logo
মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬

  নাসিম সাহনিক   ১২ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

সায়েন্স ফিকশন

ইমোশন

ইমোশন
শুভ : কিভাবে যোগাযোগ রক্ষা করছে। এত সিকিউরিটির মধ্যে আপনি রয়েছেন?

নূর হাচ তখন তার মাথার পেছন দিকে একটা ছোট্ট স্থান শুভকে দেখতে বলল। শুভ দেখল।

নূর হাচ : ওটা ন্যানো সাকির্ট। এটা আমার ব্রেনের কমিউনিকেশন সিস্টেমের সঙ্গে ইন্টারেক্ট করতে পারে। ওরা একটা বিশেষ ওয়েভ পাঠায়।

শুভ : যে ওয়েভ দেয়াল ভেদ করে প্রবেশ করতে পারে?

নূর হাচ : হুমম। ওদের কাছে এমন মারণাস্ত্র আছে, যা দেয়াল ভেদ করে এসে আপনাকে আহত অথবা নিহত করতে পারে।

শুভ : তাই নাকি!

নূর হাচ : হুমম। তাহলে আপনিই ভেবে দেখেন আমার নিরাপত্তা আপনি আসলেই দিতে পারবেন কি না।

শুভ : হুমম। আপনি যে আমার সঙ্গে কথা বলছেন ওরা দেখছে না?

নূর হাচ : না। ওরা শুধু আমার অবস্থান ডিটেক্ট করতে পারছে। ওরা সিগন্যাল দিলে আমাকে ন্যানো সাকির্ট চালু করতে হবে। চালু করতে দেরি হলে ওরা সতকর্ হয়ে যায়।

শুভ : হুমম। ওরা কি এ ডিভাইস দিয়ে তোমার মেমরি রিড করতে পারে?

নূর হাচ : না।

শুভ : তাহলে তো আপনাকে এ জেলে থাকাই বেশি ভালো হবে। যাই হোক, কাইন্ডলি আপনার ডিভাইসটি কিছু দিন রাখুন। কারণ আপনিই এখন শুভদের অবস্থান করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারবেন।

নূর হাচ : কিন্তু...

শুভ : কোনো কিন্তু নয়। আমি কথা দিচ্ছি আপনাকে সাহায্য করব। আপনি আমাদের অপরাধী চক্রের বিষয়ে তথ্য দিন। ওদের বতর্মান অবস্থান সম্পকের্ জানান।

নূর হাচ : আমি অবশ্যই আপনাদের সাহায্য করব কারণ আমি কোনো অপরাধী চক্রের সঙ্গে থাকতে চাই না। লোভে পরে আমি অপরাধী দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু কত কষ্ট পেতে হয় আর দুবির্ষহ পরিস্থিতিতে পড়তে হয় এ রকম চরম ভুল করলে তা আমি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। আমি অপহরণের সঙ্গে কারা মূলত জড়িত তা জানি না। তবে তিনজন রাশিয়ান আর একজন আমেরিকান আমার কাছে এসেছিল। প্রচুর অথর্ সেধেছিল। আমি প্রথমে না করলেও লোভ সামলাতে পারিনি।

শুভ : তাদের পরিচয় কী?

নূর হাচ : পরিচয় পুরোপুরি জানি না। তবে এটুকু জানি তারা নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য।

শুভ : আর ইউ স্যাড। হোয়াট ইউ টকিং অ্যাবাউট।

নূর হাচ : আমি যা বলছি তা ঠাÐা মাথাতেই বলছি। বুঝে শুনে বলছি। তারা আমাকে নিরাপত্তা পরিষদের পরিচয় দিয়েছিল। বলেছিল গোপন একটা মিশনে তারা এসেছে। পরিচয়পত্র দেখায় তারা। আমার স্পষ্ট মনে আছে তারা নিরাপত্তা পরিষদের পরিচয়পত্র দেখিয়েছিল আমাকে।

শুভ : তারা এখন কোথায়।

নূর হাচ : জানি না।

শুভ : আপনার মাথায় এই ন্যানো কমিউনিকেশন ডিভাইস কিভাবে বসাল?

নূর হাচ : আমাকে একটা জুস খাইয়েছিল ওরা। আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি ওটা খেয়ে। তারপর জেগে উঠে প্রথমে বুঝিনি। পরে আমাকে একটা মেসেজ দিয়ে ওরা বলে এটার কথা। আর বলে যে ওটা খোলার চেষ্টা করলে আমি মারা যাব।

শুভ : তাই নাকি।

নূর হাচ : হুমম। বুঝতে পারছেন আমি কতটা বিপদের মধ্যে আছি। কেন যে ওদের ফঁাদে পা দিলাম? কেন যে অথের্র লোভ সামলাতে পারলাম না?

শুভ : যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এখন আমাদের পরিণামের পথ বের করতে হবে। কেন ইমোশন রিলেটেড গবেষকদের অপহরণ করা হচ্ছে তা উদঘাটন করতে হবে। আপনাকে যারা ঘুষ দিয়েছিল নিরাপত্তা পরিষদের পরিচয় দিয়ে তাদের খঁুজে বের করতে হবে। একসঙ্গে অনেক প্রশ্ন আমার মাথায় কাজ করছে। সেগুলোর উত্তর খুব ভালোভাবে ঠাÐা মাথায় খুঁজতে হবে। এটা মিশন ইমোশনের সমাধানে কাজে লাগবে।

নূর হাচ : হুমম।

বুসান শহরে নিরাপত্তা পরিষদের ইনভেস্টিগেশন অফিসার রাফায়েল অভি। ওখানে এশিয়াটিক টাইগার হোমে থাকে রাফায়েল অভি। চতুথর্ তলার ছাদে থাকে সে। ছাদ থেকে শহরটা দেখতে ওর বেশ ভালোই লাগে। বুসানে নিরাপত্তা পরিষদের কাজের পাশাপাশি মিশন ইমোশনের সঙ্গে সংযুক্ত সে। মিশন ইমোশন নিয়েও ওকে কাজ করতে হয়। যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়। কিছু নতুন তথ্য পাওয়ায় কক্সবাজারে শুভর সঙ্গে সে যোগাযোগ করল।

অভি : কেমন আছেন।

শুভ : ভালো।

অভি : আপনাকে মিশন ইমোশন রিলেটেড একটা ফাইল পাঠিয়েছি। প্লিজ চেক।

শুভ : ওকে।

অভির বুসান শহরটা বেশ প্রিয়। কোরিয়া দ্বীপের এই সমুদ্রঘেঁষা শহরটিতে অনেকদিন হলো রয়েছে সে। বিয়ে করেছে এক কোরিয়ান মেয়েকে। রাফায়েল অভির ছবি দেখছিল শুভ। ফাইলটা খুলে অবাক হলো। উত্তেজিত হলোও বটে। লরার সঙ্গে যোগাযোগ করল শুভ।

লরা : আর ইউ শিউর?

শুভ : হুমম। নূর হাচ ওই তিনজন ব্যক্তির ছবিই আমাকে দেখিয়েছিল। মিলে গেছে।

লরা : নূর হাচ দেখিয়েছিল?

শুভ : না। নূর হাচেন মস্তিষ্কের অবচেতন স্মৃতি স্ক্যান করে ওদের ইমেজ বের করেছিল জোসেক। সেই আমার কাছে সংরক্ষিত ছিল। ওই ইমেজের সঙ্গে অভির পাঠানো ছবির তিনজন লোকের ছবি হুবহু মিলে গেছে।

লরা : হুমম।

শুভ : দেখছ তো, ছবিতে ওই তিনজন অন্য একজন লোকের সঙ্গে কথা বলছে। এই লোকটা কে? নূর হাচেন মস্তিষ্কের থেকে পাওয়া ... ওই লোকের কোনো ছবি নেই।

লরা : ঠিক আছে। দেখি ওই লোকটার পরিচয় পাওয়া যায় কিনা।

শুভ : হুমম দেখ। আর শোনো...

লরা : বলো।

শুভ : নূর হাচ বলেছিল, ওই তিনজন পরিচয় দিয়েছিল যে তারা মস্কোতে নিরাপত্তা পরিষদের পৃথিবীর হেড অফিসে কাজ করে। তারা আসলে কে এটা জানাও জরুরি।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে