logo
  • Sun, 18 Nov, 2018

  আলীজা ইভা   ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য

উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য
ফ্যাশন উদ্যোক্তা হতে হলে পোশাক বিষয়ে ভালো ধারণা থাকতে হবে
নিজের পায়ে দঁাড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ঠিক করতে হবে কী দিয়ে শুরু করবেন। কীভাবে অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এমন ব্যবসা।

ইচ্ছা এমন এক শক্তি, যা মানুষের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেয়। এ ইচ্ছার সঙ্গে হতে হবে পরিশ্রমীও। পরিশ্রমই সফলতার চাবিকাঠি। একজন মানুষের মেধা ও শ্রম তাকে সাফল্যের স্বণির্শখরে পৌঁছে দেয়।

ফ্যাশন হাউসের শোরুমে সুন্দর থ্রি-পিস, শাড়ি, চুড়ি, গয়না, শোপিস, জিন্সপ্যান্ট, টি-শাটর্ থেকে শুরু করে হাল আমলের ফ্যাশন স্কাফর্, মানিব্যাগ, ব্যাগ অনেক কিছুই বিক্রি হয়। আপনার এলাকায়ও দিতে পারেন এমন একটি শোরুম, যেখানে হাল ফ্যাশনের সব অনুষঙ্গই বিক্রি হবে একই ছাদের নিচে। তবে শুরুর দিকে অন্যান্য অনুষঙ্গের চেয়ে শুধু পোশাক বিক্রি করলেই ভালো।

নামকরণ

শোরুমের নামটাও অনেকটা ফ্যাশনেবল হওয়া চাই। কারণ নামও অনেক সময় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে। এটা নতুন করে বলার কিছু নেই। দোকানের জায়গাটা ৩০০ থেকে ৪০০ বগর্ফুটের মধ্যে হলে ভালো হয়। আর শোরুমে এসি, ট্রায়ালের জন্য আলাদা রুম, দেখার জন্য কয়েক জায়গায় আয়না এবং সুন্দর বসার ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

শুরুটা যেমন হবে

একা শুরু না করে কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব মিলে শোরুম দিলে সব দিক থেকেই সুবিধা। কারণ পোশাক সংগ্রহ, ডিজাইন পছন্দ, শোরুমে সময় দেয়া, হিসাব-নিকাশসহ অনেক কাজই করতে হয়। কমর্চারী রেখে করতে গেলে আয়ের চেয়ে খরচ বেড়ে যাবে। এরপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি নিজে ডিজাইন করা পোশাক বিক্রি করবেন, নাকি পাইকারি মাকের্ট থেকে পছন্দের পোশাক কিনে এনে বিক্রি করবেন। তবে পুঁজির অঙ্কটা যেখানে হিসাবি, সে জায়গায় নতুন চ্যালেঞ্জ না নিয়ে পাইকারি মাকেের্টর হাজারো ডিজাইন থেকে পছন্দ করে পোশাক কিনে শোরুমে সাজাতে পারেন। মেয়েদের ও শিশুদের নানা ডিজাইনের পোশাক, জিন্স প্যান্ট রেডিমেড কিনলেও টি-শাটর্, পাঞ্জাবি ও ফতুয়া নিজে ডিজাইন করে বিক্রি করতে পারেন।

যেসব পোশাক বিক্রি করবেন

দোকানে সবসময় থাকতে হবে হাল সময়ের পোশাক। বিভিন্ন উপলক্ষ, যেমনÑ ঈদ, নববষের্ রাখতে পারেন পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। এ ছাড়া বিশেষ দিবস, যেমনÑ ২১ ফেব্রæয়ারি, ২৬ মাচর্, ১৬ ডিসেম্বর, পহেলা বৈশাখ ও পহেলা ফাল্গুনÑ এসব বিশেষ দিন উপলক্ষে শোরুমে তুলতে পারেন বিভিন্ন ধরনের পোশাক। বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে দোকানে তুলতে পারেন টাঙ্গাইলের শাড়ি, বøক প্রিন্ট শাড়ি। সম্ভব হলে নিজেরা ডিজাইন পছন্দ করে বøক করিয়ে নিতে পারেন। তাহলে ব্যতিক্রম কিছু ক্রেতাদের উপহার দিতে পারবেন।

পুঁজি

দোকানের পজিশন, অ্যাডভান্স, ভাড়া স্থানভেদে ভিন্ন। এগুলো ছাড়া পোশাক কেনার জন্য পঁাচ থেকে ৬ লাখ টাকা পুঁজি হলেই চলবে। আর দোকানের সাজসজ্জায় লাগবে ২ লাখ টাকা।

যেসব কাপড় কিনতে পারেন

টি-শাটের্ হাফ কটন কাপড় বেশি চলে। এ ছাড়া পিকে পলো কাপড়ও বতর্মানে বেশ চলছে। শাটের্র কাপড় হিসেবে সুতি ও কটন বেশি বিক্রি হয়। পাঞ্জাবিতে সুতি, সিল্ক, হাফসিল্ক, অ্যান্ডি, কটন, খাদি ও তঁাত বেশি বিক্রি হয়। ফরমাল প্যান্টের কাপড়ে কটনের চাহিদা বেশি।

শুরু হোক বিক্রি

দোকান সাজানোর পর প্রতিটি পোশাকের দাম নিধার্রণটাও প্রয়োজন। এতে দর কষাকষি (নিয়ে) কোনো ঝামেলা থাকে না। এ ক্ষেত্রে টি-শাটর্ প্রতিটি ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০, হাফ ও ফুলশাটর্ প্রতিটি ৫০০ থেকে ২ হাজার, পাঞ্জাবি প্রতিটি ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকা রাখতে পারেন।

লাভটাও জানা প্রয়োজন

তৈরি পোশাক বিক্রিতে লাভ তুলনামূলক কম। আর নিজেদের বানানো পোশাকে লাভ বেশি। তৈরি প্রতিটি পোশাকে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ লাভ থাকে। আর নিজেদের বানানো পোশাকে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ লাভ থাকে।

কিছু টিপস

১. শোরুমটি এমন জায়গায় হতে হবে, যেখানে যাতায়াত সুবিধা এবং লোকসমাগম বেশি থাকে।

২. টাকা লেনদেনের জায়গায় কম্পিউটার ও রসিদের ব্যবস্থা করতে হবে। আর শোরুমের নিজের নামে শপিং ব্যাগও তৈরি করতে হবে।

৩. বিক্রি বাড়ানোর জন্য সব শ্রেণির ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পোশাক রাখতে পারেন।

৪. শোরুমে গান বাজানোর ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

৫. নিরাপত্তার জন্য গাডর্ ও সিসি ক্যামেরা রাখতে হবে।

৬. প্রতিটি ঋতুতে পোশাকের ধরন, রং, ডিজাইন পাল্টাতে হবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে