logo
  • Sun, 18 Nov, 2018

  পাবর্নী দাস   ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

তারুণ্যের জয় হোক

তারুণ্যের জয় হোক
তরুণ প্রজন্মকে ভালো আচরণ করতে হবে ছবি : ইন্টারনেট
তরুণদের মাথায় রাখতে হবে, যেন তাদের বসার ধরন ও আদব-কায়দা দেখে বাসের সবাই বুঝতে পারে তারা ভালো কোনো পরিবারের সন্তান, ভালো কোনো স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, এমনকি তারা ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে কমর্রত। পাশে বসা বা দঁাড়ানো ব্যক্তি যেন তাদের আচরণে কোনোভাবেই বিরক্ত না হন। বিশেষ করে যখন পাশের আসনটিতে কোনো পরিচিত বা অপরিচিত নারী বসেন, তখন আচরণ যথেষ্ট সংযত হওয়া উচিত। তরুণীদের আচরণও শালীন হতে হবে। একজন বয়স্ক ব্যক্তি কোনো তরুণীর পাশে বসছেন অথচ তিনি (তরুণী) অনগর্ল কোনো ছেলেবন্ধুর সঙ্গে জোরে কথা বলছেন, উচ্চৈঃস্বরে হাসছেনÑ এসব আচরণ মোটেও শোভন নয়। তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ কণর্ধার। তরুণ প্রজন্মই আগামীতে দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন করবে। তাই তরুণদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, হতে হবে দায়িত্ব ও নৈতিকতাবোধসম্পন্ন মানুষ। নারীদের যথাযথ সম্মান করতে হবে। তরুণরা যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে, মানবিক গুণে গুণান্বিত না হয়, তাহলে তারা দেশ ও দশের সেবায় কীভাবে আত্মনিয়োগ করবে? মানুষের সেবায়, অসুস্থ ও দুবের্লর সহযোগিতায় সবার আগে তরুণদেরই এগিয়ে আসতে হবে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে তরুণদের অধিকাংশ সময় বাসে চলাচল করতে হয়। বাসেও তাদের যেমন কিছু নিয়মনীতি মেনে চলা উচিত এবং অন্যদেরও মানা উচিত, তা বোঝাতে হবে। যদি রাস্তাঘাটে বা বাসে কোনো মেয়ে বিকৃত রুচির পুরুষের অশালীন আচরণের বা হীনম্মন্যতার শিকার হয়, তাহলে তরুণদের জোরালো প্রতিবাদ করতে হবে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি থেকে তরুণী বা যে কোনো নারীকে রক্ষা করতে হবে। বিকৃত রুচির পুরুষকে বোঝাতে হবেÑ নারীরা মায়ের জাত, তাদের সম্মান করতে হবে। বাসে তরুণদের কেমন আচরণ কাম্য, সেসব নিয়েই এবারের প্রতিবেদন।

একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী স্মৃতি (ছদ্মনাম) আক্ষেপের সঙ্গে জানান, প্রতিদিনের মতো তিনি ক্লাস শেষে পাবলিক বাসে বাসায় ফিরছিলেন। চালকের পেছনের সিটে এক মহিলা যাত্রীর পাশে তিনি বসেছিলেন। অতিরিক্ত একটা সিট তার এবং অন্য পাশের সিটের মাঝখানে এক পুরুষ লোক বসে এবং লোকটির পাশে একটি মেয়ে বসে। পোশাকে ভদ্র হলেও লোকটি ইচ্ছা করেই বারবার গা-ঘেঁষে বসার চেষ্টা করে। তাই তিনি তার ব্যাগটি পাশে রেখে নিজেকে সেভ করার চেষ্টা করেন। এতে লোকটি রেগে গিয়ে জোর প্রয়োগ করে ব্যাগে চাপ দিতে থাকে; যেন ব্যাগের সব জিনিসপত্র, সানগøাস ভেঙে যাবে। অনেকক্ষণ বিষয়টি পযের্বক্ষণের পর যখন লোকটির কাছে মেয়েটি জানতে চানÑ কোনো সমস্যা? তখন লোকটি অগ্নিমূতির্ হয়ে বলে, ‘মাঝখানে ব্যাগ দিয়ে রাখছেন আবার জিজ্ঞেস করছেন সমস্যা নাকি? পাবলিক বাসে উঠলে ধাক্কা খাওয়ার জন্যই উঠবেন। আমরা পুরুষ! আমরা গÐার! আমরা পুরুষ মেয়েদের ধাক্কা দেয়ার জন্যই বাসে উঠি।’ উত্তরে মেয়েটি বলেন, ‘এ জন্যই তো সমস্যা। নিজেকে পুরুষ না ভেবে মানুষ ভাবতে শেখেন।’

এতে লোকটি আরও রেগে গিয়ে মেয়েটিকে হুমকি দেয়, আরেকটা কথা বললে মুখ খারাপ করবে এবং সাবধানে যেন পথ চলে বলেও শাসায়। অনুতাপের বিষয় হলো, তারপরও বাসের কয়েকজন পুরুষ তার এ উগ্র আচরণকে সমথর্ন করে। মনে রাখতে হবে, পুরুষত্ব যেখানে সেখানে বিকৃতভাবে প্রকাশ করার জিনিস নয়। দুবের্লর ওপর অন্যায়ভাবে জাহির করে নয়। এটা হেফাজতে রাখতে হবে। এসব অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার প্রতিরোধ তরুণদেরই করতে হবে।

নারীদের নিবির্ঘœ পথচলা সুগম করতে সবার আগে তরুদেরই এগিয়ে আসতে হবে, করতে হবে সম্মানের সঙ্গে সুরক্ষা। নারীকে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্য রুখতে হবে। প্রতিহত করতে হবে অনাকাক্সিক্ষত সব ঘটনা।

* বাসে যেভাবে নারী, শিশুদের সহায়তা করবেন : পাবলিক বাসে সাধারণত কোনো নিধাির্রত আসন থাকে না। আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতেই আসন বণ্টন করা হয়। আবার নিধাির্রত আসন থাকলেও সে আসন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষের দখলে থাকে। কোনো নারী যদি কোনো পুরুষকে মহিলা আসন ছেড়ে দিতে বলেন, তখনই ঘটে যত বিপত্তি, হাজারো কথার ফুলঝুরি। তাই বাসে বসার ক্ষেত্রে তরুণদের খেয়াল রাখতে হবে তার মেয়ে বন্ধু, নারী, শিশু ও বয়স্করা যেন বসতে পারেন। নিরাপদে সামনের দিকে বসতে পারেন, কোনো বিড়ম্বনার যেন শিকার না হন।

* দূরত্ব রাখুন : পাবলিক বাসে চলাচলের সময় অন্যের সঙ্গে নিজের দূরত্ব রাখার দিকে খেয়াল রাখুন। যতই ভিড় বা চাপাচাপি হোক না কেন, অন্য কারও ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন না। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অবস্থানের দিকে খেয়াল রাখুন।

* বাসে ফ্যানের বাতাস যেভাবে ভাগাভাগি করবেন : আমরা সাধারণত পাবলিক বাসে চড়ার সময় যারা দঁাড়িয়ে থাকি, তারা কোনো একটি ফ্যানের নিচে সুযোগ পেলেই দঁাড়িয়ে যাই। আমাদের দঁাড়ানোর কারণে চারপাশে যারা বসে থাকেন, তারা আর ফ্যানের বাতাস পান না। এমনভাবে দঁাড়ানো উচিত যেন বাতাস চারপাশের যাত্রীদের শরীরেও লাগে আবার নিজের গায়েও লাগে। আরেকটি বিষয় খুব দৃষ্টিকটূ হলেও নিমর্ম বাস্তব, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পুরুষরা নারীর পাশে দঁাড়াতে আগ্রহী। বাসে যদি কোনো পুরুষ যাত্রী সিট না পান, তাহলে দেখা যায় মেয়ে যে আসনে বসা ঠিক তার পাশে দঁাড়ানোর জন্য জায়গাটি বেছে নেন।

* বাসের জানালা নিয়ে সমঝোতা : অনেক সময় পাবলিক বাসে জানালার অংশ ভাগাভাগি নিয়ে কথা কাটাকাটি করতে দেখা যায়। এমনকি অনেক সময় তা মারামারির দিকে গড়ায়। তাই বাসে সংযত আচরণ করুন, নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করার চেষ্টা করুন। জানালা যেন দুই পাশের সিটে বসা দুজনেরই কাজে আসে, সেভাবে জানালার অবস্থান ঠিক করুন। জানালা বন্ধ কিংবা সামনে এগোনোর সময় সামনে-পেছনের বসা লোকটিকে জানিয়ে নিন। তার হাত কিংবা কনুই জানালায় থাকতে পারে, আপনি হুট করে জানালা বন্ধ বা খুললে অন্যরা আহত হতে পারেন। হঠাৎ ভুলবশত যদি কাউকে ব্যথা দিয়ে ফেলেন সঙ্গে সঙ্গে অনুতপ্ত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করুন।

* বাসে ঘুমালে সতকর্ থাকুন : ক্লান্তিতে অনেকেই বাসে চোখ বন্ধ করে আরামে ঘুমিয়ে যাই। ঘুমানোর সময় যেন অন্যের ঘাড়ে আমাদের মাথা চলে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এমনভাবে বসুন, যেন মাথা সামনের সিটে হেলে থাকে কিংবা সিটের সঙ্গে এঁটে থাকে। বিশেষ করে পাশে মহিলা যাত্রী থাকলে আরও সচেতনভাবে বসুন। পারতপক্ষে ছোট যাত্রায় গাড়িতে ঘুমানো ঠিক হবে না।

* সিটে বসার সময় খেয়াল রাখুন : আমরা অনেক সময় নারী, শিশু ও সুবণর্ নাগরিকদের জন্য বরাদ্দকৃত সিটে বসে যাই। বাসে ওঠার পর খেয়াল করে সিটে বসুন। চেষ্টা করুন কখনোই অন্যদের জন্য বরাদ্দকৃত সিটে না বসতে। এতে আপনার ব্যক্তিত্বেরই প্রকাশ ঘটবে।

* ব্যাগ সামলে রাখুন : আমরা কঁাধে ব্যাগ নিয়ে যখন বাসে চলাচল করি, তখন দঁাড়িয়ে পিঠেই ব্যাগ রাখি। এ কারণে অনেকের চলাচলে সমস্যা হয়। চেষ্টা করুন পাবলিক বাসে দঁাড়ানো অবস্থায় ব্যাগ সামনের দিকে ঝুলিয়ে রাখতে।

* এসি বাসে সতকর্ থাকুন : এখন অনেক পাবলিক বাস শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। আরামের জন্য অনেকে জুতা-মোজা খুলে সিটে বসে পড়েন। জুতা-মোজায় দুগর্ন্ধ থাকলে এসি বাসে সে গন্ধ আটকে থাকে। তাই নিজেদের জুতা-মোজা যাতে অন্যদের অস্বস্তির কারণ না হয়ে দঁাড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।

* লাইন ধরে বাসে উঠুন : নারীদের বাসে উঠতে সহায়তা করুন। সবসময় চেষ্টা করুন লাইন ধরে বাসে উঠতে। যেখানে লাইন নেই, সেখানে চেষ্টা করুন ফুটপাতের একপাশে দঁাড়িয়ে লাইন তৈরি করতে। অন্যকে উৎসাহ দিন লাইনে দঁাড়িয়ে বাসে উঠতে। কেউ বাসে লাইন ধরে উঠতে না চাইলে তাকে ভদ্রভাবে ইতিবাচক উপায়ে দায়িত্ব ও কতর্ব্যবোধ সম্পকের্ জানাতে পারেন।

* আগে লোক নামতে দিন : বাসে চড়ার সময় কে নামছেন, সেদিকে খেয়াল না রেখেই উঠে যান অনেকে। খেয়াল রাখুন, কেউ বাস থেকে নামছেন কিনা। নারী যাত্রীদের নামার সুযোগ করে দিন। আগে নামতে দিন, তারপর লাইন করে গাড়িতে উঠুন। নারী ও শিশুদের আগে বাসে উঠতে দিন। বয়স্কদের দিকে খেয়াল রাখুন।

পাবলিক বাসে সবারই ভদ্র ও শালীন আচরণ করা উচিত। কথায় বলেÑ ব্যবহারেই বংশের পরিচয়। বাসে সুন্দর করে, ভদ্রভাবে বসার অভ্যাস গড়তে হবে।

ছেলেদের ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায়, অনেকেই হাত-পা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসেন, যেন বাসার ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে আছেন। দেখা যায়, তরুণটি পেছনের সিটে বসে আছেন, অথচ ময়ূরের পাখার মতো মেলা হাত সামনে বসা একজনের মাথায় লাগছে, কোনো নারীর খেঁাপায় বা চুলে বারবার টান লাগছে। তিনি খেয়াল করছেন না কিংবা করলেও পাত্তাই দিচ্ছেন না। আবার কখনো তার কনুই পাশে বসা লোকটির গায়ে জোরে লেগে গেল। তাকে একটু দুঃখিতও বলছেন না। যদি অসচেতনভাবে এমন কোনো ভুল হয়ে যায়, তাকে সঙ্গে সঙ্গে ‘দুঃখিত’ বলা ভদ্রতা। আর দ্বিতীয়বার যেন তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে সতকর্ থাকতে হবে। ভুলে গেলে হবে না, পাবলিক বাসে বসে আছেন। তাই এখানে হাত-পা মেলে বসা অশোভন।

আবার বাসে উঠেই মুঠোফোনে জোরে জোরে কথা বলার অভ্যাস অনেকের। পাবলিক বাসে চলাচলের সময় কখনোই মুঠোফোনে জোরে চিৎকার করবেন না। প্রয়োজন হলে শান্ত গলায় ধীরস্থির হয়ে কথা বলুন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে