্রামের আওতায়। এ প্রোগ্রামটি ১০ মাসমেয়াদি। কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয় ও জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ইউনিভাসিির্ট যৌথভাবে মাস্টাসর্ ডিগ্রি দেয় ‘কাশ্মীর ও দক্ষিণ এশিয়া অধ্যয়ন’ বিষয়ে। সেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষাথীের্দর অধের্ক সময় দিল্লিতে এবং বাকি অধের্ক সময় থাকতে হয় কাশ্মীরের শ্রীনগরে। সেখানেও প্রতিবছর দুজন বাংলাদেশি শিক্ষাথীর্র সুযোগ রয়েছে। একই রকম আরেকটি দুই বছরমেয়াদি মাস্টাসর্ প্রোগ্রাম রয়েছে পন্ডিচেরি ইউনিভাসিির্টতে। সেখানেও সমানসংখ্যক শিক্ষাথীের্ক ডিগ্রি দেয়া হয় ‘আঞ্চলিক সহযোগিতা ও দক্ষিণ এশিয়া’ বিষয়ে। পন্ডিচেরি ইউনিভাসিির্টর আরেকটি বিভাগ থেকে গ্রিন এনাজির্ টেকনোলজির ওপর মাস্টাসর্ ডিগ্রির জন্যও আবেদন করতে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষাথীর্রা। সাউথ এশিয়া ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টার থেকেই এসব স্কলারশিপের বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে এসব প্রতিষ্ঠানে ভতির্র জন্য বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট হচ্ছে িি.িংড়ঁঃযধংরধভড়ঁহফধঃরড়হ.ড়ৎম. সাউথ এশিয়া ফাউন্ডেশনের অথার্য়নে পরিচালিত সব প্রতিষ্ঠানই ইউনেস্কোর গুড উইল অ্যাম্বাসাডর মদনজিৎ সিংয়ের নামে প্রতিষ্ঠিত।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা এ দেশের শিক্ষাথীের্দর জন্য নতুন নয়। বিশ্বায়নের যুগে দেশের অনেক শিক্ষাথীর্র লক্ষ্য থাকে আন্তজাির্তক খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অজর্ন করা। আর পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাই থাকে সবাির্ধক। এখানকার শিক্ষাব্যবস্থার আন্তজাির্তক খ্যাতি এবং গ্রহণযোগ্যতাই এর পেছনের অন্যতম কারণ। বিশ্বের প্রথম সারির ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় সত্তরটিই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত। কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা অথবা বিজ্ঞান সব ক্ষেত্রেই এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ সুখ্যাতি ধরে রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক পযাের্য় পড়াশোনাকে প্রচলিতভাবে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ বলা হয়ে থাকে। আন্ডার গ্র্যাজুয়েট লেভেলে ভতির্ হতে চাইলে আপনাকে বাংলাদেশে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পযাের্য় কমপক্ষে ১২ বছরের পড়াশোনা অথবা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সনদপত্র লাগবে। পাশাপাশি ইংরেজিতে দক্ষতা প্রমাণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে টোফেল অথবা আইইএলটিএস স্কোর লাগবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার অন্যতম শতর্ স্ট্যান্ডাডার্ইজড টেস্টের অংশ হিসেবে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট পযাের্য় পড়াশোনা করতে হলে ‘স্যাট’ পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় নিধাির্রত স্কোর পেতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুষদ অথবা বিষয়ভেদে বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। বৃত্তি অথবা ফান্ড পেতে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ অথবা বিভাগীয় অধ্যাপকের সঙ্গে ই-মেইলে আবেদনকারী নিজেই যোগাযোগ করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পকির্ত তথ্য, বিভাগ পছন্দ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় অফিস ও সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বতর্মান শিক্ষাথীের্দর গবেষণার ক্ষেত্র সম্পকের্ও ধারণা পেতে পারবেন ওয়েবসাইট থেকে।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ শিক্ষাথীর্ই স্নাতকোত্তর পযাের্য় পড়াশোনার জন্য বেছে নেয় যুক্তরাষ্ট্রকে। প্রায় চার হাজারের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পযাের্য় পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে। এ পযাের্য় পড়াশোনার জন্য আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনাকে আবেদন করতে হবে। এই আবেদন প্রক্রিয়ায় আপনাকে আপনার স্নাতক পযাের্য় অজির্ত সনদপত্র ছাড়াও আপনার বিভাগীয় শিক্ষকদের কাছ থেকে লেটার অব রিকমেন্ডেশন, স্টেটমেন্ট অব পারপাস জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণস্বরূপ টোফেল অথবা আইইএলটিএস স্কোর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী জিআরই অথবা জিম্যাট স্কোর জমা দিতে হবে। প্রাথমিক বাছাইয়ে আপনার আবেদন মনোনীত হলে আপনার সব সনদপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পাসের্ল করে পাঠাতে হবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে